logo

orangebd logo
তনু হত্যা
১৫ মাসেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ঘাতকরা
জাহিদুর রহমান, কুমিল্লা

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকা-ের ১৫ মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। দীর্ঘ এ সময়ে হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার দূরের বিষয় এ পর্যন্ত মামলার রহস্যই উদঘাটন করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি। তনুর ঘাতকরা এখনও রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। একাধিকবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই। তদন্তের নামে জিজ্ঞাসাবাদ আর ডিএনএ পরীক্ষার একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে তদন্ত কার্যক্রম। অগ্রগতি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ তদন্তকারী কর্মকর্তাও। এদিকে একমাত্র মেয়ে তনুকে হারিয়ে ওই পরিবারের সব আনন্দ হারিয়ে গেছে। যে তনু ঈদের দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠত সেই তনুকে ছাড়াই দ্বিতীয়বারের মতো এবার ঈদুল ফিতর পালন করতে হবে তাদের। মেয়ে হারানোর বেদনা এবং খুনিদের বিচার না হওয়ায় ক্রমান্বয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তনুর পরিবারের লোকজনসহ স্বজনরা।

জানা যায়, গত বছরের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরের একটি জঙ্গল থেকে কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যামামলা করেন। থানা পুলিশ ও ডিবির পর গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় কুমিল্লা সিআইডি। তনুর দুই দফা ময়নাতদন্তে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ না করে প্রতিবেদন দেয়ায় ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় দেখা দেয়। ভরসা ছিল ডিএনএ রিপোর্ট। গত বছরের মে মাসে সিআইডি তনুর জামা-কাপড় থেকে নেয়া নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে ৩ জনের শুক্রাণু পাওয়ার কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল। হত্যার আগে তনুকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এমন তথ্যও তারা নিশ্চিত হয়েছিল। পরে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ ম্যাচিং করার কথা থাকলেও তা করা হয়েছে কিনা কিংবা ফলাফল কি- এ নিয়েও সিআইডি নীরব। এদিকে দীর্ঘ ১৫ মাসেও তনু হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে না পারা, সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ ধর্ষণকারীর শুক্রাণু পেলেও এ পর্যন্ত ডিএনএ ম্যাচ করে ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারায় মেয়ে হত্যার বিচার পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তনুর পরিবারসহ সচেতন মহলে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম জানান, তনু ঈদের দিন তার বাবার জন্য সেমাই, মুরগি ও পোলাও রান্নায় ব্যস্ত হয়ে উঠত। আমার সেই তনুকে ঘাতকরা মেরে ফেলেছে। বিচার চেয়েও এখনও পাইনি। দেখতে দেখতে ১৫ মাস পেরিয়ে গেছে। তাকে ছাড়া কিভাবে ঈদ করব। তার কথা মনে হলেই বুকটা যেন ভেঙে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। তিনি বলেন, কার কাছে বিচার চাইব। সমবেদনা জানাতে এসে যারা ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়েছিল, তারাও এখন চুপচাপ, সিআইডিও এখন খবর নেয় না। বাসায় আসে না। কল করে না। তনুর মা আরও বলেন, আমার মেয়ে হারালাম কিন্তু বিচার পেলাম না। কারা মেরেছে আমার তনুকে দেশবাসী যা জানার তা জেনেছে, তনুর বাবা-ভাইয়ের ক্ষমতার দাপট থাকলে হয়তো চেষ্টা-তদবির করে মেয়ে হত্যার বিচার পেতাম, গরিবের জন্য আল্লাহ আছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মামলার বিভিন্ন পারিপাশর্ি্বক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে, কিছু অগ্রগতিও আছে। তাই এ নিয়ে আর কোন মন্তব্য করতে চাই না।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close