logo

orangebd logo
জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে
জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা '১৭
মোস্তাফা জব্বার

(গত সপ্তাহ থেকে আমরা জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। সরকার বিদ্যমান নীতিমালাটিকে হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেবার ফলে এই আলোচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কলামটির শেষ ও তৃতীয় পর্ব সামনের সপ্তাহে শেষ হবে।)

দুই

১ নীতিমালার নাম : বিদ্যমান নীতিমালাটি 'জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ১৫' নামে অভিহিত হয়ে আছে। অথচ আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ২০১৩ সালে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের যে দুটি রূপকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন তাতে নীতিমালার বিষয়টিকে কেবলমাত্র তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সীমিত রাখার কোন সুযোগ নেই। আমরা যদি বিদ্যমান নীতিমালাটিকেও দেখি তবে এটি খুব সহজেই বোঝা যায় যে, এটি ও তার অংশসমূহ যথা কর্মপরিকল্পনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সীমিত নয়। বলা যেতে পারে যে জীবনের সকল ক্ষেত্রের ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টি বিদ্যমান নীতিমালাতেই কোন না কোন ভাবে বা সীমিত আকারে প্রতিফলিত হয়েছে। ফলে এই নীতিমালায় দেশটির ডিজিটাল রূপান্তরের কথাই বলা হয়েছে।

আমি মনে করছি ২০২১ সালকে বিবেচনা করলে এর নাম 'ডিজিটাল বাংলাদেশ নীতিমালা ২০১৭' হিসেবে পরিচিত করা যেতে পারতো। একইভাবে কর্ম পরিকল্পনাকে 'ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ কর্ম পরিকল্পনা' হিসেবে আখ্যায়িত করা যেতো। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী পুরো দেশটিকে কেবল ডিজিটাল বাংলাদেশের ছকেই আবদ্ধ রাখেননি। তিনি আমাদেরকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার অঙ্গীকারে সম্পৃক্ত করেছেন। তার মতে ২০৪১ সালে বাংলাদেশ কেবল একটি উন্নত দেশ হবে না একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তরিত হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রত্যয়কে বিবেচনায় নিয়ে আমরা কি ৪১ সালের কথা ভাবতে পারি না?

২০৪১ সালের প্রেক্ষিত বিবেচনা করা হলে একে 'জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ নীতিমালা ১৭' হিসেবে এবং কর্মপরিকল্পনাকে 'জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ কর্ম পরিকল্পনা ১৭' হিসেবে অভিহিত করা যায়। তবে এই নীতিমালাটিকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ২০১৭ নামেও আখ্যায়িত করা যায়। এবার যখন নীতিমালাটির পরিপূর্ণ পর্যালোচনা করতে হবে বা একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তুত করতে হবে তখন ভাবতে হবে যে, আমাদের প্রস্তাবিত নীতিমালাটি হবে বিদ্যমান নীতিমালার উত্তরসূরি। কার্যত এই দলিলটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলে তার পরের স্তর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের একটি রূপরেখা হিসেবে কাজ করবে।

শুরুতেই এই কথাটি বলে নিতে চাই যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণের পূর্ববর্তী স্তর। আমরা আমাদের দেশটির ডিজিটাল রূপান্তর করার লক্ষ্য স্থির করেছি ২১ সালে। বাস্তবতা হচ্ছে ২১ সালে দেশটির সাধারণ ডিজিটাল রূপান্তর হলেও এর পূর্ণাঙ্গ রূপান্তর হতে আরও বেশি সময় লাগবে। আর সেই রূপান্তরের মধ্য দিয়েই একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠবে। তার জন্য অতি জরুরি হবে একটি সৃজনশীল সমাজ এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা তথ্যপ্রযুক্তিকে ডিজিটাল রূপান্তরের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলবো সেই প্রত্যাশা করি।

প্রশ্ন হতে পারে ১৭ সালে দাড়িয়ে আমরা কি ২৪ বছর পরের কথা ভাবতে পারি? এর জবাব হচ্ছে আমরা কেবল পারি না, আমাদেরকে সেটি পারতে হবে। সরকার ২১০০ সালের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বা বদ্বীপ পরিকল্পনা করলে আমরা ৪১ সালের নীতিমালা কেন করতে পারব না। বস্তুত আমাদের সরকার যদি সামনের ৫০, ৭৫ ও ১০০ বছরের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা করতে পারে তবে আমরা ৪১ সালের স্বপ্নটার নীতিমালা তৈরি করতে কেন পারবো না?

আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালে একদিকে উন্নত দেশ গড়ার কথা বলেছেন, অন্যদিকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন। আমাদের ২০২১ সালের রূপকল্প ৪১ সালে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে উন্নীত হবে। আমি প্রস্তাব করছি এই নীতিমালার নাম হবে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা ১৭।

নীতিমালার কাঠামোগত বিষয়গুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ এখানে তুলে ধরা দরকার। আমি নীতিমালার বিষয়গুলো হুবহু রূপটি তুলে না ধরলেও এর কোন অংশগুলো কি হওয়া উচিত সেটি অবশ্যই আলোচনা করতে পারি।

২ প্রস্তাবনা: নীতিমালার ক নামক এই অংশটি বস্তুত মুখবন্ধ। কেন নীতিমালাটি তৈরি হলো তার পূর্বকথা এই অনুচ্ছেদে বর্ণনা করা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদের পুরো বক্তব্য নতুন করে প্রস্তুত করা দরকার। যেহেতু নীতিমালার পরিধি বিস্তৃত হয়েছে এবং আমাদের ২০২১ ও ২০৪১ এর লক্ষ্য সামনে রয়েছে এবং যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষিত অনেক বদলানো সেহেতু আমাদের ধারণাও অনেক বদলে গেছে। ৪১ সালের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও উন্নত দেশের স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে পুরো অনুচ্ছেদটি নতুন করে লিখতে হবে। প্রস্তাবনায় নীতিমালা প্রণয়নের ইতিহাসও থাকা উচিত। পরিশিষ্টে নীতিমালা প্রনয়ণের জন্য গঠিত আগের একাধিক কমিটির বিবরণ থাকা বাঞ্ছনীয়। এবার যদি কোন কমিটি হয় তবে সেটিও পরিশিষ্টে থাকা প্রয়োজন। ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভার সিদ্ধান্ত ও ৭ জুন ১৭ এর কর্মশালার সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ এর প্রনয়ণের পুরো বিবরণই এতে থাকা উচিত। এমনকি ৯৭ সালের জেআরসি কমিটি, তার গঠন ও সুপারিশ এবং ২০০৩ সালে যে একটি অসম্পূর্ণ নীতিমালা প্রণীত হয়েছিলো সেটিও নীতিমালায় উল্লেখ থাকা দরকার। আমি এসব তথ্য পরিশিষ্টে থাকার প্রস্তাব করছি। পরিশিষ্টটা সমৃদ্ধ হলে নীতিমালাটিও সমৃদ্ধ হবে।

৩ যৌক্তিক ভিত্তি: নীতিমালার ক১ নামক এই অংশটিতে নীতিমালার যৌক্তিক ভিত্তি হিসেবে আমাদের সংবিধানের ১৯ নং অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা রয়েছে। আমি মনে করি সেই অংশটি যথাযথ রেখে এর পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ ও রূপকল্প ২০২১ এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ঘোষণা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রেক্ষিতগুলোর উল্লেখ করতে হবে। নীতিমালার এই অংশটি পাঠ করলে মনে হতে পারে যে, আমরা ১৮৭০ সালে শুরু হওয়া ইলেকট্রনিক যুগে আছি। বস্তুত আমাদেরকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও ডিজিটাল যুগের প্রেক্ষিত তুলে ধরতে হবে। এতে উপস্থাপিত তথ্যগুলো খুব সঙ্গতকারণেই পুরানো হয়ে গেছে। এই তথ্যগুলো হালনাগাদ করার পাশাপাশি সারা দুনিয়ার চিত্রটি উপাত্ত আকারে, রেখা-চিত্র ইত্যাদি আকারে পরিবেশন করা দরকার। বিশেষ করে সারা দুনিয়ার যেসব দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার পর ডিজিটাল রূপান্তরের ঘোষণা দিয়েছে তারও উল্লেখ করা প্রয়োজন। আমি ব্রিটেন, ভারত, মালদ্বীপ, চিলি ইত্যাদি দেশের কথা উল্লেখ করতে পারি। সেইসব দেশের রূপান্তর, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আমাদের এই নীতিমালার যৌক্তিক ভিত্তির অন্যতম প্রেক্ষিত হতে পারে। লক্ষ্য করা যাবে যে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম এর মতো সংস্থাও যখন দুনিয়ায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব অনুভব করছে আমরা তখন সেটিও উপলব্ধি করছিনা।

৪ বর্তমান প্রেক্ষিত ও প্রবণতা: বস্তুতপক্ষে যৌক্তিক ভিত্তির কথা বলার পর বর্তমান প্রেক্ষিত ও প্রবণতার বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করার প্রয়োজন পড়বে না। আমি দেখেছি যে বিদ্যমান নীতিমালার ক২ নামক এই অংশটি বাংলাদেশের তৎকালীন ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। তবে এতে বাংলাদেশ ও বিশ্বের ডিজিটাল রূপান্তর বা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বা অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রবণতার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়নি। খুব সঙ্গত কারণেই নীতিমালার এই অংশটি পুরনো ও অসম্পূর্ণ তথ্যে পরিপূর্ণ। প্রথমত এসব তথ্য হালনাগাদ থাকা উচিত। সর্বশেষ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উপাত্ত ও প্রবণতা এতে উপস্থাপন করতে হবে। অন্যদিকে যে প্রেক্ষিতের কথা আলোচনায় রয়েছে তাকে বর্তমানের পাশাপাশি ২০২১ ও ২০৪১ সালের প্রবণতার দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। যৌক্তিক ভিত্তির সাথে বর্তমান প্রেক্ষিত ও ভবিষ্যৎ প্রবণতাকে একীভূত করা যায়।

৫ কাঠামো ও অনুসৃত নীতি: ক৩ অনুচ্ছেদটি নীতিমালার কাঠামো ও অনুসৃত নীতি নিয়ে গঠিত হয়েছে। এতে একটি রূপকল্প, ১০টি উদ্দেশ্য, ৫৪টি কৌশলগত বিষয় এবং ২৩৫টি করণীয় দিয়ে যে নীতিমালার কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে তার কথা বলা হয়েছে। এই অনুচ্ছেদেই কর্ম পরিকল্পনার স্বল্প-মধ্য ও দীর্ঘ্য মেয়াদের কথাও বলা হয়েছে।

আমি মনে করি এই নীতি ও কাঠামোটিকে হালনাগাদ ও নীতিমালার রূপকল্পকে যথোপযুক্তভাবে তুলে ধরতে হবে। কর্মপরিকল্পনার বিষয়গুলোকেও ৪১ সালের উপযোগী করতে হবে।

শুরুতেই কর্মপরিকল্পনার মেয়াদের কথা বলা যায়। সেমিনারে আমি প্রস্তাব করেছিলাম যে এই নীতিমালায় স্বল্পমেয়াদ বলতে এখন ২০১৮ সালকে ধরা উচিত। এই সময়ে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। মধ্যমেয়াদি হওয়া উচিত ২০২৪ এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে ২০৪১। স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় বর্তমান সরকারের সময়কালকে বিবেচনা করতে হবে। মধ্য মেয়াদে পরের সরকারের সময় ও দীর্ঘমেয়াদে পরের সময়টাকে চিহ্নিত করতে হবে। এর মানে দাঁড়াবে কর্মপরিকল্পনার তিনটি স্তরকে সুষ্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে কোন কাজ কোন মন্ত্রণালয়, কোন বিভাগ, অধিদপ্তর বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা এনজিও করবে তা উল্লেখ করতে হবে। এর ওপর আলোচনা করতে গিয়ে আনীর চৌধুরী তিনটির বদলে চারটি মেয়াদ বিভাজন করার জন্য প্রস্তাব করেছেন। এই চারটি মেয়াদ হচ্ছে স্বল্প, মধ্য দীর্ঘ ও অতি দীর্ঘ। তিনি স্বল্প মেয়াদ হিসেবে ২০২১, মধ্য মেয়াদ হিসেবে ২০২৫, দীর্ঘ মেয়াদ হিসেবে ২০৩১ এবং অতি দীর্ঘমেয়াদ হিসেবে ২০৪১ এর কথা উল্লেখ করেছেন। আমি তার সাথে একমত।

এই অনুচ্ছেদে রূপকল্প উদ্দেশ্য, কৌশলগত বিষয় ও কর্মপরিকল্পনার সংজ্ঞাও দেয়া আছে। এর মাঝে রূপকল্পের সংজ্ঞাটি বদলাতে হবে। এখানে স্পষ্ট করে বলতে হবে রূপকল্প বলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা বোঝাবে।

বাকি সংজ্ঞাগুলোর ভাষা পরিমার্জন করতে হবে এবং রূপকল্পের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করতে হবে। এখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ এর সংজ্ঞাও সংক্ষেপে দেয়া যেতে পারে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সংজ্ঞা প্রদান এখানে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে হবে। (আগামী পর্বে সমাপ্য)

[লেখক : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক]

mustafajabbar@gmail.com

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close