logo

orangebd logo
প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে নানা অনিয়ম দুর্নীতি
মৃত ব্যক্তিকে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসার নামে টাকা আদায়
বাকী বিল্লাহ

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালে বেড বাড়ানোর অনুমোদনের আগে বাড়তি রোগী ভর্তি করা হয়। সেখানে অনুমোদন ও পরিদর্শনের নামে স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নানা সুবিধা নিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি একটি সরকারি সংস্থা রাজধানীর একাধিক প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অনুসন্ধান চালিয়ে অনিয়ম উদঘাটন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিফতরের একটি মহল নানাভাবে অনিয়মের মাধ্যমে ক্লিনিকগুলোর অনুমোদন দেয়।

তদন্তে জানা গেছে, মহাখালীতে একটি মেডিকেল সেন্টারে (হাসপাতালের) ৭০টি বেডের অনুমোদন রয়েছে। তারা সম্প্রতি ১১০ বেডের উন্নীত করার অনুমোদন চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছে। কিন্তু সরেজমিনে তদন্ত করে দেখছেন অনুমোদনের আগে উক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১১০ বেডের ব্যবহার করছেন।

রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি ও চক্ষু চিকিৎসার অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালটি এর বাইরে ডায়ালাইসিসসহ কিডনি চিকিৎসা এবং আইসিইউ স্থাপন করেছে।। মোহাম্মদপুর খিলজি রোডে একটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতালে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া অন্য কোন অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মিরপুরে একটি হাসপাতালে ৫০ বেডের অনুমোদন থাকলেও হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৬০ বেড রয়েছে। এভাবে বহু হাসপাতালে চলছে অনিয়ম।

অভিযোগ করা হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা কর্তৃক প্রয়োজনীয় লোকবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে হাসপাতাল, ক্লিনিকের অনুমোদন ও নবায়নের অন্যতম শর্ত হিসেবে সরেজমিনে পরিদর্শন ও অন্যান্য শর্ত ছাড়াই অনৈতিকভাবে শুধু আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অধিকাংশ ছোটখাটো প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। যার কারণে শর্ত ও নীতিমালা অনেক হাসপাতালে অনুসৃত হচ্ছে না বলে তাদের প্রতিবেদনের উল্লেখ করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানেসথেসিয়া, অ্যানালজেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. দেবব্রত বণিক জানান, আইসিইউ নিয়ে সরকারের নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা দরকার। এটা নিয়ে ব্যবসা করার মনোভাব থাকা ঠিক নয়। আইসিইউ নিয়ে আলাদা টিম থাকা দরকার। আইসিইউর জন্য সব সুযোগ-সুবিধা না থাকলে অনুমোদন দেয়া ঠিক না। আর কিডনি, ডায়ালাইসিস অনুমোদন না থাকলেও নানা কৌশলে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এসব কিছু একটি নিয়মে থাকা দরকার। যারা নিয়ম মানছে না তারা অপরাধ করছে বলে তিনি জানান।

এদিকে র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্স থেকে জানা গেছে, র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত বিভিন্ন সময় নানা অনিয়মের কারণে রাজধানীর একাধিক নামিদামি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করছে। এরপরও থামছে না অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রতারণা। যেমন গত বছর ২৫ এপ্রিল রাজধানীর হাতিরপুলে একটি জেনারেল হাসপাতালের এনআইসিইউ পরিচালনার সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও এনআইসিইউ বাণিজ্য এবং মৃত রোগীকে ভর্তি রেখে টাকা আদায়সহ অনিয়মের অভিযোগে ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করছে।

রাজধানীর ঝিগাতলা একটি নামিদামি হাসপাতালে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত নানা অনিয়মের অভিযোগে ওই হাসপাতালের ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। গত বছর ৯ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে ১ বছর ৪ মাস বয়সের একটি শিশুকে আইসিইউ রুমে মারা গেলেও শিশুটিতে জীবিত দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসার নামে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়েছে। এছাড়াও অনভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা শিশু রোগের চিকিৎসা করা, মেডিকেল বোর্ড গঠনের কোন ব্যবস্থা না থাকা, বিভিন্ন রোগের টেস্টে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা, ১২ ধরনের এন্টিবায়োটিকসহ অননুমোদিত ওষুধ বিক্রিসহ নানা অনিয়মের কারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে।

র‌্যাব হেডকোয়ার্টার্সের জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নার্সিংহোমে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নানা অনিয়ম উদঘাটন করে সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করছে।

এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাজধানীসহ সারাদেশের প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান সত্ত্বেও থামছে না অনিয়ম ও দুর্নীতি।

এ সম্পর্কে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের এডিজি প্রশাসন ও বিএমএ নেতা ডা. ইহতেশামুল হক মুঠোফোনে জানান, অনিয়মের মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিকে বেড সংখ্যা বাড়ানো, শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে হাসপাতাল ও আইসিইউ চালু করা সবই বেআইনি। এগুলো যারা করছে তারা মারাত্মক অপরাধ করছে। তাদের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে তিনি মনে করেন।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close