logo

orangebd logo
শিশুর ডায়রিয়া প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে
মুসলিমা খাতুন শান্তি

বাংলাদেশ মৌসুমি জলবায়ুর দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তীব্র গরম, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। গ্রীষ্মকালে প্রচ- গরম ও আবহাওয়াগত কারণে মানুষের মধ্যে বেশি অসুখ-বিসুখ দেখা দেয়। এর মধ্যে ডায়রিয়া অন্যতম। ডায়রিয়ার শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়।

গরমের তাপদাহে মানুষের মধ্যে বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের অশ্বস্তি বাড়ে। বাতাসে রোগ-ব্যাধির জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। এসময় শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। রোগ-ব্যাধির হাত থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের বিশেষ যত্ন নেয়া একান্ত প্রয়োজন। এ সময় বাতাসে ভাইরাসের কারণে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে জ্বর, হাম ও ডায়রিয়া। গরমে শিশুদের সুস্থ রাখতে পরিবারের সবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কারণ গরমে কষ্ট পেলেও ছোট শিশুরা তা প্রকাশ করতে পারে না। ফলে তারা সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুরা যাতে বেশি সময় রোদে ঘোরাফেরা না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

প্রচ- গরম আর বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে রাজধানীতে প্রতিদিনই ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআরবি) হাসপাতালে এ সময় প্রতি দিন অন্তত ৫০০ ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়, যাদের মধ্যে প্রায় প্রায় অর্ধেক শিশু। বেশিরভাগ রোগীই ডায়রিয়া ও অন্যান্য পেটের পীড়ায় আক্রান্ত। ডায়রিয়ার সঙ্গে সর্দি, কাশি, টাইফয়েড, আমাশয়সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, শুকনো মৌসুমে বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ে। গরমের সময় পানির চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক এলাকায় দূর-দূরান্ত থেকে বিশুদ্ধ খাবার পানি সংগ্রহ করে আনতে হয়।

অনেকেই ময়লা পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। রাজধানীর কিছু এলাকার ওয়াসার পানি পানের উপযোগী নয়। অতিরিক্ত গরমের ফলে রান্না করা খাবার অল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। পচা-বাসি খাবার খেয়েও অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। আবার কেউ কেউ রাস্তাঘাটের খোলা খাবার এবং শরবত খেয়েও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর বার বার পাতলা পায়খানার ফলে শরীর থেকে পানি ও লবণ বেড়িয়ে যায়। এর ফলে রোগী পানি শূন্য হয়ে পড়ে। সে কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। খাবার স্যালাইন তৈরির নিয়ম হলো- আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে এক প্যাকেট খাবার স্যালাইন ভালোভাবে মিশিয়ে রোগীকে পান করাতে হবে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তির যতবার পাতলা পায়খানা হবে ততবারই খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। এখন যে কোন ওষুধ এবং অনান্য দোকানেও খাবার স্যালাইনের প্যাকেট পাওয়া যায়। একবার তৈরি করা খাবার স্যালাইন ৬ (ছয়) ঘণ্টা পর্যন্ত খাওয়ানো যায়। এরপর প্রয়োজন হলে আবার নতুন করে খাবার স্যালাইন তৈরি করতে হবে। এছাড়া ঘরে বসেও খাবার স্যালাইন তৈরি করা যায়। আধা লিটার বিশুদ্ধ পানি, এক চিমটি লবণ ও এক মুঠো গুড় মিশিয়ে তৈরি হয়ে যায় খাবার স্যালাইন।

শিশুর ডায়রিয়া হলে খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ পান করাতে হবে। এছাড়া বড়দের স্বাভাবিক সব ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে। তবে তরল জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়াতে হবে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার স্যালাইনের পাশাপাশি ভাতের মাড়, ডাবের পানি, চিড়ার পানি, লবণ-গুড়ের শরবত, বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করাতে হবে। বর্তমানে আইসিডিডিআরবি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীদের জন্য পৃথক ইউনিট খোলা হয়েছে। সেখানে রোগীদের বিশেষভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শিশু খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই তার খাবারের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। এ অবস্থায় শিশুর খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর, টাটকা এবং সহজে হজম হয় এ রকম খাবার রাখতে হবে। মাছ-মাংস, সবজি সবকিছুই পরিমণ মতো দিতে হবে। বাইরের খাবার যত এড়িয়ে চলা যায় ততই মঙ্গল। শিশুদের খাবার সাধারণত ঘরে তৈরি করাই ভালো। এতে করে খাবারের মাধ্যমে রোগ জীবাণুর সংক্রমণ অনেকাংশে কমে যায়। শিশুকে মৌসুমি ফল ও সতেজ শাকসবজি বেশি করে খাওয়াতে হবে। গরমের সময় খাবার তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই যে কোনো খাবার শিশুকে দেয়ার পূর্বে তা খাওয়ার উপযোগী কিনা দেখে নেয়া ভালো। শিশুর বয়স ছয় মাসের কম হলে তাকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। অন্য কিছু দেয়ার দরকার নেই।

ডায়রিয়া একটি সাধারণ রোগ। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই এ রোগ সম্পর্কে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। ডায়রিয়া কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়। সাধারণত দূষিত খাবার থেকে এ রোগ হয়ে থাকে। তাই পচা-বাসি খাবার খাওয়া যাবে না। বাজারে বা রাস্তার পাশের খোলা জায়গার তৈরি খাবার খাওয়া যাবে না। গরমের সময় শিশুদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে। এ সময় শিশুদের আটসাট পোশাক না পরিয়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে। পোশাক সুতির হলে বেশি ভালো হয়। মনে রাখতে হবে 'প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর'।

আমাদের দেশে গরমকালে ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা খুবই কমন একটি সমস্যা। শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে বা শরীরে লবণ ও পানির স্বল্পতা দেখা দিলে এ রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তবে ডায়রিয়া প্রতিরোধ করার জন্য কিছু পূর্ব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এগুলোর মধ্যে- বাসায় খাবার স্যালাইন রাখতে হবে, বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানি পান করতে হবে, শিশুর ব্যবহার করা সব জিনিষপত্র পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, শিশুর খাবার আগে এবং পায়খানার পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুইয়ে দিতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চলছে এবং এ রোগ সম্পর্কে একটু সচেতন হলে আমরা সহজেই শিশুকে ডায়রিয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারি।

(পিআইডি-শিশু ও নারী উন্নয়নে

যোগাযোগ কার্যক্রম নিবন্ধ)

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close