logo

orangebd logo
রামপাল নিয়ে ইউনেস্কো রিপোর্ট
সরকার প্রকৃত বিষয় আড়াল করছে
১২ বিশিষ্ট নাগরিক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

ইউনেস্কোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোথাও সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সংস্থাটির আপত্তি তুলে নেয়ার কোন বক্তব্য নেই বলে দাবি করেছেন দেশের ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন। সরকার প্রকৃত বিষয়টি আড়াল করে রামপাল প্রকল্প বাস্তাবয়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করছে বলে গতকাল এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, 'রামপাল প্রশ্নে সরকার তার নৈতিক, বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সব যুক্তির ভিত্তি হারিয়েছে। সারাদেশ ও বিশ্ব জনমতের প্রতি সম্মানপ্রদর্শনপূর্বক অবিলম্বে রামপাল প্রকল্প বাতিল বা স্থানান্তর করুন।'

বিবৃতি দানকারী বিশিষ্ট নাগরিকরা হলেন- অ্যাড. সুলতানা কামাল, সৈয়দ আবুল মকসুদ, রাশেদা কে চৌধুরী, খুশী কবির, অধ্যাপক বদরুল ইমাম, অধ্যাপক এমএম আকাশ, ইফতেখারুজ্জামান, এম শামসুল হুদা, রুহিন হোসেন প্রিন্স, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ডা. মো. আবদুল মতিন ও শরীফ জামিল।

বিবৃতিতে বলা হয়- ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম সভায় সুন্দরবনের সনি্নকটে প্রস্তাবিত রামপাল কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যে এগারোটি ধারা রয়েছে, এর ৪র্থ ধারায় সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, সুন্দরবনসহ বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের ওপর রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রভাব নিয়ে

একটি কৌশলগত পরিবেশ প্রভাব সমীক্ষা সম্পন্ন করার আগে কোন ধরনের বড় শিল্প বা অবকাঠামো নির্মাণ করা যাবে না বা অগ্রসর হওয়া যাবে না।

আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে এ বিষয়টি নিয়ে সরকার নানা ধরনের বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা আড়াল করার চেষ্টা করে রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে চাচ্ছেন। ইউনেস্কোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কোথাও সুন্দরবনের কাছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ইউনেস্কোর আপত্তি তুলে নেয়ার কোন বক্তব্য নেই। বরং ইউনেস্কো মনিটরিং মিশন রিপোর্টে উলি্লখিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানি, বায়ুদূষণ, জাহাজ চলাচল, ড্রেজিং, ভালো পানি অপসারণজনিত ক্ষতিকর প্রভাব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে এবং সরকারকে বিষয়সমূহের পরিবেশগত মূল্যায়ন (ইআইএ) সম্পন্ন করে 'কৌশলগত পরিবেশ প্রভাব' প্রতিবেদনের (এসইএ)'র সঙ্গেই ডিসেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির নিকট মূল্যায়ন রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য কমিটির ৪৩তম সভায় পর্যালোচনা করা হবে বলেও ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আমরা ইউনেস্কো কর্তৃক দাবিকৃত এসব সমীক্ষা, যোগ্য ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করার দাবি জানাচ্ছি। ইউনেস্কোর প্রতিবেদন ও ৪১তম সভার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে যে, রামপাল প্রশ্নে বাংলাদেশের বিজ্ঞানী, পরিবেশকর্মী, নাগরিকসমাজ ও আপামর জনতার উদ্বেগ ও এটি সুন্দরবনের পাশ থেকে সরিয়ে নেয়া বা বাতিলের জোর দাবিটি পুরোপুরিই সঠিক ছিল এবং রামপাল প্রশ্নে সরকার তার নৈতিক, বৈজ্ঞানিক এবং এমনকি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সব যুক্তির মূল ভিত্তি হারিয়েছে।

অতএব আমরা সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন সংস্থাসমূহের পক্ষ থেকে সুন্দরবন বিনাশী রামপাল প্রকল্প নির্মাণ স্থগিত, ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সিদ্ধান্তের প্রতি প্রতিশ্রুত আনুগত্য বজায় রাখা এবং পাশাপাশি আর বিভ্রান্তিকর বক্তব্য না দিয়ে বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের জনমতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনপূর্বক দ্রুত রামপাল প্রকল্প বাতিল বা স্থানান্তরের জন্য আমরা সরকারের নিকট আমাদের জোর দাবি পুনর্ব্যক্ত করছি।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close