logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ১১ চৈত্র ১৪২০, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৫, ২৫ মার্চ ২০১৪

orangebd logo
যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ আমাদের অঙ্গীকার


যক্ষ্মা একটি জীবাণু ঘটিত রোগ। মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক জীবাণু দিয়ে হাঁচি, কাশির মাধ্যমে এ রোগ সংক্রমিত হয়। আমাদের দেশে যক্ষ্মা একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সংক্রমণ স্থান অনুযায়ী যক্ষ্মা দুই প্রকার। ফুসফুসের যক্ষ্মা ও ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা। যক্ষ্মা রোগীর কফ, হাঁচি, কাশির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বের হয়ে বাতাসে মিশে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সুস্থ দেহে প্রবেশ করে। একজন যক্ষ্মা রোগী চিকিৎসা ছাড়া সারা বছরে ১০ জন সুস্থ লোককে আক্রান্ত করতে পারে।



যক্ষ্মা রোগের লক্ষণগুলো হলো_ একনাগাড়ে ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি, জ্বর, বুকে ব্যথা, ক্ষুধামন্দা, শ্বাসকষ্ট ও ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি। তবে ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোন মানুষের কাশি থাকলেই তাকে সন্দেহজনক যক্ষ্মা রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ লোক যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয় (প্রতি মিনিটে ২ জন রোগী)। যক্ষ্মার কারণে প্রায় ৭০ হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে (প্রতি ১০ মিনিটে ১টি মৃত্যু)। যা আমাদের জন্য খুবই উদ্বেগের কারণ। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। এ অর্জনকে ধরে রেখে যক্ষ্মা রোগের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুহার ২০১৫ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনার জন্য সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার অংশগ্রহণ জরুরি।



এক সময় বলা হতো যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই। এখন আর এ কথার ভিত্তি নাই। এখন যক্ষ্মা রোগীর কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হয়। সরকারি হাসপাতাল, ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে এ চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। দরকার শুধু সচেতনতা। সব বয়সী এমনকি শিশুদেরও যক্ষ্মা হতে পারে। তবে ১৫-৪৫ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি। এ বয়স হলে উপার্জনক্ষম বয়সকাল। তাই আর অবহেলা নয়। আপনার বা আপনার আশপাশে যদি কারো ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি থাকে তবে আর কাল বিলম্ব নয়। আজই নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন।



কফ পরীক্ষা করে যক্ষ্মা পাওয়া গেলে নিয়মিত নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওষুধ সেবন করুন। মনে রাখবেন ওষুধ গ্রহণে অনিয়মতা মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। এতে দেহে যক্ষ্মার জীবাণু থেকে যায়। ও ওষুদের অকার্যকারিতাসহ (এমডিআর) নানা জটিলতা দেখা দেয়। নির্দিষ্ট মেয়াদে ওষুধ সেবনের মাধ্যমেই একজন যক্ষ্মা রোগী সুস্থ জীবন ফিরে পায়। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত 'ডট' একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। যার মাধ্যমে একজন যক্ষ্মারোগী স্বাস্থ্যকর্মী/ ডাক্তারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ওষুধ সেবন করবেন। যক্ষ্মা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর ২৪ মার্চ পালিত হয় বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস। এ ধারাবাহিকতায় এবারও পালিত হচ্ছে এ দিবস। এবারের যক্ষ্মা দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো 'যক্ষ্মার সেবা সবার তরে, পৌঁছে দেব ঘরে ঘরে।' আসুন যক্ষ্মা সম্পর্কে নিজে সচেতন হই, অন্যকে সচেতন করি, যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ করি। যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে এমনটি হোক সবার দৃঢ় অঙ্গীকার।


খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close