logo

orangebd logo
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী
পাচ্ছেন না ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বৈশাখী ভাতা
রাকিব উদ্দিন

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতাসহ নানাভাবে আর্থিক বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। তারা পাচ্ছেন না পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস ও মেডিকেল ভাতা। বৈশাখী ভাতাও পাচ্ছেন না। বাড়িভাড়া পাচ্ছেন মাত্র এক হাজার টাকা। এজন্য সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি এমপিওভুক্ত হাইস্কুল, কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন করে আসছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) হিসেবে, বর্তমানে দেশে ২৬ হাজার ৮১টি সাধারণ স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা, ৭৭৫টি কারিগরি কলেজ এবং কারিগরি স্কুলসহ প্রায় ২৮ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। ১৯৯৪ সালে এমপিওভুক্ত (বেতনের সরকারি অংশ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে বেতনের সরকারি অংশকে (এমপিও) বলা হতো 'অনুদান'। অষ্টম পে-স্কেলে এটিকে বলা হয়, 'অনুদান সহায়তা'।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন, সরকার সমর্থক ও প্রগতিশীল ঘরানার জাতীয় শিক্ষক-কর্মচারী ফ্রন্ট, কারিগরি শিক্ষক সমিতি, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামী

ঐক্যজোটসহ বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। এছাড়া বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠনগুলোও জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টের অন্যতম সমন্বয়কারী ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, 'শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য দূর করার জন্যই আমরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ চাই। কারণ সমযোগ্যতা, দক্ষতা ও একই দায়িত্ব পালন করেও বেসরকারি শিক্ষকরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এটা চলতে পারে না। তাছাড়াও দেশের প্রায় ৯৫ ভাগই শিক্ষকই বেসরকারি। তাদের অবহেলিত রেখে শিক্ষার গুণগত উন্নতি সম্ভব নয়।'

তিনি আরও বলেন, 'কতিপয় আমলার কারণে মন্ত্রী আমাদের দাবিসমূহ বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকলের জন্য ঢালাওভাবে শিক্ষকদের দায়ি করা হচ্ছে। অথচ শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার জন্য ২০১০ সালেই শিক্ষা আইনের খসড়া করা হয়। কিন্তু এটি জাতীয় সংসদে যাচ্ছে না কেন, কোথায় আটকে রয়েছে, আমরা জানতে চাই।'

এ ব্যাপারে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, 'শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্য না কমালে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত বিকাশ ও বৈষম্য কমানোর জন্যই আমরা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণ চাই।'

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা মাসে এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া পান। সর্বশেষ বেতন কাঠামো অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুলাই এই বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ করে সরকার। এর আগে তারা ১০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পেতেন। কিন্তু মহাজোট সরকারের সময়ে ২০১৪ সালে শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ অর্থাৎ অষ্টম বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষকদের মেডিকেল ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ ব্যাপারে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রামী ঐক্যজোটের প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম রনি সংবাদকে বলেন, 'এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও ৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা নিয়ে একজন শিক্ষক রাজধানী, জেলা, উপজেলায় ঠিকে থাকতে পারেন না। এ কারণেই আমরা এমপিওভুক্ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ চাই। তা না হলে শিক্ষার গুণগত মান বাধাগ্রস্ত হবেই।'

শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি শিক্ষকরা মূল বেতনের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ঈদ বোনাস পেলেও বেসরকারি শিক্ষকদের তা দেয়া হয় ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীদের দেয়া হয় ৫০ শতাংশ। আবার সর্বশেষ বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নের পর থেকে ইনক্রিমেন্টও নেই, একটিমাত্র টাইমস্কেল ছিল সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে বেতন বাড়লেও সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে আর্থিক বৈষম্য কমেনি।

অষ্টম পে-স্কেল (বেতন কাঠামো) অনুযায়ী ২০১৬ সালের জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা ৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন। কিন্তু বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা ইনক্রিমেন্ট পাচ্ছেন না। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বিভিন্ন সময়ে ঘোষণা দিয়েছেন, অষ্টম পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি শিক্ষকরা যে সুবিধা পাবেন, বেসরকারি শিক্ষকরাও তা পাবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাউশি'র একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, 'বেসরকারি শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। কারণ দেশে সরকারি হাইস্কুল ও কলেজ রয়েছে মাত্র ৬৬৫টি। আর এমপিওভুক্তসহ সারাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ২৮ হাজার এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতি মাসে সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক হাজার কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে অল্পকিছু অর্থ যোগ করলেই এসব প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের আওতায় আনা যায়। কিন্তু আমলাদের অসহযোগিতার কারণে এটা সম্ভব হচ্ছে না।'

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close