logo

orangebd logo
কক্সবাজারে পাহাড়ে কয়েক লাখ মানুষ ঝুঁকিতে
* চলছে মাইকিং * সরতে নারাজ বসবাসকারীরা
শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার

কক্সবাজারের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে কয়েক লাখ মানুষ। পাহাড়ধসের একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও প্রতিদিন সমানতালে চলছে পাহাড় কাটা ও নিত্য নতুন বসতি স্থাপনের কাজ। শুধু তাই নয়, বছরজুড়ে কোন না কোন উপজেলা কিংবা ইউনিয়নে পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা লেগেইে রয়েছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে কক্সবাজার পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছে কয়েক লাখ মানুষ। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমেও প্রাণহানির আশঙ্কা স্থানীয়দের।এদিকে গত ৬ দিনের টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে নতুন করে খাগড়াছড়ি ও সিলেটে পাহাড়ধসে অন্তত ১৫৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১৪ জুন সকালে কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার হোয়াইক্যংয়ে পাহাড়ধসে মারা গেছে পিতা ও কন্যা।পাহাড় ধ্বসে এই প্রাণহানির খবরে ভাবিয়ে তুলেছে কক্সবাজার জেলাবাসীকে। বিশেষ করে পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরতদের মাঝে দেখা দিয়েছে অজানা আতঙ্ক। অন্যদিকে প্রাণহানি ঠেকাতে পাহাড়ি এলাকায় কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকৃতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রতিদিন পাহাড়ি এলাকায় শুরু করে দেয়া হয়েছে সচেতনতামূলক মাইকিং। যাতে করে পাহাড়ের পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা লোকজন নিরাপদ স্থানে সরে আসে।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কাজী মো. আবদুর রহমান গত শনিবার দৈনিক সংবাদকে বলেন, পাহাড়ের পাদদেশেএবং পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে টানা মাইকিং করা হচ্ছে। যদি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকে তাহলে প্রশাসনের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের নিরাপদে সরিয়ে আসতে বাধ্য করা হবে।সরেজমিন গিয়ে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যখনই ভারী বর্ষণ হয় কিংবা বর্ষা মৌসুমে বর্ষণের মাত্রা বাড়ে তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসরতদের নিরাপদ স্থানে সরে আসতে মাইকিং করা হয়। এমনকি অনেক সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির লোকজন গিয়ে তাদের নিরাপদে সরিয়ে আনে। এতে করে কিছু কিছু লোক সরে আসলেও বেশিরভাগ লোক সরে আসতে চায় না। ফলে প্রশাসনের কথা কর্ণপাত না করে নিরাপদ স্থানে সরে না আসার কারণে ঘটে প্রাণহানি কিংবা সম্পদহানির ঘটনা। বিশেষ করে জেলা সদর ছাড়াও রামু, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী এসব এলাকায় পাহাড়ের ঢালুতে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে লক্ষাধিক মানুষ। এসব এলাকায় লোকজন বৃক্ষহীন পাহাড়, সরকারি খাস জায়গা দখল করে বসবাস করছে দীর্ঘ সময় ধরে। তবে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, বসবাসকারীদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। এই রোহিঙ্গারা পাহাড়ে বসবাসের পাশাপাশি নির্বিচারে নিধন করে পাহাড়ি গাছ।বন বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় প্রায় ১০ হাজার একরের বেশি বনভূমি অবৈধ দখলে করে লোকজন বসবাস করছেন। আর ওই বসবাসকারীরা বর্ষা মৌসুমে নির্বিচারে পাহাড় কাটা শুরু করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকায় নানা কৌশলে চলছে পাহাড় কাটা। শহরের ঘোনার পাড়া, মোহাজের পাড়া, বৈদ্যঘোনা, বইল্ল্যাপাড়া, জাদি পাহাড়, খাজা মঞ্জিল এলাকা, বাদশাঘোনা, ফাতেরঘোনা, ইসলামপুর, হালিমা পাড়া, লাইট হাউজ পাড়া, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এলাকা, দক্ষিণ ঘোনারপাড়া, রহমানিয়া মাদ্রাসা এলাকা, পাহাড়তলি, বাঁচা মিয়ারঘোনা, হাশেমিয়া মাদ্রাসার পেছনে, সাহিত্যিকা পল্লী, বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে, লারপাড়া, সদর উপজেলা কার্যালয়ের পেছনে, পাওয়ার হাউস, লিংকরোড, কলাতলী বাইপাস সড়কের দুই পাশের বিশাল পাহাড়ি এলাকা, হিমছড়িসহ জেলা শহরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়কাটা চলছে। পাহাড় কেটে সমতল করে বসতি নির্মাণ করছে। ফলে পাহাড় কাটার কারণে প্রতিবছরই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ওইসব এলাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাসবাস করে আসছে লক্ষাধিক পরিবার। পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড় কাটার কারণে নিহতের তালিকা হলেও পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে যাচ্ছেন জেলার ৮ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ।কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম বলেন, গত মে মাসেও একাধিক অভিযান চালিয়ে ৫টির বেশি ট্রাকসহ পাহাড় কাটার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই পুনরায় পাহাড় কাটা চলে। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শহরের একাধিক পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তৈরির দায়ে গত কয়েক মাসে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় শতাধিক দখলদারের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা করা হয়েছে। অন্য দখলদারদেরও তালিকা তৈরি হচ্ছে।এদিকে সচেতন মহলের অভিযোগ শুধু বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র পাহাড়ে ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিয়ে প্রশাসনের মায়া-কান্না করলে হবে না। বর্ষার শুরুর আগে বা যে কোন সময় প্রশাসন কঠোরভাবে স্থায়ী কোন সিদ্ধান্তে না যায় তাহলে বারবার পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা লেগেই থাকবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close