logo

orangebd logo
গ্যাস সংকট নিরসনে এলএনজি আমদানি হচ্ছে
ফয়েজ আহমেদ তুষার

এলএনজি আমদানির মাধ্যমে ২০১৮ সালের মধ্যেই দেশে চলমান গ্যাস সংকটের লাঘব হবে। বর্তমানে দৈনিক ৭শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। আমদানিকৃত এলএনজি থেকে দৈনিক এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। চাহিদার বিপরীতে গ্যাস উৎপাদন কম হওয়ায় ২০০৮ সাল থেকেই সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে; বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পোৎপাদন। এ সময় গ্যাসের উৎপাদন বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চাহিদা। সংকট মোকাবিলায় এলএনজি আমদানির সরকারি উদ্যোগ অবশেষে বাস্তবায়ন হতে চলেছে। কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান গ্যাস সংকটের বিকল্প হিসেবে এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) বিশেষ অবদান রাখবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করবে বলে মনে করছেন বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা।তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সরকারি এই উদ্যোগ বর্তমানে বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। গত সোয়া এক বছরে এই খাতে মার্কিন কোম্পানি এঙ্লিারেট এনার্জি, বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ, ভারতের পেট্রোনেট, রিলায়েন্স, ওসিএল, কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত এলএনজি কোম্পানি, জাপানের মিটসুই, চীনের এইচকিউসিসহ বিশ্বের খ্যাতনামা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং আলোচনায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়েছে। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যেই দেশে দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হবে; কাতার থেকে আমদানিকৃত এলএনজির মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।দেশে সরকারি-বেসরকারি খাতের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা থাকার পরও গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন অন্তত এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের চাহিদার যোগান দেয়া হচ্ছে ব্যয়বহুল জ্বালানি (ডিজেল, ফার্নেশ) তেল পুড়িয়ে। অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। গ্যাস সংকটের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পোৎপাদন। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা) বিদ্যুতের খরচ তিন টাকার বেশি নয়। ডিজেল দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ কেন্দ্রভেদে ১১ থেকে ১৮ টাকা পর্যন্ত। এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সাত থেকে আট টাকার মধ্যেই রাখা সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্যানুযায়ী দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৫ হাজার মেগাওয়াটের (ক্যাপটিভ ২ হাজারসহ) বেশি; এরমধ্যে ৬২ শতাংশ গ্যাস এবং ২৯ শতাংশ জ্বালানি তেলভিত্তিক উৎপাদন। গত ১৮ এপ্রিল সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৯ হাজার ২১২ মেগাওয়াট। আসন্ন রমজানে চাহিদা থাকলে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার যোগান দিতে তেলের ব্যবহার বাড়ছে; বাড়ছে উৎপাদন ব্যয়। গত ২৯ এপ্রিল দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১শ ১৫ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা। এরমধ্যে ৬ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার ২৫৫ টাকার গ্যাস খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১শ ০৩ দশমিক ৭৭ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা। একই দিনে ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ৭২ হাজার ৪৮১ টাকার তেল খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা। চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কম খরচে আরও ৪৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো। গত ৮ মে চাহিদা বেশি থাকায় মোট ১৯০ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা (আমদানিসহ) বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। গ্যাসে ১১৫ দশমিক ৪৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা এবং তেলে ৫৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে। খরচ হয়েছে যথাক্রমে প্রায় ৭ কোটি ৪৮ লাখ এবং ৫৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিনই প্রায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে এই ব্যয়ের কিছুটা তারতম্য হচ্ছে।পিডিবির তথ্যানুযায়ী, শুধু জ্বালানির খরচ ধরে- আনুমানিক ৫ কোটি টাকার গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১০০ মিলিয়ন ইউনিট (কিলোওয়াট/ঘণ্টা); অপরদিকে ৪০ কোটি টাকার তেল খরচ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় মাত্র ৫০ মিলিয়ন ইউনিট। সে হিসেবে ১ কোটি টাকার গ্যাসে যেখানে ২ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ হয়; সমপরিমাণ বিদ্যুৎ তেল দিয়ে উৎপাদনে লাগে ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ গ্যাসের চেয়ে তেলে খরচ ১৫ গুণ বেশি। সংশ্লিষ্টদের মতে, তেলের চেয়ে এলএনজি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ অর্ধেক কমে আসবে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৪শ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘনফুট)। উৎপাদন হচ্ছে গড়ে ২ হাজার ৬শ ৫০ এমএমসিএফ। ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে এলএনজি তুলনামূলক সাশ্রয়ী।প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এলএনজি আমদানির উদ্যোগ আওয়ামী লীগ (বর্তমান) সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তত ৪টি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। মহেশখালী এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকা 'ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প' এর অধীনে রয়েছে। এলএনজি আমদানির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চলমান বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭০ ভাগই ২০৪১ সালের মধ্যে অবসরে (মেয়াদ শেষ) চলে যাবে। তাই নতুন নতুন বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী '২০২১ সালের মধ্যে সবার ঘরে বিদ্যুৎ প্রদান' এবং ভিশন-২০২১ অনুযায়ী 'মধ্যম আয়ের দেশ'-এ রূপান্তরের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এলএনজি (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) আমদানির মাধ্যমে অন্তত ৫শ এমএমসিএফ গ্যাসের চাহিদা পূরণের উদ্যোগ নেয় সরকার ২০১১ সালে। এ লক্ষ্যে কঙ্বাজারের মহেশখালী দ্বীপে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে সরকার অনেক আগে থেকেই চিন্তাভাবনা শুরু করে। তবে বিষয়টি জটিল এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় দেশি-বিদেশি বেসরকারি খাত থেকে আশানরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি এই প্রতিবন্ধকতা দূর হয়েছে। এলএনজি খাতে দেশি বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।চুক্তি অনুযায়ী সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান 'সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি প্রাইভেট লিমিডেট' টার্মিনাল নির্মাণে তাদের কাজ শুরু করেছে। ২০১৮ সালের মধ্যেই এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়ন শেষে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন এক হাজার এমএমসিএফ গ্যাস যুক্ত করা সম্ভব হবে। ১৫ বছর পর পেট্রোবাংলার কাছে টার্মিনাল হস্তান্তর করবে তারা।এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রসঙ্গে সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান বলেন, এটি বর্তমান সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ। বিশ্বের অনেক দেশই এখনও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। এলএনজি আসলে চট্টগ্রাম এলাকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালানো সম্ভব হবে। ফলে গ্যাস সংকটের কারণে বিপর্যস্ত শিল্পনগরীটি আবার প্রাণ ফিরে পাবে।এদিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতারের সঙ্গেও সরকারের সাম্প্রতিক আলোচনা আশানুরূপ অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুত দুটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার পথে থাকায় কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত এলএনজি কোম্পানি থেকে এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। স্থলভাগে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছে পাওয়ার সেল। এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কারিগরি বিষয়গুলো দেখার জন্য বেলজিয়ামের কোম্পানি টেট্রাপেল এবং ইনিশিয়াল এনভায়রনমেন্ট এসেসমেন্ট (আইইই) প্রভাব নিরূপণের জন্য ভারতীয় কোম্পানি ইআরএমের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এলএনজি টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য ভারতের পেট্রোনেট এলএনজি লিমিটেড ও পেট্রোবাংলা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। কুতুবদিয়ায় দৈনিক ৫শ এমএমএসসিএফ গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনে রিলায়েন্স পাওয়ারের সঙ্গে এবং এলএনজি সহযোগিতার লক্ষ্যে ভারতের অয়েল করপোরেশন লিমিটেড ওসিএল-এর সঙ্গে পেট্রোবাংলার আরও দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ভারতের বেসরকারি কোম্পানি রিলায়েন্স পাওয়ার একশ' কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে ঢাকার অদূরে মেঘনাঘাটে ৭৫০ মেগাওয়াট (প্রথম পর্ব) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে এবং জ্বালানি হিসেবে এলএনজি ব্যবহার করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছে বিক্রি করবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ভবিষ্যতে ৩ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার কেন্দ্রে উন্নীত হবে।আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার নতুন পাইপ লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। এই পাইপলাইন নির্মাণের ফলে প্রকল্প এলাকাসহ ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিভাগে বিদ্যমান ও নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও অন্যান্য শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গৃহীত গ্যাস সেক্টর উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে এসব প্রকল্প শিল্পোৎপাদন ও কর্মস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং জিডিপিতে অবদান রাখবে।জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকরা জানান, লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাসের (তরলীকৃত প্রকৃতিক গ্যাস) অপর নাম এলএনজি; যা একটি পরিবেশ বান্ধব জ্বালানি। প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় (বায়বীয়) অবস্থায় থাকে। তাই আমদানি প্রক্রিয়া তেলের মতো সহজ নয়। প্রাকৃতিক গ্যাস শীতলকরণ (রেফ্রিজারেশন) প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে তা তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসই হচ্ছে এলএনজি। ৬শ লিটার গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরিত করে মাত্র এক লিটারের বোতলে ভরা যায়। এই পদ্ধতিতে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি সহজ। জাহাজে করে আমাদানিকৃত এলএনজি এনে সাগরে ভাসমান টার্মিনাল (ফ্লটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন টার্মিনাল ইউনিট-এফএসআরইউ) কিংবা স্থলে স্থাপিত টার্মিনালে মজুদ করা হয়। এর পর মজুদকৃত তরল প্রকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল থেকে আবার গ্যাসে রূপান্তর (রি-গ্যাসিফিকেশন) করে পাইপলাইনে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চায়না, ভারত, তাইওয়ানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ পরিবেশবান্ধব এলএনজি আমদানির মাধ্যমে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করছে।জ্বালানি খাত সংশ্লিদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাপেঙ্ ও বিদেশি কয়েকটি কোম্পানি দেশের জলে ও স্থলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সমুদ্রবক্ষে অথবা স্থলে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে এ সংক্রান্ত অবকাঠামো উন্নয়ন করে গ্রাহকপ্রান্তে গ্যাস সরবরাহ করতে অন্তত ৫ থেকে ৬ বছর সময় প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে দেশের বেশ কিছু বড় গ্যাস ক্ষেত্রের মজুদ যথেষ্ট পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। ফলে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও সার্বিকভাবে গ্যাসের ঘাটতি রয়ে যাবে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে গ্যাসের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অতিরিক্ত চাহিদা মেটানোর জন্য আমদানিকৃত এলএনজি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close