logo

orangebd logo
চিকুনগুনিয়া সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে
* বেড়ে চলেছে ঝুঁকি
বাকী বিল্লাহ

মশাবাহিত ভাইরাস জ্বর চিকুনগুনিয়া এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা যেখানে যাচ্ছে সেখানে অন্যরা আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক এবং যাদের ডায়বেটিক ও হার্টে সমস্যাসহ অন্য জটিল রোগ আছে তাদের প্রথমে জ্বর ও পরে শ্বাসকষ্ট দেখা দিচ্ছে। এমনকি কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। তবে মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষজ্ঞদের মতে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি নেই।

এদিকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু ও কর্মহীন হয়ে পড়ছে বহু নারী-পুরুষ। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামেও একটি মহল প্রতারণা বাণিজ্য করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম, বগুড়া, দিনাজপুর, গোপালগঞ্জ, জয়পুরহাট, হবিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, নরসিংদীসহ বিভিন্ন স্থানে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস জ্বর ছড়িয়ে পড়েছে বলে ল্যাবরেটরিতে বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. দেবব্রত বণিত বলেন, চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত একজন ঢাকা থেকে গ্রামে গেলে সেখানে মশা কামড়ালে আরেকজন আক্রান্ত হবে। এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস কোন কারণে ব্রেনে গেলে তাতে গুরুতর সমস্যা হতে পারে। এটাইকে ব্রেন অ্যাটার্ক বা ভাইরাল এনকাফালাইটিস ভাইরাস বলা হয়। অনেকের বোমি হলে বা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরে কোন কারণে এ সমস্যা হবে। আর এখন অনেকেই হাত-পা ও জয়েন্টে প্রচ- ব্যথার কারণে অনেকের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

রাজধানীতে আক্রান্ত অনেকেই পারিবারিক সেবা পেতে নিজ গ্রামে চলে যাচ্ছে। সেখানে তাদের থেকে অন্যরা আক্রান্ত হয়েছে। আবার অনেকেই ব্যবসা ও ছুটিতে, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাইরে এখন বিচ্ছিন্নভাবে এ রোগে আক্রান্ত হলেও এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামী কোরবানির ঈদের সময় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে। তাই মশা দমনের বিকল্প নেই।

কীটতত্ত্ব ও প্রাণীবিদ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু জ্বরের বাহক এডিস মশা দুই ধরনের রয়েছে। এডিস ইজিপটাই ও এডিস এলবোপিকটার্স নামে এই দুই ধরনের মশা। তবে চিকুনগুনিয়ার বাহক হচ্ছে এডিস ইজিপটাই মশা।

আক্রান্ত কেউ ঢাকা থেকে গ্রামে গেলে অথবা গ্রাম থেকে ঢাকায় বেড়াতে আসলে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে যে মশা কামড়ায় সেই মশা আরেকজনকে কামড়ালে তার চিকুনগুনিয়া হচ্ছে। এভাবে দ্রুত চিকুনগুনিয়া ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন।

মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে সারাদেশে আক্রান্তদের খোঁজ নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, চিকুনগুনিয়া ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়লে দুই সিটি করপোরেশন ও মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। চিকিৎসার জন্য ডাক্তারদের গাইডলাইন দেয়া হচ্ছে। আর মশা দমনে দুই সিটি করপোরেশন কাজ করছে। এরপরও ছড়িয়ে পড়ছে চিকুনগুনিয়া।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, আক্রান্তদের সম্পর্কে সর্বক্ষণ খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হবে তাদের কমপক্ষে সাত দিন মশারি টানিয়ে ঘুমানো উচিত। আর নতুন করে অন্যদের আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে এবং মশা দমনে সচেতনতামূলক প্রচারণা ও চিকিৎসা গাইডলাইন দেয়া হচ্ছে। গতকাল নরসিংদীতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইন চলছে।

বিশেষজ্ঞ সূত্র জানায়, গতকাল পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মহাখালী রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার গবেষণাগারে প্রায় ৭০০ জনের রক্ত পরীক্ষা করে চিকুনগুনিয়ার জীবাণু পাওয়া গেছে।

গুঞ্জন : চিকুনগুনিয়ার মতো জ্বর হয়। এরপর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই মারা গেছেন। এমন ব্যক্তিগত তথ্য অনেকেই জানিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অভিযোগ সঠিক নয়।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্বব্দ্যালয়ের প্রো-ভিসি (গবেষণা) প্রফেসর ডা. শহীদুল্লাহ শিকদার বলেন, তারা চিকুনগুনিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তার কার্যালয়ে একটি বৈঠক করেছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ডা. কামরুল হাসান খান সংবাদকে জানান, চিকুনগুনিয়া নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এটা ভাইরাসজনিত রোগ। বেশি অসুবিধা হলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর ব্যাপকভাবে চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস ইজিপটাই মশা নিধন করতে হবে। আর জ্বর হলেই চিকুনগুনিয়া নয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তি রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখায় পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা নিলে ভালো হবে।

এ দিকে আমাদের রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলাজুড়েই এখন চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাই চিকুনগুনিয়া আতঙ্ক কাটাতে ও রোধে মাঠে নেমেছেন তারাব পৌরসভার হাসিনা গাজী। গতকাল সকাল থেকেই পৌরসভা কার্যালয় এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশক নিধন অভিযান শুরু করেছেন। এছাড়া পৌর বাসিন্দাদের মাঝে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হাত মাইক দিয়ে মাঠে নেমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পৌরসভার মেয়রের এ ধরনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পৌরবাসী।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close