logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
'অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭'
এখন উৎসবের কেন্দ্র্রবিন্দু বাড়ছে বই বিক্রি
হাসনাত শাহীন

সব বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এবারের সেই প্রাণের মেলার আজ ১৭তম দিন। প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলে। এ বছরও মাস জুড়ে চলবে। মাত্র দুদিন আগে পার করেছে তার মধ্যবর্তী সময়। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাহীন স্বাভাবিক পরিস্থিতি এবারের মেলা শুরু থেকেই ছিল অনেক প্রাণবন্ত। বইয়ের টানে, প্রাণের টানে প্রচুর লোকসমাগম ঘটেছে প্রায় প্রতিদিনই। তার সঙ্গে বাড়ছে বই বিক্রি। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরাও জানাচ্ছেন- এখন পর্যন্ত এবারের মেলার সার্বিক পরিস্থিতি বিগত মেলাগুলোর চেয়ে অনেক ভালো। আর, দর্শক ও বইপ্রেমীদের আনাগোনা দেখে মনে হচ্ছে এবারের মেলার শেষ দশদিনের আগে থেকেই অন্যান্যবারের মতো শেষ দশদিনের মেলাটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে।

প্রতিদিনই মেলার প্রবেশদার খুলে দেয়ার আগে দুপুরে পর থেকেই যেন উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে মেলার দুই প্রাঙ্গণ-বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশের এলাকা। দুপুরের পর থেকেই শাহবাগ মোড় থেকে টিএসসি, টিএসসি থেকে দোয়লে চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ মেলায় প্রবেশের অপেক্ষায় খ--খ-ভাবে দিচ্ছে আড্ডা। শুধু আড্ডা দেয়ার জন্যই হোক আর প্রয়োজনীয় কাজের জন্যই হোক কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়ানোর জন্যই হোক- গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণের এ আশপাশে প্রতিদিনই ভিড় করছে উৎসবপ্রিয় হাজারো মানুষ। আর এই সব হাজার মানুষের অধিকাংশই মেলার দ্বার খুলে দেয়ার পর মুহূর্তেই প্রবেশ করছে মেলা প্রাঙ্গণে। তাৎক্ষণিকভাবে এসব নানা মানুষের পদভারে মেলা পরিণত হচ্ছে পরিপূর্ণতায়। আর বিকেলের দিকে মেলা জমে উঠছে অনন্য উৎসবমুখরতায়। প্রকাশকরা বলছে- বই বিক্রিও বেড়েছে বিগত দিনের তুলনায় কয়েকগুণ। মেলা ঘুরে দেখা গেছে- গতকাল প্রকাশনা

সংস্থা 'অন্যপ্রকাশ, সময় প্রকাশন, অনন্যা, অবসর, অনুপম প্রকাশনী, ঐতিহ্য, কাকলী, মাওলা ব্রাদার্স, আগামী প্রকাশনী, নালন্দা, তাম্রলিপি ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ এবং চৈতন্য-সহ বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থায় বিগত কয়েকদিনের মতোই ছিল বইপ্রেমী মানুষের ভিড়। পাঠক-দর্শনার্থীরা স্টল ঘুরে ঘুরে শুধু নতুন বই দেখছেন, কিনছেনও।

এসব প্রকাশনা সংস্থার বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন- এবারের কঠোর নিরাপত্তা ও গতবারের তুলনায় অনেক বেশি জায়গায় বিস্তৃত পরিসরের মেলায় মানুষ আসছে স্বতস্ফূর্তভাবে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো। মেলার এই সময়ে এসে প্রতিবারই ভালো বিক্রি হয়। কেননা, এই সময়ে যারাই মেলায় আসে তাদের প্রায় সকলেই পাঠক, সকলেই বই কিনে। এই সকল মানুষ মেলা শুরুর দিকে বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেন আর এই সময়ে এসে তালিকা ধরে নিজেদের পছন্দমতো নতুন বই কেনেন।

 

আজ শুক্রবারের ছুটির দিনে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। এবারের গ্রন্থমেলার বিগত সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোর মতো আজও সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর। সকাল সাড়ে ৯টায় মেলার মূলমঞ্চে শিশু-কিশোর সংগীত প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী। বিচারকম-লীর সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পী ইয়াকুব আলী খান, আবু বকর সিদ্দিক এবং সাগরিকা জামালী। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন 'শিশুকিশোর সংগীত প্রতিযোগিতা ২০১৭'র আহ্বায়ক রহিমা আখতার কল্পনা। এছাড়াও আজ শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

 

মেলার নতুন বই : গ্রন্থমেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য মতে মেলায় গতকাল নতুন বই এসেছে ১০২টি। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ১৩, উপন্যাস ১৬, প্রবন্ধ ৫, কবিতা ৩৮, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ৩, জীবনী ২, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ৩, নাটক বিষয়ক ১, বিজ্ঞান বিষয়ক ১, স্বাস্থ্য বিষয়ক ১, রম্য/ধাঁধাঁ ১, অনুবাদ ২ এবং অন্যান্য বিষয়ে ১৩টি বই প্রকাশ হয়েছে। এসব বইয়ের মধ্যে উল্লেখয়োগ্য কিছু নতুন বই হলো-অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে উপমহাদেশের অন্যতম লেখক হাসান আজিজুল হকের 'ছোবল', বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের চতুর্থ উপন্যাস 'সুখবাস' ও চিত্রনিভা চৌধুরীর 'রবীন্দ্রস্মৃতি', কথাপ্রকাশ থেকে ঝর্না রহমানের উপন্যাস 'কাকজোছনা', ঐতিহ্য থেকে শুবাশিস সিনহার 'মোহাম্মদ রফিক : কবিতার অতল ভাসান', অন্বেষা থেকে লেখক ও সাংবাদিক মোস্তাফা মামুনের 'বাদল ব্রাদার্স', অ্যালবাম থেকে মাহমুদা লাভলীর কাব্যগ্রন্থ 'পাঁচফোড়ন', হাতেখড়ি থেকে মাহমুদা আকতারের উপন্যাস 'ফড়িং ওড়ার দিন' এবং দেশ পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে রওনক নূরের কাব্যগ্রন্থ 'অদেখা পড়শি'।

 

মোড়ক উন্মোচন : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগের তথ্য মতে গতকাল মেলা মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে ২৯টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী শিল্পী সায়ান রায়ের চিত্রকর্ম নিয়ে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আর্ট ক্রিটিক রামেন্দু মজুমদার, শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য, লেখক আনিসুল হক, ত্রপা মজুমদার আনুষ্ঠানিকভাবে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় শিল্পীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। বইটির সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন করে শিশির ভট্টাচার্য বলেন, এতে রেখা ও লাইনের সাহায্যে নিজের মনোজগত ও চিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন শিল্পী। বইটি পাওয়া যাবে 'থিয়েটার' এর স্টলে।

 

মেলার মূলমঞ্চের গতকালের অনুষ্ঠান

মেলার মূলমঞ্চে গতকাল বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় 'সত্তর দশকের কবিতা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মুজিবুল হক কবীর। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কবি ইকবাল হাসান এবং ড. খালেদ হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা।

প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক মুজিবুল হক কবীর বলেন, অজস্র কবির ঋদ্ধ সত্তর দশক। সমকালীন অনুষঙ্গ, প্রসঙ্গ, সঙ্গ ও দর্শন সত্তরের কবিতাকে দিয়েছে নতুন মাত্রা, নতুন স্বাদ। যুগের অস্তিত্ব, সংকট, প্রগতি, স্ফুরণ, মনোজগৎ ও বহির্জগতের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সত্তরের কবিতায় প্রবলভাবে উপস্থিত। বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের মতো গৌরবময় চেতনাকে ধারণ করেই সত্তর দশকের কবিরা স্বপ্নময় স্বদেশভূমিকে নিয়ে কবিতা, স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণার কবিতা, রোমান্টিক ধারার কবিতা, দর্শন ও মিথপুরাণের অনুষঙ্গ নিয়ে কবিতা নানা আঙ্গিকে নির্মাণ করেছেন।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বাংলা সাহিত্যের কোন দশকই সত্তরের দশকের মতো এতো কবিকে ধারণ করেনি। এ সময়ের কবিরা নির্মাণ করেছেন নিজস্ব একটি কাব্যভাষা যা পঞ্চাশ বা ষাটের দশক থেকে খুবই আলাদা। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি আমাদের চারপাশ ঘিরে মূল্যবোধের যে অবক্ষয় এবং স্বপ্নভঙ্গের যে বেদনা সেটাও প্রতিফলিত হয়েছে সত্তর দশকের কবিতায়। তবে শুধু সংকট নয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার আলোতেও উজ্জ্বল সত্তর দশকের কবিতা।

সভাপতির বক্তব্যে কবি অসীম সাহা বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর আমাদের ভেতরে তীব্র আবেগ জেগে উঠেছিল; তারই প্রেরণায় কবিতাজগতেও বিপুল সাড়া জেগেছিল। কিন্তু এই আবেগের তীব্রতা বাস্তবের কষাঘাতে দ্রুতই স্তিমিত হয়ে আসে। তবে এ সময়ের কবিদের মধ্যে অনেকেই বিস্ময়কর সব পঙ্ক্তি রচনা করেছেন যা আজও আমাদের প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে।

এরপর একই মঞ্চে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে ছিল সাইমন জাকারিয়ার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন 'ভাবনগর ফাউন্ডেশন'-এর শিল্পীদের পরিবেশনা। এছাড়াও সংগীত পরিবেশন করেন মীনা বড়ুয়া, বুলবুল ইসলাম, ফারহানা ফেরদৌসী তানিয়া, শুভ্রা দেবনাথ, অভিলাষ দাস এবং নিশি কাওসার।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close