logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
কিশোরগঞ্জ আখাউড়া বগুড়ায়
এক শিশু ও দুই স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের শিকার
সংবাদ ডেস্ক

পৃথক ঘটনায় শিশু, স্কুল ও মাদ্রাসাছাত্রীসহ তিন জেলায় ৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং এক গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টায় আটক করা হয়েছে তাব ভাসুরকে।

কিশোরগঞ্জ, আখাউড়া এবং বগুড়ায় এসব ঘটনা ঘটেছে। প্রতিনিধিরা এ খবর জানান।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, কিশোরগঞ্জে কবিরাজি চিকিৎসার নামে দুই সন্তানের জনক এক লম্পট কবিরাজ অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। থানায় মামলা হলে পুলিশ ধর্ষককে জামালপুর থেকে গ্রেফতার করেছে। মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মুকসেদপুর এলাকার দুলাল মিয়ার (৪০) স্ত্রী ফাতেমা আক্তার প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক রোগী। তার চিকিৎসার জন্য হোসেনপুরের কুড়িমারা গ্রামের আবদুর রশিদ মেম্বারের ছেলে ভুয়া কবিরাজ সাইফুল ইসলামকে (২৮) সম্প্রতি রোগীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসা করানোর পর লম্পট কবিরাজ সাইফুল জানায়, একজন কুমারি মেয়েকে ধর্ষণ সম্পন্ন করে রোগীর চিকিৎসা করালে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন। তার কথায় বিশ্বাস করে দুলাল মিয়া গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে তার পাশের বাড়ির চাচাত ভাইয়ের মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ১৩ বছরের মেয়েকে ডেকে ঘরে নিয়ে আসে। এ সময় দুলালের দুই মামাশ্বশুর রোকন মুন্সি (৫৫) ও আজিজুল হকও (৪৫) কবিরাজের সঙ্গে দুলালের ঘরে অবস্থান করছিলেন। এরপর ঘর থেকে অন্যরা বেরিয়ে গেলে লম্পট কবিরাজ সাইফুল মেয়েটির বুকে কোরান শরীফ স্পর্শ করে তার সঙ্গে যা করা হবে, তা যেন কাউকে না বলে, সেই অঙ্গীকার করায়। তরপর মেয়েটিকে লম্পট কবিরাজ ধর্ষণ করে। পরদিন আবারও একই কায়দায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে মায়ের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয় এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেয়েটিকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং মেয়ের মা বাদী হয়ে ৬ ফেব্রুয়ারি সদর থানায় লম্পট কবিরাজ সাইফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মেয়ের চাচা দুলাল মিয়া, দুলালের দুই মামাশ্বশুর রোকন মুন্সি ও আজিজুল হকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১)/৩০ ধারায় মামলা (নং ১২) দায়ের করেন।

আখাউড়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত প্রায় ১০ দিন আগে উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের গাংভাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও গতকাল বিকেলে এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহের এক ভিক্ষুক দম্পতি তার মেয়েকে নিয়ে গাংভাঙ্গা গ্রামে বসবাস করেন। মেয়েটি প্রতিবেশি কামাল মিয়ার বাড়িতে প্রায়ই যাওয়া আসা করতো। গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে সে ওই বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হয়। বিষয়টি সে এলাকার একাধিক ব্যক্তিকে জানালেও কোন সুরাহা পায়নি। চট্টগ্রামে বসবাসকারী এক বোন জামাই ও আরেক আত্মীয়ের মাধ্যমে সে বুধবার রাতে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েআসে। সেখানে কতব্যরত চিকিৎসক ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। গতকাল দুপুরে মেয়েটি ও পরিবারের লোকজন থানায় এসে এ বিষয়ে অভিযোগ জানায়।

অবশ্য মেয়েটির বরাত দিয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, কামালের ভাই সোহরাব হোসেন সোহাগ তার ভাবীর সহযোগিতায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি সে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তিকে জানালেও কেউ তার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। পরে স্বজনদের সহযোগিতায় সে হাসপাতালে যায়।

কামাল মিয়া অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আদমদীঘি (বগুড়া) : বগুড়ার আদমদীঘিতে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আদমদীঘি উপজেলার ছোট ঝাকইর গ্রামে। এ ঘটনায় ধর্ষীতার বাবা রেজাউল ইসলাম বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ধর্ষক আল-আমিনকে গ্রেফতার করেছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়নের ছোট ঝাকইর গ্রামের রেজাউল ইসলামের মেয়ে ইউনিয়ন সদরের কাঞ্চনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করার সময় ধর্ষক আল-আমিন তাকে প্রায়ই অশ্লীল প্রস্তাব দেয়। এ ঘটনার জের ধরে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ধর্ষক আল-আমিন কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে পাশের একটি বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী বাড়িতে এসে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এর প্রেক্ষিতে বুধবার রাতে তার বাবা ৩ জনকে আসামি করে আদমদীঘি থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। মামলার আসামিরা হলো- বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার গোপাই সাহবাজপুর গ্রামের আজাবুলের ছেলে আল-আমিন, তার আপন খালা উপজেলার ছোট ঝাঁকইর গ্রামের আহাদ আলীর স্ত্রী হাসিনা ও তার ছেলে আলিম উদ্দিন।

আদমদীঘি থানার ওসি শওকত কবির মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মূল আসামি ধর্ষক আল-আমিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর দুই আসামিকে গ্রেফতারের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার বগুড়া মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া : বগুড়ার শাজাহানপুরে এক গৃহবধূকে (১৯) ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে ভাসুরকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে থানার এএসআই তাহের খরনা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। আটক ভাসুর উপজেলার খরনা ইউনিয়নের জোরগাড়ী গ্রামের আবদুস সোবহানের পুত্র আবদুল মজিদ (৩০)।

ভিকটিম গৃহবধূ জানান, ৫-৬ মাস পূর্বে খরনা জোরগাড়ী গ্রামের মৃত ওসমান আলীর পুত্র সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তার স্বামীর চাচাতো বড়ভাই আবদুল মজিদ তাকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিত। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানানো হলেও কোন কাজ হয়নি। একপর্যায়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আবদুল মজিদ ঘরে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় চিৎকার দিলে তার স্বামী ও বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে আবদুল মজিদ তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে জানানো হয়।

খরনা ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান শাহিন জানান, বিষয়টি জানার পর গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে আবদুল মজিদকে ধরে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

এএসআই তাহের জানান, আটক আবদুল মজিদ বখাটে স্বভাবের। তার বিরুদ্ধ থানায় পূর্বের মামলা রয়েছে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close