logo

orangebd logo
আরব্য রজনীর দেশে রবীন্দ্রনাথ
নীতিন রায়

আমি সকালে পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত ওঠে ধ্বনিআমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনি_ঐকতান : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর১৯১৩ সালের ১৩ ই নভেম্বর শীতার্ত সকালে রবীন্দ্রনাথের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির খবর শান্তিনিকেতনে এসে পেঁৗছে এবং এই আনন্দময় সংবাদটি দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। আগের দিন স্টকহল্ম থেকে রয়টার কর্তৃক সুইডিশ একাডেমির এই সিদ্ধান্ত পরিবেশিত হওয়ার সংগে সংগে সমগ্র বিশ্বের বিদগ্ধ পাঠক মহলে এক বিপুল আলোড়নের সৃষ্টি হয়। কারণ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে ইউরোপ মহাদেশের বাইরে রবীন্দ্রনাথই প্রথম এশীয় কবি, যিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।রবীন্দ্রনাথের এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা অন্যদের মতো আরবি সাহিত্যানুরাগী মহলেও প্রবল আগ্রহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। মিশর, লেবানন, ইরাক, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের পত্র-পত্রিকায় সংবাদটি ঐকান্তিক উৎসাহে সমপ্রচারিত হয়। মিশরের দৈনিক আল-আহরাম, আল-হিলাল, সওত আল-শার্ক, আল-মুকতাতাফ্, আল-জিনান প্রভৃতি পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে সপ্রশংস নিবন্ধ প্রকাশিত হয়।পরবর্তীতে ওয়াদি আল-বুস্তানি, লেবাননের একজন খ্যাতনামা কবি ও লেখক, যিনি পার্সি থেকে আরবিতে উমর খৈয়াম রচিত 'রুবাইয়াত'-এর অনুবাদক, তিনি কবিগুরুর সাক্ষাৎলাভের উদ্দেশ্যে কোলকাতা পরিভ্রমণ করেন এবং দু'দিনের জন্য রবীন্দ্রনাথের আতিথ্য গ্রহণ করেন। আল-বুস্তানি সম্ভবত প্রথম আরবি সাহিত্যিক, যিনি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির পর রবীন্দ্রনাথের সংগে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেন। ইংরেজি ভাষায় অনূদিত 'গীতাঞ্জলি' পাঠ করার পর তিনি আল-হিলাল পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে একটি সুললিত প্রবন্ধ রচনা করেন। রবীন্দ্রনাথের আতিথ্য, সাহচর্য, সহমর্মিতা ও জ্ঞানগর্ভ কথোপকথনে তিনি এতই মুগ্ধ হন যে, কথা প্রসংগে রবীন্দ্রনাথকে মর্তের দেবদূত হিসেবে অভিহিত করেন। পরবর্তীকালে আল-বুস্তানি 'গীতাঞ্জলি' ও 'চিত্রা'সহ চারটি গ্রন্থের অনুবাদ কবিগুরুকে উপহার দেন।রবীন্দ্রনাথ দুইবার মিশর পরিভ্রমণ করেন। প্রথম ১৮৭৮ সালে সতেরো বছর বয়সে। দ্বিতীয়বার ১৯২৬ সালে একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ কবি ও দার্শনিক হিসেবে। ২৭ নভেম্বর ১৯২৬ মিশরের রাজধানী কায়রো পেঁৗছালে বাদশাহ ফুয়াদ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। আরবীয় সংগীত ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে কবিগুরুকে অভিনন্দিত করা হয়। এই সফরকালে আলেকজান্দ্রিয়ায় আল-হামরা অপেরা মঞ্চে রবীন্দ্রনাথকে সাদর গণ-সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। সেখানে উপস্থিত সুধিবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি সকল জীবে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব সম্পর্কে বক্তব্য প্রদান করেন। সফরকালে কায়রোর হাদিকা আল-উজবুকিয়া অপেরা মঞ্চে আরেকটি সুধি সমাবেশে রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য ও প্রতীচ্য দর্শনের পার্থক্য ও সম্মিলন বিষয়ে বক্তৃতা দেন, যা আরবের বিদ্যোৎসাহী মহলে অকুণ্ঠ প্রশংসা লাভ করে। মিশরের আল-বালাগ এবং আল-আহ্রামসহ আরবের অন্যান্য পত্রিকার সাংবাদিকগণ রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেন।তৎকালীন ভারতবর্ষের ন্যায় মিশরও সুদীর্ঘকাল বৃটিশ শাসনাধীন ছিল। উপনিবেশবিরোধী মিশরীয়দের কাছে রবীন্দ্রনাথের রচনাবলী মনুষ্যত্ব, দেশপ্রেম, বিশ্বশান্তি ও সমপ্রীতির অমোঘ বাণী হিসেবে নন্দিত ও আদৃত হয়েছে। তাঁর বিখ্যাত গীতিকবিতা_ "যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে"_ নীলনদের অববাহিকায় মিশরের মুক্তিকামী মানুষের কাছে উজ্জীবনী সংগীতের ভূমিকা পালন করেছে।আরবের স্বনামধন্য কবি ও নাট্যকারআহমেদ শাওকি, যিনি মিশরের বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং বৃটিশ শাসকের নির্দেশে স্পেনে নির্বাসিত জীবন যাপন করেন, ১৯২৬ সালে মিশর ভ্রমণকালে তিনি গিজায় অবস্থিত তার নিজ বাসগৃহে রবীন্দ্রনাথকে সাদর অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন। উপস্থিত গুণীজন সমাবেশে কবিগুরুকে বিপুলভাবে অভিনন্দিত করা হয়।রবীন্দ্রনাথের ন্যায় আহমেদ শাওকিও তাঁর দেশবাসীর জন্য প্রেরণাদায়ী অনেক কাব্য-গান রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের সাথে আহমেদ শাওকির নিবিড় সখ্য ও সানি্নধ্য মিশরের সাধারণ মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতিকে আরও ঘনিষ্ঠ করেছে।মহিউদ্দিন আল-খতিব রচিত 'টাঘুর' নামক গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের বাল্যকাল, পারিবারিক ঐতিহ্য, দেশপ্রেম, ঔদার্য, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-ভাষা নির্বিশেষে বিশ্বের সকল মানুষের মধ্যে সদ্ভাব, সমপ্রীতি, সহ-অবস্থান ও সহযোগিতার বাণী সবিশেষ আলোচিত হয়েছে। অন্যান্য আরবি অনুবাদকের মতো আল-খতিব গীতাঞ্জলিসহ রবীন্দ্রনাথের রচনাবলি সম্পর্কে সপ্রশংস অভিমত ব্যক্ত করেছেন।শুধু 'গীতাঞ্জলি' নয়, রবীন্দ্রনাথের বহুমাত্রিক প্রতিভায় মুগ্ধ অনেক আরবীয় কবি, সাহিত্যিক ও সমালোচক কর্তৃক তাঁর কাব্য, নাটক, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণ কাহিনী এবং স্মৃতিকথা, বলতে গেলে প্রায় সব লেখাই এখন আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এমনকি সেই সব অনূদিত গ্রন্থের একাধিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, তানিয়াস আবদাদাহ্ 'ঘরে বাইরে', মাহমুদ আল-মনজুরি আল-আফিন্দি 'চিত্রা' এবং আজমি আল-দাওয়ারি আফিন্দি 'সাধনা' অনুবাদ করেছেন। অন্যান্য আরবীয় লেখক যাঁরা রবীন্দ্রনাথের রচনাবলি অনুবাদ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাজিম নাজিম ফাদিল, আদনান্ বাগ্জাতি, মিশাল উবরি, সুহাইলা আল-হুসাইনি, মূসা আল-খুরি ও নাজিব জাবি। আবদর রহমান সিদ্কি রবীন্দ্রনাথের পাঁচটি নাটক অনুবাদ করেছেন। মিশেল উবরি অনূদিত রবীন্দ্রনাথের 'দ্য রিলিজিয়ন অব ম্যান' আরবের বিদ্যোৎসাহী মহলে উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। 'গীতাঞ্জলি'র একটি চমৎকার অনুবাদ করেছেন লিবিয়ার খলিফা মোহামেদ আল-তিলিসি। বিদ্ধজ্জনের অভিমত কবিগুরুর প্রাচ্য ভাবনা তথা ভক্তিবাদী মরমি ভাবনা দর্শন এবং এর মূল সুর ও প্রকৃত ঐশ্বর্য এই অনুবাদে অক্ষুণ্ন রয়েছে।হতাশা, বিভেদ, বৈষম্য ও অন্যায়কে রবীন্দ্রনাথ কখনও প্রশ্রয় দেননি বরং সকল মানুষের জন্য মানবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ, সৌহার্দ্য ও আশার বাণী উচ্চারণ করেছেন। তিনি উপলদ্ধি করেছিলেন অন্ধকার ও অজ্ঞতা সব সভ্যতার মধ্যে আছে, প্রয়োজন হচ্ছে সংঘাত ও সংঘর্ষ এড়িয়ে সংলাপ ও ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় সভ্যতার পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে রবীন্দ্রনাথ দেশে-বিদেশে অনেক বক্তৃতা দিয়েছেন। তাঁর বিশ্ব পর্যটনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দেশগুলিকে প্রত্যক্ষ জানা এবং বোঝা। এজন্যেই রবীন্দ্রনাথ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইওরোপ ছাড়াও জাপান, চীন, জাভা, সিংহল, মধ্যপ্রাচ্য তথা মিশর, ইরান, ইরাক, আফগানিস্তান এমনকি ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলি পরিভ্রমণ করেন।পারস্য অধিপতি রেজা শাহ পাহলভির রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে মাসাধিক কাল ইরান সফর শেষে রবীন্দ্রনাথ ইরাকে এসে পেঁৗছালে ১৯৩২ সালের ১৮ই মে বাগদাদে তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। তিনি ইরাকের রাজা আল-মালিক ফয়সল আথ-থানির সংগে সাক্ষাৎ করেন। এই সফরকালে রবীন্দ্রনাথ বেদুইনদের আমন্ত্রণে মরুভূমির তাঁবুতে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশগ্রহণ করেন। আরবের মরুভূমিতে বসবাসরত বেদুইনদের মুক্ত স্বাধীন নিরলস জীবন যাপন তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। তাই হয়তো বাঙালি জীবনের কুসংস্কার, সংকীর্ণতা, অলসতা, গতানুগতিকতা ও ক্ষুদ্রতা পেরিয়ে উদ্দাম ও বৈচিত্র্যময় জীবনের ব্যাকুলতা প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা 'দুরন্ত আশা'য়_ইহার চেয়ে হতেম যদিআরব বেদুইন,চরণতলে বিশাল মরুদিগন্তে বিলীন।ছুটেছে ঘোড়া, উড়েছে বালি,জীবন স্রোত আকাশে ঢালিহৃদয় তলে বহ্নি জ্বালিচলেছি নিশিদিন।পৃথিবীর বহু দেশে রবীন্দ্রনাথের জন্মশতবার্ষিকী ও সার্ধশত জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। ভারত ও রাশিয়াসহ প্রায় কুড়িটি দেশে বিশেষ ডাকটিকিট মুদ্রিত হয়েছে তাঁর জন্ম দিবসকে প্রাতঃস্মরণীয় করে রাখার জন্য। সার্ধশত জন্মদিন উপলক্ষে মিশরের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কায়রোর 'দ্য হাউস অব পোয়েট্রি' মিলনায়তনে কবিগুরুর প্রতিকৃতি উম্মোচন করেন। কাব্য শিল্পের নিয়মিত চর্চা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এই মিলনায়তনে সাপ্তাহিক কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়। আরবের বহু খ্যাতনামা কবি ও সাহিত্যানুরাগী এই আসরে অংশগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথই প্রথম কবি যাঁর প্রতিকৃতি এই মিলনায়তনে শোভিত হয়েছে। শুধু রাজধানী কায়রো নয়, আলেকজান্দ্রিয়া, ইসমাইলিয়াসহ মিশরের অন্যান্য শহরেও রবীন্দ্রনাথের জন্ম সার্ধ শতবর্ষ অত্যন্ত গুরুত্বের সংগে উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষে কায়রোর 'দ্য মওলানা আজাদ কালচারাল সেন্টার'-এ দুটি মনোজ্ঞ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। একটি রবীন্দ্রনাথের ছবি সংবলিত ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও অন্যটি নকশিকাঁথা প্রদর্শনী। নকশিকাঁথায় সুচিত্রিত হয়েছে তাঁর জীবন ও বহু মননশীল কাব্য, গল্প, উপন্যাস, নৃত্যনাট্যের আবহ ও নানা চরিত্রের প্রতিচ্ছবি।রবীন্দ্রনাথ একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, ছোট গল্পকার, প্রবন্ধকার, নাট্যকার, পত্রলখক, ভ্রমণ কাহিনী রচয়িতা, নাট্যাভিনেতা, সংগীত রচয়িতা, সুরকার, সংগীত শিল্পী, শিক্ষক ও চিত্রকর ছিলেন। এত অসামান্য গুণসম্পন্ন সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত আর কেউ আছেন কিনা জানি না । স্বীয় জন্মভূমি অতিক্রম করে আজ রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সৃষ্টিসম্ভার বিশ্বের অগণিত মানুষের জ্ঞান, আনন্দ ও অনুপ্রেরণার উৎসে পরিণত হয়েছে।'১৪০০ সাল' কবিতায় পাঠকদের উদ্দেশ্যে কবি যে অপরিসীম প্রত্যয়ে নিবিড় ও অন্তরঙ্গ ভাষায় স্বগতোক্তি করেছিলেন_'আজি হতে শতবর্ষ পরেকে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানিকৌতূহল ভরে_'কবিগুরুর সেই অভীপ্সা পরিপূর্ণ হয়েছে। কেবল শতবর্ষ নয়, সার্ধশতবর্ষ পরেও তাঁর কবিতা ও অন্যান্য রচনাবলি পরম আগ্রহ, কৌতূহল আর ভালবাসা নিয়ে পড়ছে দেশে-বিদেশের অগণ্য কবিতাপ্রেমী ও সাহিত্যামোদী মানুষ।তথ্যসূত্রটেগোর ইন দ্য ল্যান্ড অব এ্যারাবিয়ান নাইট্স, অধ্যাপক বি. রহমান, আরবী ও পারসী বিভাগ, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।আহমেদ শাওকি : ফেমাস অ্যারাব পোয়েট এ্যান্ড প্লেরাইট-আজিজিয়া ইন 'লিটারেচার'।রবীন্দ্রনাথ টেগোর ইমর্টালাইজড ইন ফিলাটেলিক্স এন্ড এমব্রয়ডারি, সঙ্গলিতা সোম।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close