logo

orangebd logo
ভেজালবিরোধী অভিযান কি থেমে গেছে
মুসাহিদ উদ্দিন আহমদ

সেদিন পত্রিকায় নকল ডিম ও আসল ডিম চেনার উপায় নিয়ে একটি প্রতিবেদন নজর কেড়েছে। যেহেতু বাজার থেকে ডিম কিনে খেতে হয় তাই ব্যাপারটি জানার কৌতূহলও ছিল। পড়ে যা বুঝলাম তাতে আমার পক্ষে অন্তত আসল ডিম চিনে কেনা সম্ভব নয়। তাহলে নকল ডিম বাজারে বিক্রি হচ্ছে কিনা এ নিয়ে জনমনে সন্দেহ জন্মানোই স্বাভাবিক। কিছুদিন আগে অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে কিছু ডিম সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর কোনো নকল ডিমের অস্তিত্ব খুঁজে পাননি বলে জানা গেছে। ইতোপূর্বে কৃত্রিম চাল ও ডিম বানিয়ে বিশ্বব্যাপী ঝড় তুলেছিল চীন। এক সচিত্র প্রতিবেদনে দেখলাম, এখন সেখানে কৃত্রিম বাঁধাকপি তৈরি করা হচ্ছে। রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পানির মধ্যে কেমিক্যাল ঢেলে তৈরি পাতা জোড়া লাগিয়ে হুবহু বাঁধাকপি বানিয়ে বাজারজাত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের বাঁধাকপি নাকি ভারতের বাজার পর্যন্ত এসে গেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বদৌলতে চীনের মতো উন্নত দেশের এ ধরনের উদ্ভাবনী শক্তির তারিফ না করে পারা যায় না। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এ ধরনের পণ্য উৎপাদন সম্ভব না হলেও বিদেশ থেকে এসব ভেজাল পণ্য আমদানি হচ্ছে কিনা জানি না। তবে স্থানীয়ভাবে তৈরি খাদ্যপণ্যে ভেজাল মিশিয়ে সারা দেশের মানুষের জীবনের যে বারোটা বাজিয়ে ছাড়ছেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়।

ইতোপূর্বে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট (আইপিএইচ)-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গেছে, বাজার থেকে সংগৃহিত খাদ্যপণ্যে শতকরা ৪০ ভাগে ভেজালের সন্ধান মিলেছে যার মধ্যে ১৩টি পণ্যে ভেজালের হার প্রায় ১০০ ভাগ। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহকৃত ৪৩ ধরনের খাদ্যপণ্যের মোট ৫ হাজার ৩৯৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয় যার মধ্যে ২ হাজার ১৪৭টি নমুনাতেই মাত্রাতিরিক্ত ভেজালের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এরমধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় ভোজ্যতেলেই ৮০ শতাংশ ভেজালের অস্তিত্ব রয়েছে । সর্বাধিক ব্যবহৃত সয়াবিন তেলে ভেজালের হার শতকরা ৭৮ ভাগ, সরিষার তেলে ৫৬ ভাগ, পাম অয়েলে রয়েছে ৩২ ভাগ এবং নারিকেল তেলে সর্বনিম্ন ভেজালের পরিমান শতকরা ২৫ ভাগ। এ ছাড়া অন্যান্য ভেজালযুক্ত খাদ্যপণ্যর মধ্যে রয়েছে নানা ধরনের মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য যেমন রসগোল্লা, ছানা, দই, ঘি, কেক, বিস্কুট, বিভিন্ন ধরনের জুস, মধু, টফি-লজেন্স ইত্যাদি। আটায় শতকরা ভেজালের পরিমাণ ১১ ভাগ, ময়দায় রয়েছে ৯ ভাগ, সুজিতে ২৭ ভাগ এবং বেসনে ৫২ ভাগ ও সেমাইয়ে সর্বোচ্চ ৮২ শতাংশ ভেজালের উপস্থিতি মিলেছে। চিনিতে কিছু কম হলেও ভেজালের পরিমাণ শতকরা ৫ ভাগ, আখের গুড়ে সর্বোচ্চ ৫৭ ভাগ, খেজুরের গুড়ে ২৫, লবণে ৩৬, চা পাতায় ১০ শতাংশ। কেকে শতকরা ৭০ ভাগ ও বিস্কুটে রয়েছে ৪৬ শতাংশ ভেজাল। নিত্যপ্রয়োজনীয় রান্নার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মশলায় অতিরিক্ত ভেজালের উপস্থিতি রয়েছে। মরিচের গুঁড়ায় ৬০ শতাংশ, হলুদ গুঁড়ায় ৩১ এবং ধনিয়ার গুঁড়ায় ৫৩ এবং জিরার গুঁড়ায় ১৮ শতাংশ বিষাক্ত পদার্থের ভেজালের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন সময়ে খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষায় কার্বাইড, ফরমালিনের মতো বহু ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বেশ কিছুদিন আগে পোল্ট্রিফার্মের ডিমে বিষাক্ত ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া যায়। ট্যানারি বর্জ্যকে পোলট্রি খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করায় এমনটি ঘটে। সম্প্রতি এধরনের বিষাক্ত দ্রব্যকে মুরগির খাবার হিসাবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আটার সঙ্গে দেদারসে মেশানো হচ্ছে চক পাউডার যা কিনা ক্যালসিয়াম কার্বনেটের মতো একটি পদার্থ। সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে দুধ তৈরি করা হয় কৃত্রিম উপায়ে। কার্বাইডের মতো বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে কলা পাকানো হচ্ছে। আনারসে হরমোন প্রয়োগ করে আকারে বড় বানিয়ে দ্রুত পাকিয়ে অধিক মুনাফা লাভের প্রক্রিয়া চলে আসছে। আম গাছে মুকুল ধরা থেকে শুরু করে আম পাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে রাসায়নিক ব্যবহার এখন ওপেনসিক্রেট। মিষ্টিজাতীয় খাবারে ব্যবহার করা হয় বিষাক্ত রং, সোডা, সেকারিন, মোম। মসলায় কাপড়ের বিষাক্ত রং, ইট ও কাঠের গুঁড়া ব্যবহার করা হয়। বিষাক্ত ফরমালিন দিয়ে মাছের পচনরোধ করে তা তাজা মাছ হিসাবে বাজারজাত করা হয়।

ইতোপূর্বে মহাখালিস্থ পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের তথ্যানুযায়ী দেশের ৫৪ ভাগ খাদ্যপণ্যে মানব দেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ভেজাল রয়েছে। ডিডিসির পরিসংখ্যান মতে এ হার ৭৯ শতাংশ। ইতিপূর্বে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ঢাকার মৌসুমি ফলে ফরমালিনের ফরমালিনের ব্যবহার পরীক্ষার জন্য ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি নেয়। এতে ঢাকার ২৯টি এলাকা থেকে সংগৃহীত ফলের মধ্যে ৮২% আম, ৯১% কলা, ১০০% মাল্টা, ৫৯% আপেল, ৯৫%আাঙ্গুর এবং ৭৭% খেজুরে ফরমালিন পাওয়া যায়। ভেজাল থেকে বাদ যাচ্ছে না জীবন রক্ষাকারী ঔষধপত্রও। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধপত্র, নরমাল স্যালাইন সলিউশন বাজারে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। বিষাক্ত প্যারাসিটামল খেয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনাও ইতিপূর্বে ঘটেছে। রাজধানীর পাইকারি ওষুধের মার্কেটে জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিকসহ বহু নামিদামি কোম্পানির ভেজাল ওষুধ মজুদ ও বিপণনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা গেছে। সরকারি, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নকল ও ভেজাল ওষুধ, ইনজেকশন উদ্ধার, ঔষধ প্রস্তুতকারী কারখানা জব্দ, সীলগালা, ভেজালকারীদের যৎসামান্য জেল, জরিমানা করা হয়।

বাংলাদেশ পিওর ফুড অধ্যাদেশ ১৯৫৯ (সংশোধনী-২০০৫ আইনের ১৪বি) ধারায়ও সুস্পষ্ট বলা আছে, উৎপাদিত খাবার মানসম্মত না হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ৬ মাসের কারাদ- বা উভয় দ- এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ১ বছরের কারাদ- অথবা উভয় দ-ে দ-িত হবে। খাদ্যপণ্যে ভেজাল প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব বিএসটিআই-এর। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশসহ ৬টি মন্ত্রণালয়ের দশটি বিভাগ ভেজাল বন্ধের দায়িত্বে নিয়োজিত। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগেরও এ ব্যাপারে বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অভাবে ভেজাল প্রতিরোধ কার্যক্রম সফল হয় না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সামান্য জেল, জরিমানার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে। এ ছাড়া রাজধানীতে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য ল্যাবরেটরির জনবল অপ্রতুলতা রয়েছে। বিশেষকরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভেজাল পণ্য উদ্ধার ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতায় ভেজাল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা আজ সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছে।

ইতিপূর্বে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের মতে ভেজাল খাদ্য গ্রহণের ফলে দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ মানুষ মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। একই কারণে দেশে প্রতি বছর ডায়াবিটিসে আক্রান্তের সংখ্যা দেড় লাখ ও কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ। এমনকি বছরে প্রায় ১৫ লাখ গর্ভবতী মায়ের জটিলতাসহ দেশে গর্ভজাত বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হয় ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে। ভেজাল খাদ্যগ্রহণের ফলে দেশে হেপাটাইটিস, কিডনি, লিভার ও ফুসফুস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও দিনদিন বেড়ে চলেছে। ২০০৯ সালে ধামরাইয়ে ৩ এবং ২০১৩ সালে সালে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে বিষাক্ত খাবার গ্রহণের ফলে ১৪ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ২০১২ সালে দিনাজপুরের একটি বাগানের রাসায়নিক মিশ্রিত বিষাক্ত লিচু খেয়ে ১৪ শিশু মৃত্যুবরণ করে। ২০১৫ সালে একই জেলায় কীটনাশক মিশ্রিত লিচুর বিষক্রিয়ার ৮ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। খাদ্য বিষমুক্ত করতে ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৫ নামে একটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এতে খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের ব্যবহার রোধে যাবজ্জীবন বিধান রেখে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ- এবং অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ২০ লাখ ও সর্বনিম্ন ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনে ফরমালিন বিক্রয়ের দোকান সাময়িকভাবে বন্ধসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান রাখা হয়েছে। আইন অনুসারে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স ছাড়া ফরমালিন উৎপাদন, আমদানি, মজুদ, বিক্রয়, পরিবহন এমোনকি ব্যবহার বা দখলে না রাখার নির্দেশনা দেয়া আছে।

খাদ্যপণ্যসহ যে কোন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে ভেজালের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হন ভোক্তারাই। অথচ 'ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন-২০০৯' পুরোপুরি ভোক্তাবান্ধব নয়। ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষায় কি কি সুবিধা দেয়া হয়েছে এসব ভোক্তাদের অনেকেরই জানা নেই। জরুরিভিত্তিতে ভেজাল প্রতিরোধে সরকারের ভেজালবিরোধী তৎপরতা জোরদার করা জরুরি। দেশের দায়িত্বসচেতন সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভেজালের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া ভেজাল বন্ধ হবে না। ইতোপূর্বে রোকনুদ্দৌলা এবং মুনীর চৌধুরীর মতো মেজিট্রেটরা ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছিলেন। কুড়িয়েছিলেন প্রশংসা। এখন আর সেই ধরনের তৎপরতা চোখে পড়ে না। ভেজালবিরোধী পদক্ষেপকে সফল করে তুলতে অভিযানকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ জনবল সংকট দূর করতে হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক ভেজাল শনাক্তকরণ উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। তাদের দিতে হবে সর্বোচ্চ লজিস্টিক সাপোর্ট। বাড়াতে হবে বাজার মনিটরিং। ভেজালের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে জনসচেতনতা। খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোর অপসংস্কৃতিকে দেশের একটি প্রধান সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করে এর সমাধানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমে অতি মুনাফালোভী, অসাধু খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী ও বাজারজাতকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে হবে। অন্যায়, অসৎ পথে অধিক মুনাফা লাভের মাধ্যমে অঢেল বিত্ত গড়ে তোলা সাময়িক স্বাচ্ছন্দ্য দিলেও অন্তিমে তা দুঃখ বৈ কিছু দিতে পারে না।

[লেখক : প্রাবন্ধিক, গল্পকার]

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close