logo

orangebd logo
দিনলিপি : ২০০৭
তানভীর মোকাম্মেল

ডিসেম্বর ২৭, ২০০৭

পৌষ ১৩, ১৪১৪

বেনজীর ভুট্টো নিহত হয়েছেন !! আজ বিকেলে রাওয়ালপিন্ডিতে এক জনসভায় এক আততায়ী ওঁকে গুলি করে এবং পরে আত্মঘাতী বোমায় নিজেকেসহ আশেপাশের সবাইকে উড়িয়ে দেয়। অন্তত: মিডিয়া থেকে এধরণের খবরই মিলছে। আল-কায়দার কাজ হতে পারে এটা। কিম্বা আইএসআই-য়ের। দু'টোর মধ্যে পার্থক্যও তো খুব বেশী নেই ! অন্ত:সংযোগ তো আছেই ! চারদিকে এটাই একমাত্র আলাপ।

মবিন দীর্ঘদিন পরে কানাডা থেকে দেশে এসেছে। আজ সন্ধায় ও বন্ধু-বান্ধবদের ডিনারে নিমন্ত্রণ করেছিল। ওখানেও সবার মুখেই বেনজীরের নিহত হওয়ার কাহিনী। বিষয়টা সবাইকেই স্পর্শ করেছে। বেনজীরকে আগামী দিনের একটা আধুনিক পাকিস্তানের সঙ্গে মিলিয়ে ভাবা হোত। সে আশাটাও গেল ! পাকিস্তানের মৌলবাদীদের সমস্যা হচ্ছে চিন্তা-চেতনায় তারা মধ্যযুগের কিন্তু ওরা আবার সর্বাধুনিক সব অস্ত্র-শস্ত্রের মালিক হয়েছে। আর মানুষের জীবনের প্রতি ওদের কোনোই সম্মান নেই। হত্যা ব্যাপারটা ডালভাত যেন ! বেনজীর ভুট্টো এই হত্যামালার সর্বশেষ এক শিকার !!

ডিসেম্বর ২৮, ২০০৭

পৌষ ১৪, ১৪১৪

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক সাংবাদিক সম্মেলনে আজ জানিয়েছেন যে বেনজীর ভুট্টো ঠিক গুলিতে মারা যাননি, মারা গেছেন ওঁর গাড়ীর একটা অংশের সঙ্গে মাথায় ধাক্কা খেয়ে। ওঁর শরীরে কোনো গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের এসব ব্যাপারগুলো সব সময়ই রহস্যাবৃত! পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দাবী করছে যে বেনজীরকে হত্যার পেছনে আল-কায়দার হাত রয়েছে। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তারা এখনও উপস্থিত করতে পারেনি। এদিকে বেনজীরের হত্যায় ক্ষুদ্ধ ওঁর সমর্থকেরা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে সহিংস ভাংচুর করছে। ইতিমধ্যে নানা সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে মোট বিশজন মারা গেছে ! দেশটার গণতন্ত্র আবারো সুদূরপরাহত হয়ে গেল !

হাবিব খানের সঙ্গে আজ কথা হোল। "রাবেয়া"-র ব্যাপারে কালকে ওঁর সঙ্গে বসব। এটাই চূড়ান্ত বসা। উনি "রাবেয়া" প্রযোজনায় রাজী হলে ভালো, না হলে আমি নিজেই আমার সীমিত চেষ্টায় ছবিটা বানাব।

ডাক্তার বলেছিলেন আমাকে কিছু মেডিকেল টেস্ট করতে। অনেকদিন কোনো টেস্ট করা হয় না। আজ রিপোর্টগুলো হাতে পেলাম। কাল ডঃ পরিমলের সঙ্গে রিপোর্টগুলো নিয়ে দেখা করব। "রাবেয়া" শুটিং-য়ের আগে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে চাই। অনেক কাজ সামনে।

ডিসেম্বর ২৯, ২০০৭

পৌষ ১৫, ১৪১৪

সকালে "রাবেয়া" নিয়ে হাবীব খানের সঙ্গে বসেছিলাম। উনি বললেন ওঁর ব্যবসা ইদানীং ভালো যাচ্ছে না। ফলে ..! আমি এরকমটিই আশঙ্কা করেছিলাম। এখন যেটা দাঁড়াচ্ছে "রাবেয়া" ছবিটা আমার নিজেকেই তৈরী করতে হবে। সম্পূর্ণ এককভাবে। অবশ্য এ সংগ্রামে আমি বেশ অভ্যস্থ। এটা আমার জন্যে নতুন কিছুও নয়। তবে কষ্টকর ও ক্লান্তিদায়কও বটে !

নাট্যকার মামুনুর রশীদ টেলিফোন করেছিলেন। বললেন "স্বপ্নভূমি" ছবিটা ওঁর খুবই ভালো লেগেছে। ছবিটার আরো কয়েকটি ডিভিডি চাইলেন। ওঁর হংকং-থেকে-আসা নাটকের বন্ধুদের দেখাতে চান। ডিভিডিগুলি পাঠানো হোল।

সকালে আনোয়ার ভাইকে প্যারিসে ফোন করলাম। সোনির এইচডি ক্যামেরাটার ব্যাপারে আলাপ হোল। ওঁকে জানালাম যে উর্ফির হাতে আমি পাঁচশ ইউরো ওঁর জন্যে পাঠিয়েছি। উনি যেন সংগ্রহ করে নেন।

"রাবেয়া"-র প্রপ্স তালিকাটা তৈরী করেছি। এখন শুটিং সিডিউলটা চূড়ান্ত করব।

একুশে টেলিভিশন আজ দুপুরে "তাজউদ্দীন আহমদ: নিঃসঙ্গ সারথি" ছবিটা দেখাল। অনেকেই ছবিটা দেখেছে মনে হোল। বেশ কিছু প্রশংসাসূচক টেলিফোন পেলাম।

ডিসেম্বর ৩০, ২০০৭

পৌষ ১৬, ১৪১৪

দিনটা নৌকায় কাটল। মার্টিন-নাথালিয়া আর ওঁদের এক বান্ধবী ক্যামিলে তাঁদের বাচ্চাদের সহ এসেছিল। পরে আমরা এক চরে নামলাম। বাচ্চারা খুবই উপভোগ করল ভ্রমণটা। ক্যামিলে টেলিভিশনে চাকুরী করে। ওদের দেশে টেলিভিশনের প্রোগ্রাম কেমনভাবে হয়, মানে প্রোগ্রামের কাঠামোটা কেমন, কার কী দায়িত্ব, অর্থের বিভাজনটা কীভাবে ঘটে, এসব নিয়ে দীর্ঘ আলাপ হোল।

সারাকে আজ জানালাম যে আমি "ওয়ার ক্রাইম ফাইল"-য়ের একটা ডিজিটাল কপি তৈরী করেছি। ছবিটা এখন কোনো একটা চ্যানেলে দেখানো যেতে পারে। দেশজুড়েই এখন '৭১-য়ের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে দাবী উঠছে। এ সময়ে ছবিটা দেখাতে পারলে খুব ভালো হোত। ওকে এভাবেই কথাটা জানিয়েছি।

আনোয়ার ভাইকে ক্যামেরার অগ্রিম হিসেবে যে টাকাটা পাঠিয়েছিলাম উনি জানিয়েছেন সেটা যথেষ্ট নয়। আমার যে বাড়তি আর টাকা আছে তাও নয়। তবে চেষ্টা করলে ঋণ করে টাকা যোগাড় করতে পারি, কিন্তু টাকাটা ফ্রান্সে পাঠানোই সবচে বড় সমস্যা ! হাতে সময়ও বেশী নেই !!

"রাবেয়া"-র কয়েকটি চরিত্রের অভিনেতা আজ চূড়ান্ত করলাম। চৌকিদার চরিত্রের জন্যে কেরামত মওলা, তোজাম চরিত্রের জন্যে আবদুল আজিজ, মুক্তিযোদ্ধা কামান্ডার হিসেবে ভাস্বর ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রানাকে আজ চূড়ান্ত করলাম। ওদেরকে বিষয়টা আজ জানিয়ে দিয়েছি।

ডিসেম্বর ৩১, ২০০৭

পৌষ ১৭, ১৪১৪

বছরটা শেষ হোল। কম ব্যস্ততা গেল না এ বছর ! তাজউদ্দীন আহামদের উপর ছবিটা শেষ করা গেল, এছাড়া "বস্ত্রবালিকারা" ও "স্বপ্নভূমি"। লেখালিখি তেমন করতে পারিনি ছবি তৈরীর ব্যস্ততার চাপে। তবে কিছু কবিতা লিখেছি। তার মধ্যে দু'একটি কবিতা লিখে মনের গভীরে আনন্দ পেয়েছি, যেমন "ক্ষমা করিস অবিনাশ" বা "মুক্তিযোদ্ধা '৭১"। তবে এ বছরের আমার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে মনে করি "বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্টার" প্রতিষ্ঠা করা। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এটা যাত্রা শুরু করেছে, আমাদের আয়োজনও সামান্য, কিন্তু আমি মনে করি ঠিক মতো চালাতে পারলে ফিল্ম সেন্টারটি বাংলাদেশের সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রে ভালো অবদান রাখতে পারবে।

তবে "রাবেয়া"-র শুটিং-টা অর্থের অভাবে এ বছর শুরু করতে পারলাম না বলে মনটা খারাপ আছে। তবে আশা করছি দু'এক মাসের মধ্যেই কাজটা শুরু করা যাবে।

আর বাংলাদেশ গেল বাংলাদেশের মতোই ! প্রশাসন ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী ক্রমশ: জাঁকিয়ে বসছে। গণতন্ত্রের পথ তেমন সহজ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। আগামী ২০০৮ সালটি বাংলাদেশের রাজনীতির পক্ষে খুবই কৌতুহলোদ্দীপক হবে বলে মনে হচ্ছে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close