logo

orangebd logo
বিএটিবির বিরুদ্ধে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সুবিধা আদায়ের অভিযোগ
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিয়ে শ্রমিক স্বার্থবিরোধী সুবিধা আদায় করছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটিবি)। শ্রম মন্ত্রণালয়ধীন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে বছর বছর অর্থ প্রদান এবং শ্রম সচিবকে ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে বিএটিবি মূলত ব্যবসায়িক সুবিধা আদায় এবং কোম্পানির সুনাম প্রতিষ্ঠার কাজ করে থাকে বলে মনে করে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

জানা যায়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই ছয় বছরে বিএটিবি শ্রম মন্ত্রণালয়কে মাত্র ৩০ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছে। কিন্তু গণমাধ্যমে সেগুলো এমনভাবে ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে যেন বিএটিবির জন্মই হয়েছে শ্রমিক কল্যাণের জন্য, তামাক বিক্রির জন্য নয়। একইভাবে শ্রম-কল্যাণের নামে অনুদান নিয়ে বিএটিবিকে শ্রম মন্ত্রণালয় শ্রম স্বার্থবিরোধী সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে 'জনস্বার্থে' বিএটিবিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ১০০, ১০২, ১০৪, ১০৫ ও ১১৪ (১) এর বিধানের প্রয়োগ থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এবং এই অব্যাহতির সুবিধা নিয়ে কোম্পানিটি শ্রমিকদের দৈনিক শ্রমঘণ্টা ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১০ ঘণ্টা এবং সাপ্তাহিক ছুটি দেড় দিনের পরিবর্তে একদিন নির্ধারণ করেছে। মূলত শ্রমিকদের অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর জন্যই এ অব্যাহতি তাই এক্ষেত্রে জনস্বার্থ কিভাবে জড়িত তা বোধোগম্য নয়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থায়ন, অনুদান দেয়ার মাধ্যমে কোম্পানির ইমেজ বৃদ্ধি এবং কোথাও কোথাও ঘুষ দিয়ে অবৈধ ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়ের প্রমাণ মিলেছে বিএটির বিরুদ্ধে। চলতি বছরের জুন মাসে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন এলায়েন্স (এফসিএ)'র প্রকাশিত একটি পলিসি ব্রিফ এ বিএটি কর্তৃক আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও'কে অর্থায়নের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে দেখা গেছে, তামাক চাষে শিশুশ্রম নিরসনের লক্ষ্যে পূর্ব আফ্রিকার মালাউয়িসহ কয়েকটি দেশে আইএলও'র তত্ত্বাবধায়নে 'ইলিমিনেটিং চাইল্ড লেবার ইন টোব্যাকো গ্রোয়িং (ইসিএলটি) ফাউন্ডেশন' পরিচালিত প্রকল্পে ১৭ বছর ধরে অর্থায়ন করছে বিএটি। বিএটির ২০১৬ সালের সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টেও এর সত্যতা মিলেছে। এর আগে, ২০১৫ সালে বিবিসি'র এক প্রতিবেদনে অবৈধ সুবিধা পেতে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। শুধু তাই নয়, সমপ্রতি দি গার্ডিয়ান পত্রিকায় প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আফ্রিকার বাজার দখলের লক্ষ্যে ওই অঞ্চলের কমপক্ষে ৮টি দেশের সরকারকে জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ গ্রহণে বিরত রাখতে বিএটি'র হুমকি প্রদান, জবরদস্তি এমনকি মামলা করার তথ্য উঠে এসেছে। এসব দেশগুলো হচ্ছে কেনিয়া, উগান্ডা, নামিবিয়া, টোগো, গ্যাবন, কঙ্গো, ইথিওপিয়া ও বুরকিনা ফাসো।

তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো মনে করে বিএটিবির হস্তক্ষেপ ও আগ্রাসন বন্ধ না করা গেলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত '২০৪০ নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ' অর্জন সম্ভব হবে না।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close