logo

orangebd logo
শূন্য মার্জিনে ব্যাংকে এলসি খোলা যাবে
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

চাল আমদানিতে এলসি মার্জিনের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেখাতে ব্যাংকগুলো নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে এখন থেকে ব্যাংকগুলো শূন্য মার্জিনে চাল আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খুলে দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের ব্যাংক ব্যালেন্স থাকার দরকার নেই। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সমপ্রতি হাওর এলাকায় বন্যা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চালের স্বাভাবিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বাজারে চালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে শূন্য মার্জিনে ঋণপত্র স্থাপনের জন্য পরামর্শ দেয়া যাচ্ছে। এই নির্দেশনা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

জানা গেছে, চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে এই খাদ্যশস্য আমদানিতে শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করে সরকার। এর সঙ্গে রেগুলেটরি ডিউটি তিন শতাংশ যোগ হওয়ায় ব্যবসায়ীদের ২৮ শতাংশ শুল্ক গুণতে হয়। ফলে গত দেড় বছর ধরে বেসরকারি পর্যায়েও চাল আমদানি প্রায় বন্ধ। কিন্তু এবার আগাম বন্যায় হাওরে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে (১০ টাকা কেজি দরের চাল) সাড়ে সাত লাখ টন চাল বিতরণ করায় সরকারি মজুদ তলানিতে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারিভাবে মোট ছয় লাখ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা করা হয়। এর মধ্যে প্রথম এক লাখ টনের দরপত্রও দেয়া হয়েছে। এছাড়া বোরোর ঘাটতি পূরণের জন্য আউশের মৌসুমে বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হবে বলে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জরুরিভিত্তিতে সরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য ২৮ মে ভিয়েতনামের প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানানোর পর সে দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ভিনাফুড-২-এর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল আসে। তাদের সঙ্গে ৪-৫ জুন বৈঠক করে বাংলাদেশের ৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রতি মেট্রিক টন ৪৩০ মার্কিন ডলার দরে দুই লাখ টন আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। এতে প্রতি কেজি চালের আমদানি মূল্য পড়বে ৩৪ টাকা ৮০ পয়সা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা হিসেবে)। এতে দুই লাখ টন চাল আমদানিতে খরচ পড়বে ৬৮৮ কোটি টাকা। এর সঙ্গে জাহাজভাড়া, বীমাসহ অন্যান্য খরচ যোগ হবে। এছাড়া ভিয়েতনাম সরকারের কাছ থেকে সরকারিভাবে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানি করবে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে জাহাজভাড়া, বীমাসহ অন্যান্য খরচ বাদে প্রতি টন চালের মূল্য পড়বে ৪৭০ ডলার। এই দরে চাল আমদানি হলে প্রতি কেজির আমদানি মূল্য হবে ৩৭ দশমিক ৬০ টাকা। এই দরে ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানিতে খরচ হবে ১৮৮ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে সরকারিভাবে চাল আমদানির প্রয়োজন পড়ছে না। বরং পরীক্ষামূলকভাবে শ্রীলঙ্কায় ৫০ হাজার টন চাল রপ্তানিও করা হয়। তবে বেসরকারিভাবে কিছু চাল আমদানি হয়। এজন্য চলতি অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেটে চাল আমদানির জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। তবে মজুদ বৃদ্ধির জন্য দেশীয় বাজার থেকে চাল সংগ্রহের জন্য বাজেটে ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। ইতোমধ্যে এই অর্থ থেকে স্থানীয়ভাবে ধান-চাল সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে সরকার।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close