logo

orangebd logo
আটষট্টি বছরে কোথায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ
মোহাম্মদ শাহজাহান

২৩ জুন ২০১৭ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৬৮ বছর পূর্ণ হবে। আওয়ামী লীগের ইতিহাস_ বাংলাদেশের ইতিহাস এবং বাংলাদেশের ইতিহাস_ শেখ মুজিবের ইতিহাস। আর এজন্যই বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব একে অপরের পরিপূরক। এটা এখন সুস্পষ্ট যে মুজিব রাজনীতির মূল লক্ষ্যই ছিল পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন করা। সেই লক্ষ্যেই তিনি জে. আইয়ুবের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ৬ দফা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানি সামরিক চক্রের কামান-বন্দুক-মেশিনগানের হুমকি সত্ত্বেও একাত্তরের ৭ মার্চ ঘোষণা করেছিলেন এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। পাকিস্তানি চিন্তাবিদ জেনারেল মতিন উদ্দিন তার গ্রন্থে লিখেছেন, মূলত ৭ মার্চই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়।' মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও ২৫ মার্চ রাতে স্বাধীনতা ঘোষণার পর তিনি গ্রেফতার বরণ করেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান বলেছেন, 'বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলনের ২৬ দিনেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়।' রেহমান সোবহান লিখেছেন, ২৫ মার্চ বিকেলে পাকিস্তানি সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ তারিক আলী খানের পিতা মাজহার আলী খানকে নিয়ে ৩২ নম্বরে যান।' শেখ মুজিব বলেন, 'ইয়াহিয়া গণহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হয়তো আমাকেও হত্যা করবে। আমার কবরের ওপর স্বাধীন বাংলাদেশ জন্ম নেবে।'

১৯৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ছিলেন শেখ মুজিব। আর ১৯৮১ থেকে ৩৮ বছর ধরে নেতৃত্বে রয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। ২০০৯ থেকে প্রায় ৯ বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। তার আমলেই ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, একাত্তরের ঘাতকদের বিচার ও ফাঁসির দ- কার্যকর, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ বিস্ময়করভাবে উন্নতি লাভ করেছে। কিন্তু সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে আওয়ামী লীগ।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনের বশির সাহেবের বাড়ির গোলাপ বাগানে (রোজ গার্ডেন) গঠিত দলের প্রথম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন যথাক্রমে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও শামসুল হক। জেল থেকে দলের প্রথম যুগ্ম সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর রহমান। আর দুই নম্বর যুগ্ম সম্পাদক হন খোন্দকার মোশতাক আহমদ।

১৯৫৩ সালে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে দলীয় কাউন্সিলে শেখ মুজিব দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের কাছে মুসলিম লীগ ধরাশায়ী হয়। ১৯৫৫ সালে দ্বিতীয় কাউন্সিলে মুজিব পুনরায় সাধারণ সম্পাদক হন। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী শেখ মুজিব ও আরো কতিপয় নেতার তৎপরতায় ১৯৫৬ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে আদর্শগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দলে উন্নীত করা হয়। ১৯৫৭ সালে বিদেশ থেকে নীতি নিয়ে মতভেদের কারণে টাঙ্গাইলের কাগমারি সম্মেলন থেকে মওলানা ভাসানী তার সমর্থকদের নিয়ে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠন করেন। দমে গেলেন না তরুণ শেখ মুজিব। দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মওলানা ভাসানীর মতো একজন জাঁদরেল নেতা তার সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে দল ছেড়ে যাওয়ার পর শেখ মুজিবই দলের হাল ধরেন। মাত্র ২-৩ বছরে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগকে পূর্ব বাংলার জনগণের একটি প্রিয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত করেন। দলীয় কাউন্সিলে শেখ মুজিব সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলীয় সম্মেলনে শেখ মুজিব জাতির সামনে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

৬ দফা দেয়ার পর আইয়ুব-মোনায়েম চক্র অস্ত্রের ভাষায় হুমকি দেন। শুরু হয় গ্রেফতার-হয়রানি-নির্যাতন। দলের নেতাদের নিয়ে শেখ মুজিব ২-৩ মাসে ৬ দফাকে জনগণের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় করে তোলেন। '৬৬ সালের ৮ মে নারায়ণগঞ্জে ঐতিহাসিক জনসভার পর দিবাগত রাতে শেখ মুজিব, তাজউদ্দীনসহ দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে ৭ জুন পূর্ব বাংলায় হরতাল আহ্বান করে আওয়ামী লীগ। সামরিক চক্রের কঠোর দুঃশাসনের মধ্যেও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টঙ্গীসহ পূর্ব বাংলার বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালিত হয়। সরকারি হিসাবে হরতাল চলাকালে শ্রমিক নেতা মনু মিয়াসহ ১১ জন নিহত হন পুলিশের গুলিতে।

আইয়ুব-মোনায়েম চক্র বুঝে গেল, মুজিব জীবিত থাকলে এক সময় ওরা কলার খোসার মতো অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে। শুরু হলো মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্র। ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে প্রধান আসামি করে ৩৫ জন বাঙালি সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা রুজু করা হয়। ১৭ জানুয়ারি শেখ মুজিবকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে পুনরায় জেল গেটেই গ্রেফতার করে তাকে সেনানিবাসে আটক করা হলো। শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী ৬৬ সাল থেকে ৩ বছরের বেশি সময় বিনা বিচারে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক থাকলে দেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সরকারের জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে আটষট্টির শেষ দিকে শুরু হয় ছাত্র আন্দোলন।

অবশেষে ছাত্র আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। স্বৈরসরকারের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান প্যারোলে মুজিবকে মুক্তি দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। বেঁকে বসেন মুজিব। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-গণআন্দোলনের প্রবল চাপে ১৯৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ আসামিদের মুক্তি দেয়া হয়। পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানের ছাত্র জনসভায় শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হলো। সেই থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু। মুক্তির পর সরকারের অনুরোধে বঙ্গবন্ধু আলোচনায় বসতে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। গণদাবি মানতে ব্যর্থ হয় সরকার। তথাকথিত লৌহমানব আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জে. ইয়াহিয়ার কাছে ক্ষমতা দিয়ে বিদায় নিতে বাধ্য হলেন। ১৯৬৯-এর ২৫ মার্চ জে. ইয়াহিয়া সামরিক আইন জারি করে আবারো অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলেন।

১৯৭০-এর ৭ ডিসেম্বর ২৪ বছরের ইতিহাসে প্রথম এবং শেষবারের মতো সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অখ- পাকিস্তানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ৩১৩ (৩০০+১৩) সদস্যবিশিষ্ট সংসদে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৬৭ (১৬০+৭)টি আসন পায়। পূর্ব বাংলার ১৬৭ আসনের মধ্যে ২টি ছাড়া ১৬০টি পায় আওয়ামী লীগ। প্রাদেশিক পরিষদে ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ আসনে বিজয়ী হয়। অর্থাৎ ঐ নির্বাচনে পূর্ব বাংলার শতকরা ৯৮ জন মানুষ শেখ মুজিব ও আওয়ামী লীগের পক্ষে ভোট দেন।

১ মার্চ ১৯৭১ দুপুরে পাকিস্তান বেতারের এক ঘোষণায় ৩ মার্চ অনুষ্ঠেয় অধিবেশন স্থগিত করা হয়। অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণা মেনে নিল না বাংলার মানুষ। স্থগিতের ঘোষণা শুনে সারা বাংলায় জনগণ রাস্তায় নেমে আসে। ক্ষুব্ধ মানুষ সস্নোগান দেয়_ 'ইয়াহিয়ার ঘোষণা_ মানি না মানি না', 'ভুট্টোর মুখে লাথি মারো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো।' এরপর হরতাল ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় বঙ্গবন্ধু মুজিবের নির্দেশে। ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লাখ লোকের সামনে শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক ভাষণ। অসহযোগ-আন্দোলন। এরপর ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা বাংলার নিরস্ত্র মানুষের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। ওই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দ্বারা গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন জনগণের নির্বাচিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

৯ মাসের সশস্ত্র যুদ্ধে ৩০ লাখ বাঙালির তাজা রক্তের বিনিময়ে '৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। '৭২-এর ১০ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। স্বাধীনতাবিরোধী দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্র ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ভোরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। একই চক্র তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করে। ১৫ আগস্ট অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে খুনী চক্র। এরপর মাত্র তিন মাসের মাথায় ৭ নভেম্বর ১৯৭৫ দেশের দ-মু-ের কর্তা হিসেবে ক্ষমতা দখল করেন জে. জিয়াউর রহমান। জে. জিয়ার ৬ বছরে বাংলাদেশকে পাকিস্তানি ধারায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। জিয়া হত্যার পর রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন জে. এরশাদ। মোশতাক, সায়েম, জিয়া, এরশাদ এবং খালেদা-নিজামী গং তাদের আড়াই দশকের শাসন কালে স্বাধীন বাংলাদেশকে 'মিনি পাকিস্তানে' পরিণত করেন। মুক্তিযোদ্ধা জে. জিয়া তার শাসনকালে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার সব বন্দোবস্ত পাকাপোক্ত করেন। মিজান চৌধুরীর মাধ্যমে দলকে দ্বিখ-িত করেন ওই জেনারেল জিয়া। তাছাড়া দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পর নেতৃত্ব নিয়ে আওয়ামী লীগে চরম বিরোধ দেখা দেয়। ১৯৮১ সালের কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন নিয়ে দল আবারও দ্বিখ-িত হওয়ার উপক্রম হলে ভারতে নির্বাসিত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত করা হয়। ৬ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনের পর '৮১-এর ১৭ মে শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে আসেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর নির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

বিগত ৬৮ বছরে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে বারবার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত হয়েছে। সর্বশেষ ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীনরা মাইনাস টু এর মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনাকেই রাজনীতি থেকে চিরতরে নির্বাসন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার সাহস, দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা, দেশের জনগণের প্রতি অঙ্গীকার এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমর্থনের কারণে শেষ পর্যন্ত চক্রান্তকারীরা ব্যর্থ হয়। ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে ২৬২ আসন পেয়ে অনন্য রেকর্ড স্থাপন করে। মহাজোটের অবিশ্বাস্য বিজয়ের পর বঙ্গবন্ধু কন্যা যে সরকার গঠন করেন, তা নিয়ে শুরুতেই সমালোচনা শুরু হয়। অর্ধশত সদস্যের মন্ত্রিসভায় দুই গ-ার মতো উপদেষ্টা নেয়া হয়। মন্ত্রিসভায় অনেক যোগ্য অভিজ্ঞ লোকের সঙ্গে প্রায় অর্ধেক নতুন দেখা মুখ দেখা যায়। যোগ্য, অভিজ্ঞ, ত্যাগী, দক্ষ নেতাদের সরকার ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান হয়নি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় সেনা সদস্যদের পৈশাচিক নির্যাতনের ভয়ে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতা সুবিধাবাদী অবস্থান গ্রহণ করেন। আর এ অপরাধেই তাদের সরকার ও দলীয় নেতৃত্ব থেকে বাদ দেয়া হয়।

২০১৩ সালের ১৫ জুনের ৪ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থক মেয়ররা বিশাল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। ৫ বছর আগে এই চারজনই বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। পত্রপত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী লীগকে হলুদকার্ড দেখিয়েছিল। বিএনপি আন্দোলন ও হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর এবং জনগণের সম্পদ নষ্ট করেছে। এতকিছুর পরেও বিএনপি সমর্থক মেয়রদের এ অবিশ্বাস্য বিজয়ের কারণ কি ছিল? আসলে জনগণ বিএনপি প্রেমে পাগল হয়ে তাদের প্রার্থীকে ভোট দেয়নি। জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি বিরক্ত হয়েই তাদের সমর্থিত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

বর্তমানে বিরোধী দলের তেমন কোনো তৎপরতা না থাকা সত্ত্বেও মহাজোট সরকার দেশে সুশাসন কায়েম করতে ব্যর্থ হয়েছে। একশ্রেণীর এমপি, মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের দুর্নীতি, যেন দেশকে লুটপাট করাই তাদের একমাত্র কাজ। গুম, হত্যা, ছিনতাই বেড়েই চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি দলের লোকেরাই খুনোখুনি করছে। ৬৮ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ সরকারের পেটে ঢুকে গেছে। দলের নেতাকর্মী এবং দেশের জনগণের এখনো বঙ্গবন্ধু কন্যার ওপর আস্থা রয়েছে। দল ও দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে একমাত্র তিনিই রক্ষা করতে পারেন। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা আজ বর্তমান অবস্থানে এসেছেন। সম্প্রতি পত্রিকায় খবর এসেছে ১৩০ জন এমপি আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না। এ খবর সত্য হলে ধরে নিতে হবে দলের প্রায় অর্ধেক এমপি অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। শেখ হাসিনার অভূতপূর্ব অর্জন সত্ত্বেও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত নয়। শেখ হাসিনা আবারো অগি্নপরীক্ষার সম্মুখীন। অতীতে দলকে এবং দেশকে যেভাবে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা আবারও সফল হবেন_ এ বিশ্বাস আমরা করতেই পারি।

[লেখক : সম্পাদক, সাপ্তাহিক বাংলাবার্তা ]

bandhu.ch77@yahoo.com

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close