logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
স্মরণসভায় বক্তারা
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ায় সোচ্চার ছিলেন
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে হারানো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে নাগরিক স্মরণসভায় আগত তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা বলেছেন, তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্যই ছিলেন না, তিনি নিজেই একটি ইনস্টিটিউট। আমরা চাইলেও তার শূন্যস্থান পূরণ করতে পারব না। গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত স্মরণ নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে স্মরণসভায় তার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহযোদ্ধা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, স্বাধীনতার পর আমি পার্লামেন্টে এসেছিলাম বরিশাল থেকে আর সুরঞ্জিত এসেছিলেন সিলেট থেকে। আমাদের মধ্যে একটা পার্থক্য ছিল, আমি ছিলাম আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আর তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র। সেই সময় স্বতন্ত্র থেকে পাস করে আসা খুব একটা সহজ ছিল না। তারপরও পার্লামেন্টে তার ভূমিকা ছিল সব সময় অন্যদের থেকে আলাদা। অনেক সময় দেখা গেছে, তিনি বঙ্গবন্ধুরও বিরোধিতা করতেন। তাতে কিন্তু বঙ্গবন্ধু মনঃক্ষুণ্ন হতেন না। সব সময় কাছে ডেকে তার কথা শুনতেন। তিনি বলেন, ন্যাপ থেকে তিনি এসেছিলেন। কিন্তু আমাদের আদর্শিক জায়গা ছিল এক। আমরা যেমন অসাম্প্রদায়িক উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতাম, তিনিও তাই। তাকে হারিয়ে আজ আমরা দিশাহারা। পার্লামেন্টে তার শূন্যতা আজ আমরা অনুভব করছি। চাইলেই তার মতো একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান আমরা পাব না।

আমির হোসেন আমু বলেন, '৭২-এর সংবিধান ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা। সুযোগ থাকলেও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে আমরা বাদ দিতে পারিনি। সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি একক সিদ্ধান্তে ইসলামকে বাদ দিতে প্রস্তুত ছিলেন। আমরা অনেক কষ্টে বুঝিয়ে তাকে রাজি করাই। কো-চেয়ারম্যান হলেও প্রকৃত অর্থে তিনিই ছিলেন চেয়ারম্যান; কেননা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী অসুস্থ থাকায় সবকিছু তাকেই দেখতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা আরও বলেন, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যখন গ্রেনেড হামলা হলো, আমি আর সুরঞ্জিত ট্রাকের কাছেই ছিলাম। দু'জনই আহত হয়েছিলাম। আজ তার না থাকার দিনে তাকে আরও বেশি মনে পড়ছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে তিনি সব সময় সোচ্চার ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের দিনগুলো স্মরণ করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, আমরা স্বাধীনতার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি করেছি। স্বাধীনতার পর একসঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি। তার মতো জ্ঞানী লোক আমি খুব কম দেখেছি। পার্লামেন্টের অধিবেশন থাকলে আগের রাতে তার বাসায় চলে যেতাম। আগামীতে কি হতে পারে এবং কি আলোচনা করা উচিত আমরা আলোচনার মধ্য দিয়ে আগেই ঠিক করে রাখতাম।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.