logo

orangebd logo
সম্মিলিত উদ্যোগ
পাঁচ মাসে ২০ বাল্যবিয়ে রোধ
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

আবদুল খালেক ও রোজিনা দম্পতির মেয়ে সোহাগী (১৪)। জীবননগর উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নের গয়েশপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়ে সোহাগী। মেধাবী সোহাগীর স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষিত হয়ে শিক্ষক হওয়ার। কিন্তু হঠাৎ একদিন তাদের বাড়িতে বিয়ের জন্য পাত্রপক্ষ হাজির হয়। তারা সোহাগীর মাকে প্রায় বোঝাতে সক্ষম হয় যে, এই পাত্রের সঙ্গে সোহাগীর বিয়ে হলে সে সুখী হবে। সোহাগীর এই বিয়েতে অসম্মতি থাকলেও সে তার মাকে এই বিয়ে থেকে বিরত রাখতে পারে না। উপায়ন্তর না পেয়ে সোহাগী তার বন্ধুদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে। তারা কিছুদিন আগেই পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন পরিচালিত 'বাল্যবিবাহ রোধে করণীয়' শীর্ষক ওরিয়েন্টেশনে অংশ নিয়েছিল। তারা দ্রুত বিষয়টি গ্রামের সমৃদ্ধির ওয়ার্ড কমিটি, স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং শিক্ষকদের দৃষ্টিতে আনে। তারা সোহাগীর জীবনে ভবিষ্যতে যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে সেটি তার বাবা-মাকে বোঝাতে সক্ষম হয়। সম্মিলিত উদ্যোগে বিয়েটি বন্ধ হয়। সোহাগী এখন তার ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছে। একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে জয়পুরহাটের খেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের ১৫ বছর বয়সী কিশোর রকি চন্দ্র মালীর জীবনে। বাবা গিরেন চন্দ্রের বড় ছেলে রকি বরাবরই বাবা-মার কাজে সহযোগিতা করে। দারিদ্র্যতা এবং অজ্ঞানতাবশত হঠাৎ রকির দাদির মাথায় বুদ্ধি আসে সে যদি তার নাতিকে বিয়ে দেয় তাহলে যৌতুকের টাকা দিয়ে তাকে একটি ব্যবসা ধরিয়ে দেয়া যাবে। কিন্তু রকির সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও পরিবারের চাপে তাকে অবশেষে বিয়েতে রাজি হতে হয়। গ্রামে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে পিকেএসএফ-এর সমৃদ্ধি কর্মসূচির শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্রের শিক্ষিকা শাহজাদী এহেড সোশ্যাল অর্গানাইজেশন '(এসো)'কে জানায়। 'এসো'-এর প্রতিনিধি বিয়েটি বন্ধ করতে রকির পরিবারকে বোঝনোর চেষ্টা করে। কিন্তু এতে কাজ না হওয়ায় অবশেষে তারা সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানায়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েটি বন্ধ করে দেন। রকি স্বাবলম্বী হয়ে উপযুক্ত বয়সে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থাসমূহের নেটওয়ার্ক 'সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড নলেজ ডিসেমিনেশন' ইউনিটের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমই সোহাগী ও রকিকে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে বাঁচিয়েছে। শুধু তাই নয় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ২০টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে এই ইউনিট। যেসব ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে বন্ধ করা গেছে সেগুলো হলো- দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দুর্গাপুরে ৪টি, ডাম ফাউন্ডেশন ফল ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্টের উদ্যোগে সুকন্দীতে ৩টি, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সীমান্ত, শিশু নিয়ল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এলেঙ্গা এবং শতফুল বাংলাদেশ গণিপুর, মমতার উদ্যোগে বরকলে দুইটি করে বাল্যবিয়ে বন্ধ হয়েছে। এছাড়া নওপাড়ায় নড়িয়া উন্নয়ন সমিতি, পাঁচগাঁওয়ে হিড-বালাদেশ, আইয়ুবপুরে সোস্যাল আপলিফ্টমেন্ট সোসাইটি (সাস), দেবীডুবায় আরডিআরএস বাংলাদেশ, বড়তারায় এহেড সোশ্যাল অর্গানাইজেশন (এসো) একটি করে বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে।

সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০১৩ সালে এই ইউনিটটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইউনিটটি অন্যান্য কাজের পাশাপাশি পিকেএসএফ-এর সমৃদ্ধি কর্মসূচিভুক্ত ১৬টি ইউনিয়নে নারী ও শিশুর অধিকার রক্ষায় বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নানাবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close