logo

orangebd logo
আ'লীগের বড় চ্যালেঞ্জ একাদশ সংসদ নির্বাচন
উন্নয়নের প্রচারণা শুরু : কোন্দল মেটাতে তৃণমূলে কেন্দ্রীয় নেতারা
ফয়েজ আহমেদ তুষার

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ; চলছে সাংগঠনিক প্রস্তুতি। আগেভাগেই (নির্বাচনের এখনও পৌনে দুই বছর বাকি) নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করেছে দলটি। নির্বাচনে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে- গত ৮ বছরে সরকারের উন্নয়ন চিত্র সাধারণ মানুষের নজরে আনা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কোন্দল মীমাংসা এবং জঙ্গিবাদ ও স্বাধীনতাবিরোধীদের বিপক্ষে জনমত সৃষ্টি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, বিতর্কিতদের (বিদ্রোহী, বহিষ্কৃত ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী) পরিবর্তে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের বহুমুখী (গোয়েন্দা ও দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে) জরিপ চলছে। সংবিধান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে জোর প্রস্তুতি চলছে দলটির।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বিলুপ্ত হওয়ায় একাদশ সংসদ নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে; যা মানতে নারাজ বিএনপি। একই ইস্যুতে দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল তারা। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে আসছেন। ইতোমধ্যে কয়েকটি জনসভার বক্তব্যে নৌকাকে আবারও ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও সেবা করার সুযোগ দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দলীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে দিয়েছেন দিকনির্দেশনা, নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও চলছে। বিতর্কিত নেতাদের আচরণ শোধরানোর জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, আগামীতে আমরা ভালো নির্বাচন দেখতে চাই। সেজন্য এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। গ্রামে-গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় গিয়ে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে হবে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মনে করে নির্বাচন বর্জনের ভুল বিএনপি আর করবে না। রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দলের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিএনপি একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকদের বেশিরভাগেরও অভিন্ন বিশ্বাস। ১৪ দল ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা নিবন্ধিত দলগুলোও মনে করে, আর যাই হোক, যে কাঠামোয়ই হোক না কেন-বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আসবে। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ; যা আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

তাই আগামীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সম্প্রতি (১৪তম অধিবেশন চলাকালে) অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে তৃণমূলে দলীয় কোন্দল মেটানোর জন্য দলের সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। যেসব সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে নানা বিতর্কিত কার্যকলাপে জড়িয়েছেন তাদের শুধরানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সবার আমলনামা আমার কাছে রয়েছে। জনগণের সঙ্গে ভালো আচরণ করুন। জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই আগামীতে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে।

আওয়ামী লীগের দফতর সূত্রে জানা গেছে, দলে বিভক্তি এড়াতে ছোটখাটো অপরাধে তৃণমূলের কাউকে দল থেকে বহিষ্কার না করা এবং কমিটি বিলুপ্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী নির্বাচনে না এলে বিএনপির নিবন্ধন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আমার তো মনে হয় না তারা (বিএনপি) এই ঝুঁকি নেবে। এখন যাই বলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে আসবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে ২৫ এবং উপদেষ্টা পরিষদে সাতটি নতুন মুখ নিয়ে এসেছে। দায়িত্ব নেয়ার পর পরই তৃণমূলে দল গোছানোর কাজে নেমেছেন নতুন নেতারা। সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একের পর এক জেলা সফর করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন তিনি। নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকরাও দায়িতপ্রাপ্ত এলাকায় সংগঠন গুছিয়ে নিচ্ছেন।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনে অর্ধশতাধিক নতুন মুখ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবে। যারা পূর্বে বহিষ্কৃত হয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন, বিদ্রোহী প্রার্থীকে সহযোগিতা করেছেন, দুর্নীতির কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন, নিজ এলাকা থেকে জনবিচ্ছিন্ন থেকেছেন, এসব বিতর্কিতদের এবার বাদ দেয়া হবে। বিরোধপূর্ণ এলাকায় কোন্দল মীমাংসা না হলে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মধ্যেই জনসমর্থন প্রার্থী যাচাইয়ের কাজ চূড়ান্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ৮টি টিমে বিভক্ত হয়ে জেলা-উপজেলা সফর শুরু করেছেন। তারা জেলাভিত্তিক দলের জনসমর্থন, আগামী নির্বাচনে জনপ্রিয় প্রার্থীর তালিকা তৈরি করে দলের সভাপতির কাছে জমা দেবেন। শুধু দলীয় যোগ্যতা নয়, জনসম্পৃক্ততা, ক্লিন ইমেজ এবং উন্নয়ন কর্মকা-ে সম্পৃক্ততা মেপেই আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। দলীয় ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সমন্বয় করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবেন শেখ হাসিনা।

দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সান্তাহারের জনসভায় আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। যার ধারাবাহিকতা ছিল ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুরের এবং ২১ মার্চ মাগুরার জনসভাতেও। ২৯ মার্চ ফরিদপুর জেলায়, এপ্রিল মাসে ঠাকুরগাঁও, চুয়াডাঙ্গাসহ আরও একটি জেলায় জনসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এসব জনসভায়ও তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- মানুষের সামনে তুলে ধরে ভোট চাইবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দলীয় কোন্দল মীমাংসাকে অন্যতম চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলছে, যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। কিছু দিন আগে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামে মেয়র নাসির ও মহিউদ্দিন চৌধুরী দ্বন্দ্ব নিরসনে গিয়েছিলেন। গত জানুয়ারি থেকেই সাংগঠনিক সফর করছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা যেখানেই যাচ্ছেন জনসভা, কর্মিসভা বা সমাবেশ করছেন। এভাবে এই ৩ মাসে প্রায় ৪০টি জেলায় কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। ফেব্রুয়ারিতে খুলনায় বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা হয়েছে। ইতোমধ্যে রংপুর, রাজশাহী, সিলেট বিভাগেও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্য বিভাগেও প্রতিনিধি সভা হবে। এছাড়া দলের সহযোগী সংগঠনগুলোরও সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগেই এসব সম্মেলন সম্পন্ন হবে।

রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রচারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের এসব উদ্যোগ ও সফলতা অনেকটা আড়ালে-আবডালে থেকে যাচ্ছে। তাই এসব উদ্যোগ ও সফলতা প্রচারের জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি গাইডলাইন দেয়া হয়েছে। উদ্যোগগুলে হলো_ একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রম, নারীর ক্ষমতায়ন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বিনিয়োগ বিকাশ এবং পরিবেশ সুরক্ষা।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close