logo

orangebd logo
যশোরে বিশ্বমানের
কিস আঞ্জেলা গমেজ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা হচ্ছে
যশোর অফিস

যশোরে বিশ্বমানের একটি আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে গত ১৩ জুলাই যশোরের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাঁচতে শেখা ও ভারতের ওডিস্যার ভুবনেশ্বর কিস (কলিঙ্গ ইনস্টিটিউট অব সোস্যাল সায়েন্স) ফাউন্ডেশনের মধ্যে এক সমঝোতা স্মারক সম্পাদিত হয়েছে। স্মারকে স্বাক্ষর করেন কিট ইউনিভার্সিটি ও কিট ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. অচ্যুৎ সামন্ত ও বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক ড. আঞ্জেলা গোমেজ। আগামী ২০১৯-২০১৯ শিক্ষা বর্ষে স্কুলটির প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সোমবার বাঁচতে শেখা মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশে এ ধরনের স্কুল এটাই প্রথম। এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের এক কানাকড়িও খরচ করতে হবে না। একবার ভর্তি হতে পারলেই হলো। তারপর যাবতীয় ব্যয় প্রতিষ্ঠানের। এখানে একমাত্র নারী শিশুরাই পড়ার সুযোগ পাবেন। সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার ট্রেজারার খোন্দকার মকসুদুল হক স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এ সময় সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. আঞ্জেলা গমেজ, পরিচালক পলাশ হিউবাট গোমেজ, সদস্য শাহজাহান মিয়া ও প্রশাসনিক প্রধান হিমেল সঞ্জিব কিসকু উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সংস্থার সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যশোর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে হৈবতপুরে বাঁচতে শেখার নিজস্ব ২২ বিঘা জমির ওপর এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হবে। স্কুলটির নাম হবে 'কিস আঞ্জেলা গমেজ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল।' দেশের বিদ্যমান শিক্ষা নীতিমালা ও আইন-কানুন অনুযায়ীই স্কুলটিতে প্রথম শ্রেণী থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে প্রথম শ্রেণী থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। কিস ফাউন্ডেশন কেবলমাত্র কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দেবে। স্কুলটির অবকাঠামো, আসবাবপত্র ও যানবাহনসহ সকল প্রকার ব্যয়ও নির্বাহ করবে কিস ফাউন্ডেশন। প্রতি শ্রেণীতে ৫০ জন করে শিক্ষার্থী থাকবে ৩৫০ জন। তারা থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা এবং পোশাকসহ যাবতীয় ব্যয়ভার প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এই স্কুলে হতদরিদ্র, সুবিধা বঞ্চিত মেয়ে শিশুরা লেখপড়ার সুযোগ পাবে। তবে আদিবাসীরা পাবে অগ্রাধিকার। পর্যায়ক্রমে স্কুলটি দ্বাদশ শ্রেণীতে উন্নীত করা হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি এখানে কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। কারণ প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ড. অচ্যুৎ সামন্ত মাস্টার ডিগ্রি পাস করে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি পাঁচ হাজার টাকা ও ১২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কিট ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে সেখানে ২৭ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। ১৯৯৩ সালে তিনি কিস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে কিস ফাউন্ডেশনে ২৫ হাজার ৩০৮ জন শিক্ষার্থী বিনা খরচে লেখা-পড়া করছে। তিনি তার এ কার্যক্রমের জন্য বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন। ড. আঞ্জেলা গমেজ ১৯৭৬ সালে বাঁচতে শেখা প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে তিনি দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারী ও শিশু উন্নয়ন, জেন্ডার সমতা, মানবাধিকার, নারীর অধিকার, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, সমাজ ও পরিবারের বিদ্যমান সকল প্রকার বৈষম্য দূরীকরণ, নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ নারী নেতৃত্ব বিকাশ ও হিন্দু বিবাহ আইন প্রণয়নের দাবিতে অসামান্য ভূমিকা পালন করেন। তিনিও দেশ বিদেশের বহু পুরস্কার লাভ করেন। দু'দেশের এই দুই মানব প্রেমিকের নিজেদের বলতে কিছুই নেই। নেই এক শতক জমি এবং একটি টাকাও। অথচ মানুষের কল্যাণে শত শত বিঘা জমি কিনেছেন।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close