logo

orangebd logo
হাসপাতালে
সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করা যাবে না
* মন্ত্রিসভায় খসড়া অনুমোদন
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

কোন হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না। তবে সরকারি হাসপাতালে যেখানে বিশেষায়িত ইউনিট আছে সেখানে এ ধরনের অনুমতির প্রয়োজন নেই'- এমন বিধান রেখে 'মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) আইন, ২০১৭' এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে নিকটাত্মীয়ের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আশরাফ শামীম সাংবাদিকদের এ অনুমোদনের কথা জানিয়ে বলেন, 'সংশোধিত আইনে কিছু সংজ্ঞা পরিমার্জিত ও পুনর্গঠিত হয়েছে এবং আইনে কিছু বিষয় সংযোজিতও হয়েছে।'

সংশোধিত আইনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, 'চিকিৎসা বিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরসঙ্গে মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অবৈধ পাচারের সংযুক্তি ঘটেছিল, এটা (সংশোধিত আইন) সেটাও রোধ করবে। এ বিষয়টা (অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) নিয়ে ব্যবসাপাতি করা, সেটারও একটা প্রতিরোধক ভূমিকা এ আইন পালন করবে।' কোন হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না জানিয়ে আশরাফ শামীম বলেন, 'যাদের অনুমতি নেই তারা এ আইন কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে অনুমতির জন্য সরকারের কাছে আবেদন করবে।' অঙ্গ সংযোজনে বাড়ছে নিকটাত্মীয়ের পরিধি : অতিরিক্ত সচিব বলেন, 'নিকট আত্মীয়ের মধ্যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান ও সংযোজন করতে হবে। আইনে নিকট আত্মীয়ের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী ও রক্তের সম্পর্কের আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা, নানা-নানি, দাদা-দাদি, নাতি-নাতনি এবং আপন চাচাতো, মামাতো, ফুফাতো, খালাতো ভাই বা বোন। আগের আইনে নিকট আত্মীয় বলতে পুত্র-কন্যা, পিতা-মাতা, ভাই-বোন ও রক্তের সম্পর্কের আপন চাচা, ফুফু, মামা, খালা ও স্বামী-স্ত্রী।'

চোখ ও অস্থিমজ্জা সংযোজনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয় হওয়ার আবশ্যকতা নেই জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, 'আইন অনুযায়ী যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সংযোজন করা যাবে সেগুলো হলো- মানবদেহের কিডনি, হৃৎপি-, ফুসফুস, অন্ত্র, যকৃত, অগ্ন্যাশয়, অস্থি, অস্থিমজ্জা, চোখ, চর্ম ও টিস্যুসহ মানবদেহে সংযোজনযোগ্য যে কোন অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গ।'

আশরাফ শামীম বলেন, 'খসড়া আইনে ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের কথা বলা হয়েছে। ক্যাডাভেরিক অর্থ হৃৎপি- স্পন্দনরত এরূপ মানবদেহ যা অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্রেইন ডেথ ঘোষিত এবং যার অঙ্গ অন্য মানবদেহে প্রতিস্থাপনের জন্য লাইফ সাপোর্ট দিয়ে কার্যক্ষম রাখা হয়েছে।'

ব্রেইন ডেথ (মৃত) ঘোষণার পর কোন আইনানুগ উত্তরাধিকারী কোন ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেয়ার জন্য লিখিতভাবে অনুমতি দেয় তবে অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নেয়া যাবে- উল্লেখ করে অতিরিক্ত সচিব বলেন, ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোন দাবিদার না থাকলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণাকারী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব পালনকারী ব্যক্তি অনুমতি দিতে পারবে। ব্রেইন ডেথ ঘোষণার জন্য একটি কমিটি থাকবে। এ কমিটি কোন ব্যক্তিতে ব্রেইন ডেথ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এ কমিটির কোন চিকিৎসক বা তার কোন নিকটাত্মীয় এরূপ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন বা সংযোজনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না।'

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা ও গ্রহিতার যোগ্যতা : আশরাফ শামীম জানান, 'অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা হিসেবে কোন ব্যক্তি উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন না যদি ব্রেইন ডেথ (মৃত) ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স ২ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি হয়। এখানে হয়ত কার্যকারিতার প্রশ্ন আছে। আগের আইনে এটা ছিল না। তবে চোখ ও অস্থিমজ্জা সংযোজনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। ২ থেকে ৬৫ বছর খাটবে না।'

তিনি আরও জানান, 'জীবিত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি হবে না। তবে ওই ব্যক্তি মৃত্যুর আগে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের লিখিত আপত্তি করে থাকেন তবে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেয়া যাবে না। দাতার সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা কোনক্রমে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং দাতার চোখ, অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ?এজিবিএসএজি, এনটিএইচসিবি এবং এইচআইভি পজেটিভ থাকলেও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেয়া যাবে না।'

অতিরিক্ত সচিব বলেন, 'অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহিতা হিসেবে কোন ব্যক্তি উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন না যদি তার বয়স ২ বছর থেকে ৭০ বছরের মধ্যে না হয়। তবে শর্ত থাকে যে, ১৫ বছর থেকে ৫০ বছরেরর ব্যক্তিরা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহিতা হিসেবে অগ্রাধিকার লাভ করবেন। চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রহিতার বয়সের এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।'

শাস্তি ৩ বছরের জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা :

কোন ব্যক্তি নিকট আত্মীয়তা সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিলে বা ওই ধরনের তথ্য দিতে উৎসাহিত, প্ররোচিত বা ভীতি প্রদর্শন করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বলেন, 'এজন্য তিনি কমপক্ষে দুই বছরের সশ্রম কারাদ-ে দ-িত বা সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-নীয় হবেন। নিকট আত্মীয় সংক্রান্ত অপরাধ ছাড়া এ আইনের অন্য কোন বিধান লঙ্ঘন করলে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদ- বা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত হবেন।'

এই আইনের অধীনে কোন অপরাধের জন্য কোন চিকিৎসক দ-িত হলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মাধ্যমে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল যোগ্য হবে-উল্লেখ করে আশরাফ শামীম বলেন, 'কোন হাসপাতাল এ আইনের অধীনে কোন অপরাধ করলে এই হাসপাতালের পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত মালিক বা পরিচালক, তিনি যে নামেই পরিচিত হোন না কেন তিনি অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবেন। যদি না তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে ওই অপরাধ তার অজ্ঞাতসারে হয়েছে এবং তা রোধ করার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। কোন হাসপাতাল কোন অপরাধ করলে এর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের অনুমতি বাতিল হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য অর্থদ- আরোপ করা যাবে।'

আগের আইনের শাস্তির বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, 'ওই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করলে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করলে তিনি সর্বোচ্চ ৭ বছর ও কমপক্ষে ৩ বছরের সশ্রম কারাদ-ে বা কমপক্ষে ৩ লাখ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান ছিল।'

সংশোধিত আইনে শাস্তি কমল কিনা- এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'আগে শাস্তি ছিল ঢালাওভাবে, অনির্ধারিত। এবার দ-ের ক্ষেত্রগুলো সুনির্ধারিত করা হয়েছে।'

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনে মেডিকেল বোর্ড :

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে হবে জানিয়ে অতিরিক্ত সচিব বলেন, বোর্ডের প্রধান হবেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সার্জারিতে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অধ্যাপক পদ মর্যাদার একজন চিকিৎসক। সদস্য হিসেবে থাকবেন কমপক্ষে সহযোগী অধ্যাপক পদমর্যাদার একজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা বা চিকিৎসক।'

মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক বা একাধিক সদস্য অভিজ্ঞতা সম্পন্ন চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন উল্লেখ করে আশরাফ শামীম বলেন, 'এই বোর্ড দাতা ও গ্রহিতার আত্মীয়তার সম্পর্ক নির্ধারণ করবে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন ও ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত দেবে।'

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত সচিব আরও জানান, 'অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ ও সংযোজনে সহায়তা দিতে প্রত্যয়ন বোর্ড গঠিত হবে। মেডিকেল বোর্ডের ওপর এর অবস্থান হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের কমপক্ষে উপ-পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা হবেন এ বোর্ডের প্রধান। এ কমিটিতে সদস্য চারজন।'

জাতীয় কমিটি :

অতিরিক্ত সচিব জানান, প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী ব্রেইন ডেথ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের জন্য সরকার ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন করবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হবেন এ কমিটির সভাপতি। ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কমপক্ষে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এ কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।'

জাতীয় কমিটি ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ কার্যক্রমের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেবে। ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ কার্যক্রম পরিদর্শন এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ কার্যক্রম সহজীকরণ, সমপ্রসারণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেবে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের কাছে সুপারিশ দেবে বলে জানান আশরাফ শামীম।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close