logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
মায়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত
রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের অবসান
সংবাদ ডেস্ক

মায়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে গত ৪ মাস ধরে চলা সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার স্থানীয় সময় রাতে মায়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাউন্সেলর দফতর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে একথা জানানো হয়েছে।

এদিন বিবৃতিতে মায়ানমারের নতুন নিয়োগ পাওয়া নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং টুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, 'উত্তর রাখাইনের পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল হয়েছে। সামরিক বাহিনীর শুরু করা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন শেষ হয়েছে, সান্ধ্য আইন শিথিল করা হয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখার জন্য সেখানে শুধু পুলিশ উপস্থিত রয়েছে।' এছাড়াও মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট দফতরের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ও উত্তর রাখাইনে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই এলাকার 'শান্তি ও নিরাপত্তা' বজায় রাখার স্বার্থে সামরিক বাহিনী অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন তারা। এদিকে এ তথ্যের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি মায়ানমারের সামরিক বাহিনী। আল-জাজিরা।

গত ৯ অক্টোবর বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর ক্লিয়ারেন্স অপারেশন নামের এ সামরিক অভিযান শুরু করা হয়। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এরপর থেকে প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। সামরিক অভিযান চলার সময় ধারাবাহিকভাবে সহিংসতার খবর প্রকাশ পেলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঢেউ ওঠে। বলা হয়, উত্তর রাখাইনের মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী মায়ানমারের নেত্রী অং সাং সুচি তেমন কিছুই করেননি। রাখাইনে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, রোহিঙ্গাদের দলগত ধর্ষণসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ উঠলেও সব অস্বীকার করে সুচির নেতৃত্বাধীন মায়ানমার সরকার। এ প্রেক্ষিতে বিদ্রোহ দমনে আইন মেনেই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে দাবি করে তারা।

তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে করা একটি মন্তব্যের পর বিষয়টি আমলে নিতে বাধ্য হন সুচি। ৪ মাসের এ অভিযানে সম্ভাব্য মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নির্মূলের মতো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অভিযোগ করে জাতিসংঘ। এর পরই জাতিসংঘের এ অভিযোগ তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন সুচি। এরপর অভিযোগগুলো তদন্ত করতে দেশটির সামরিক বাহিনী ও পুলিশ দুটি পৃথক তদন্ত দল গঠন করে। এর প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাং টুন জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও এক দল কূটনীতিকের উপস্থিতিতে বলেছেন, 'ফৌজদারি অপরাধ, মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। যেখানেই লঙ্ঘনের পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যাবে, আমরা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রস্তুত, এটি আমরা দেখিয়েছি।'

রাখাইন থেকে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে নিযুক্ত জাতিসংঘের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, সম্ভবত উত্তর রাখাইনের ওই সামরিক অভিযানে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.