logo

orangebd logo
জাতীয় অনলাইন নীতিমালা-২০১৭
তিন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের পর নিবন্ধন
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সব অনলাইন গণমাধ্যমকে 'জাতীয় সমপ্রচার কমিশনে'র কাছ থেকে নিবন্ধন নেয়ার বিধান রেখে 'জাতীয় অনলাইন নীতিমালা, ২০১৭' এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে বর্তমানে যেসব সংবাদপত্র, বেতার ও টেলিভিশন অনলাইন ভার্সন পরিচালনা করছেন, তাদের নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে না। তাদের অনলাইন ভার্সন ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সম্প্রচার কমিশনকে অবহিত করতে হবে। সম্প্রচার কমিশন গঠনের পূর্ব পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখভাল করবে তথ্য মন্ত্রণালয়।

গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনলাইন নীতিমালা অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে এক হাজার ৮০০টি অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'এর মধ্যে কিছু অনুমোদন দেয়া হয়েছে। 'জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা, ২০১৪' অনুযায়ী সব সমপ্রচার মাধ্যমকে সমপ্রচার কমিশনের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। কমিশন সমপ্রচার মাধ্যমগুলোর মনিটরিংয়ের কাজও করবে।

'নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধনের একটা বিষয় রাখা হয়েছে' জানিয়ে তিনি বলেন, 'অনলাইন গণমাধ্যমকে কমিশনের কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। কমিশন হচ্ছে প্রস্তাবিত সমপ্রচার কমিশন। জাতীয় সমপ্রচার আইন যখন পাস হবে তখন কমিশন এঙ্সিটেন্সে (দৃশ্যমান) চলে আসবে।'

শফিউল আলম বলেন, 'আমাদের যে গণমাধ্যম নীতিমালা রয়েছে সেটার আলোকেই এটা করা হয়েছে। অনলাইন

মিডিয়া যাতে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজ করে। এটাতে (অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা) অনেকগুলো বিষয় গাইডলাইন হিসেবে দেয়া আছে।'

পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন ভার্সনের নিবন্ধন লাগবে না :

বর্তমানে কার্যক্রম চালানো সব অনলাইনকে কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, 'যারা পত্রিকা বের করে তাদের যদি অনলাইন ভার্সন প্রয়োজন হয় তবে তাদের আর নতুন করে নিবন্ধন করতে হবে না। তারা যে ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন আইনে লাইসেন্স নিয়েছে সেটা কন্টিনিউ (অব্যাহত) করবেন। তবে এই তথ্যটা কমিশনকে জানাতে হবে এবং নিবন্ধন ফি দিতে হবে।'

তিনি বলেন, 'নির্দিষ্ট আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ও নিবন্ধিত বলে বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকেও অনলাইন ভার্সনের জন্য কমিশনের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে না। অনলাইন গণমাধ্যমের নিবন্ধন ফি কমিশন নির্ধারণ করবে। কমিশন যে ফি নির্ধারণ করবে তা দিতে হবে।'

অনলাইন গণমাধ্যমের পরিচালনা পদ্ধতি (কোড অব গাইডেন্স) কী হবে সেটা সম্প্রচার কমিশন তৈরি করে সবাইকে অবহিত করবে বলে জানান শফিউল আলম।

যতদিন কমিশন গঠন হচ্ছে না, ততদিন অনলাইনগুলো কীভাবে চলবে- সে সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিউল আলম বলেন, 'ততদিন তথ্য মন্ত্রণালয় এর ব্যবস্থাপনা করবে।' সমপ্রচার আইন না হওয়ায় সমপ্রচার কমিশনের কাঠামোর বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি :

অনলাইন গণমাধ্যমের কোন তথ্য-উপাত্তের কারণে কোন বিষয়ে কেউ সংক্ষুব্ধ হলে তিনি অভিযোগ করতে পারবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'কমিশন এ অভিযোগ ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে। কোন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে কমিশন শুনানি করে নির্দেশনা জারি বা জরিমানা আরোপ করতে পারবে। জরিমানা কত হবে তা সমপ্রচার আইনে বলা থাকবে।'

জানা গেছে, নীতিমালা পরিপন্থী তথ্য প্রকাশ এবং দেশের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পেলে কমিশন সংশ্লিষ্ট অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। স্বপ্রণোদিতভাবেও তারা এ কাজ করতে পারবে। কমিশন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবে সরকারের কাছে।

একই সঙ্গে কমিশন আইনের বাস্তবায়ন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিধিবিধান প্রণয়নের জন্য অংশীজনদের পরামর্শ নিতে পারবে। অনলাইন গণমাধ্যম ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের জন্য একটি অনুসরণীয় নিয়মকানুন তৈরি করবে সম্প্রচার কমিশন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, 'বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুক্ত, ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুভূতি, সংবাদ ও তথ্যমূলক অনুষ্ঠান, উন্নয়ন ও বিনোদনমূলক কর্মকা-, শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বক্তব্য, পণ্য, পণ্যের মান ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, শিশু ও নারীর অধিকার বিষয়ে ২০১৪ সালের জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালায় যে বিধান আছে সেই বিধান এখানে প্রযোজ্য হবে।'

অনলাইন গণমাধ্যমের সংজ্ঞার বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, 'নীতিমালায় অনুযায়ী অনলাইন গণমাধ্যম বলতে বাংলাদেশের ভূখ- থেকে হোস্টিং করা বাংলা, ইংরেজি বা অন্য কোন ভাষায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইন্টারনেটভিত্তিক রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে সমপ্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত স্থির ও চলমান চিত্র, ধ্বনি ও লেখা বা মাল্টিমিডিয়ার অন্য কোন রূপে উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ বা সমপ্রচারকারী বাংলাদেশি নাগরিক বা বাংলাদেশে নিবন্ধিত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝাবে।'

অনলাইন গণমাধ্যম রাষ্ট্র বিরোধী কোন কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা নীতিমালায় বলা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে সচিব বলেন, 'অনলাইন নীতিমালায় এ বিষয়ে সরাসরি বলা নেই। এ সংক্রান্ত অন্য আইন এখানে প্রযোজ্য হবে। অনেকগুলো আইন আছে যেমন-সেন্সরশিপ অব ফিল্মস অ্যাক্ট-১৯৬৩, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০০৬, কপিরাইট ট্রেডমার্কস প্যাটেন্ট আইনসহ অন্য যে কোন আইন সেগুলো এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সেটা যদি লঙ্ঘন করে তাহলে সেজন্য দায়ী হবে।'

গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের পর নিবন্ধন :

অনলাইন গণমাধ্যম নিবন্ধন দিতে ইতোমধ্যে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে বলে তথ্য অফিদফতর সূত্রে জানা গেছে। সংস্থাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন পাঠালে নীতিমালা অনুযায়ী নিবন্ধন দেয়া হবে।

জানা গেছে, অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকে ওয়েজ বোর্ডের নিয়মকানুন অনুসরণ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সব কর্মীর বেতন-ভাতা ব্যাংকের মাধ্যমে দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা আবশ্যকীয়।

বিজ্ঞাপন প্রকাশের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বিদেশি কূটনীতিক ও জাতীয় বীরদের অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপুনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। তবে গণসচেতনতা ও সমাজসংস্কারমূলক বিজ্ঞাপনে দেশের স্বনামধন্য নাগরিকদের সম্মতি নিয়ে বিজ্ঞাপনে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

অনলাইন নীতিমালায় তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সমপ্রচার সংক্রান্ত বিষয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং সব ধর্মের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। অনলাইন গণমাধ্যমে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করা যাবে। তবে কৌতুক বা পরিহাস করার জন্য আঞ্চলিকতা রাখা যাবে না। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ধারাকে তুলে ধরার পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হবে।

অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য প্রচার নয় :

নীতিমালায় বলা হয়েছে, অনলাইন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত বা সমপ্রচারে কোন প্রকার অসঙ্গতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য তথ্য বা উপাত্ত দেয়া যাবে না। সব তথ্য-উপাত্তে উভয় পক্ষের যুক্তি যথাযথভাবে উপস্থাপনের সুযোগ থাকতে হবে।

অনলাইন নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, তথ্য-উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সমপ্রচার করার ক্ষেত্রে দ্য সেন্সরশিপ অফ ফিল্মস অ্যাক্ট-১৯৬৩, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০৬, কপিরাইট, ট্রেডমার্কস, প্যাটেন্টস-ডিজাইন ও জিআই আইনসহ অন্য মেধাসম্পদ আইন বা দেশের প্রচলিত আইন ও তার অধীন বিধি-বিধান লঙ্ঘন করে বা জাতীয় নীতিমালার পরিপন্থী তথ্য উপাত্ত প্রচার, প্রকাশ ও সমপ্রচার করা যাবে না।

জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, তথ্য-উপাত্ত স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে প্রচার বা প্রকাশ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকার প্রধানের ভাষণ, জরুরি আবহাওয়া বার্তা, স্বাস্থ্যবার্তা, গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা, প্রেসনোট, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান।

সব গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সংবাদ ও প্রকাশিত বা প্রচারিত অনুষ্ঠানের বিষয়ে ছয় মাস বা এক বছর পরপর প্রতিবেদন নেবে সম্প্রচার কমিশন। পরে তা সরকারের কাছে পেশ করা হবে। কমিশন অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনও করবেন।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close