logo

orangebd logo
ঈদে ভারতীয় গরু আসবে
বিজিবি মহাপরিচালক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেসব ঘাটাল রয়েছে সেই ঘাটালের মাধ্যমে বৈধভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। গরু আনার জন্য বাংলাদেশি রাখাল ও ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই সীমান্তের জিরো লাইন অতিক্রম করতে পারবে না। ভারতের ব্যাপারিরা জিরো লাইনে গরু নিয়ে আসলে নিয়ম অনুযায়ী এদেশের ব্যবসায়ীরা তা নিয়ে আসতে পারবেন। গতকাল বিকেলে বিজিবি সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা আগের চেয়ে কমে এসেছে। কারণ সীমান্ত এলাকায় গরু আনার জন্য নতুন করে করিডোর খুলে দেয়া হয়েছে। এখন আগের মতো কেউ চোরাইপথে গরু আনতে ভারত সীমান্তে অনুপ্রবেশ করছে না। গরুর করিডোরে রাখালদের চিহ্নিতকরণের জন্য তাদের রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। তাছাড়া, করিডোর খুলে ওইসব রাখালদের কর্মের সংস্থান, সীমান্তে বিভিন্ন প্রকল্প, রাস্তা নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন ও প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখায় সীমান্ত হত্যা কমেছে করিডোরে মারামারি বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে বলে তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। ভারত থেকে গরু আনা হলে দেশীয় গরু ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে ডিজি বলেন, দেশীয় গরু যথাযথভাবে বিতরণ করতে পারলে এমনটি হবে না।তিনি বলেন, রাজশাহী, শিবগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা একটু ভয়াবহ। এসব সীমান্ত দিয়ে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে অস্ত্র আনার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশীয় অস্ত্র, বিদেশি অস্ত্র আনার কোন সুযোগ নেই। আমরা তৎপর রয়েছি। মায়ানমারের সঙ্গে ২৭১ কিলোমিটার সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে এডহক ভিত্তিতে রামুতে একটি রিজিয়ন স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে জানিয়েছে তিনি বলেন, মায়ানমারের দেড়শ' কিলোমিটার সীমান্তে আর্মি এবং ১০০ বিজিপি দায়িত্ব পালন করছে।বিজিপির সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক থাকলেও আর্মির সঙ্গে নেই। তাদের সঙ্গে আমাদের সমস্যা নেই, আবার সমস্যা আছে- মাদকপাচার, সন্ত্রাসী ও চোরাচালানকারী নিয়ে। এরা উভয় দেশের জন্য খারাপ। এদের দমনে একসঙ্গে কাজ করব। ভারতের সঙ্গে ৬৬ কি.মি. এবং মায়ানমারের সঙ্গে ৮১ কি.মি. অরক্ষিত সীমান্তে বিওপি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। ওইসব সীমান্ত দিয়ে মাদক, ইয়াবা, চোরাচালান আসছে। ওখানকার অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের রিজিয়নে বলা হয়েছে, কে মাদক নিয়ে আসছে, তা কোথায় যাচ্ছে এবং গডফাদার সম্পর্কে জানার জন্য। এসব জানার পর আমরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করব। কারণ ইয়াবা বা মাদক নিয়ন্ত্রণ কারও একার সম্ভব নয়।মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত গডফাদারের সম্পর্কে বিজিবি অবগত আছে কিনা এমন প্রশ্নে আবুল হোসেন বলেন, তারা বিষয়টি জানেন না। মাদক নির্মূলে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর রয়েছে। তাদের কাছে ডাটাবেজ রয়েছে। আমাদের কাছে বৈধ কোন ডাটাবেজ নেই। মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে জানতে এবং সীমান্ত অপরাধ কমিয়ে আনতে সীমান্ত এলাকার জনগণ, জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মায়ানমার থেকে মাদক ও ইয়াবা পাচার ঠেকাতে নাফ নদী বন্ধের প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ দিনের জন্য নাফ নদী বন্ধ থাকবে। আরও পরিকল্পনা রয়েছে। মাদক প্রতিরোধে যৌথবাহিনী গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তা সময় লাগবে। যৌথবাহিনী গঠনের পর মায়ানমারের সঙ্গে অরক্ষিত সীমান্তে অভিযান চালানো হবে। সীমান্ত হত্যা নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ যৌথ তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ডিজি বলেন, এটা তারা (ভারত) করতে পারছে না। তাদের আইনে এ রকম বিধান নেই। তবে এক্ষেত্রে তারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে। তবে ফেলানী হত্যাকা-টি আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।বিজিবি মহাপরিচালক পার্শ্ববর্তী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, বিএসএফের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় থাকার ফলে বিএসএফের হাতে আটককৃত ২৩০ জন বাংলাদেশির মধ্যে ১২৯ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট আটক বাংলাদেশিদের কাছে আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ দ্রব্য থাকায় তাদের বিএসএফ কর্তৃক ভারতীয় থানায় সোপর্দ করেছে। অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় ৬২৯ জন বাংলাদেশিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। চলতি বছরের প্রথম ৭ মাসে ৫২ জন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে ৩৬ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর এবং অন্য ১৬ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত চোরাচালান ও অপরাধ কমিয়ে আনতে স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহায়তায় কয়েকটি এলাকায় তিন ফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে ওইসব এলাকায় বিজিবি সদস্যরা মোটরসাইকেল দিয়ে টহল দিতে পারেন। সাতকানিয়ায় এয়ার উইংয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। হেলিকপ্টার ক্রয়ের জন্য রাশিয়া গিয়েছে বিজিবি। সীমান্তের অনেক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিজস্ব উদ্যোগে আলোর ব্যবস্থা করা, জরুরি প্রয়োজনে 'কুয়িক রি-অ্যাকশন ফোর্স' গঠন, সর্বোচ্চ গোয়েন্দা কার্যক্রম, বিজিবির সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে তদারকি, ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের অধীনে 'বর্ডার টুরিজম' নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করাসহ অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিজিবির ১৫ হাজার জনবল বৃদ্ধির জন্য মৌখিকভাবে নীতিগত সম্মতি প্রদান করেছেন।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close