logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮, ১২ জানুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
২০১৭ সাল হবে ঘুষখোর আর দুর্নীতিবাজদের আতঙ্কের বছর
ফাঁদ পেতে ধরা হবে তাদের : দুদক চেয়ারম্যান
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, ২০১৭ সাল হবে ঘুষখোর আর দুর্নীতিবাজদের আতঙ্কের বছর। যেখানে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ সেখানেই হানা দেবে দুদক। দুর্নীতিবাজদের ধরতে ফাঁদ পাতা হবে। ঘুষ নেয়া এবং ঘুষ দেয়া দুটিই অপরাধ। আসুন ঘুষখোর আর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি।

গতকাল দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানের চেয়ার এসব কথা বলেন। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে দুদকের কর্মকা- এবং ২০১৭ সালে দুদকের কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে দুদক। সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং কমিশনার নাসিরুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ঘুষের লেনদেন ঠেকাতে এ বছর ফাঁদ মামলা বাড়ানো হবে। আর যেসব প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি বেশি হয় বলে জনশ্রুতি আছে, সেগুলোতে বাড়ানো হবে নজরদারি। দুদক কার্যালয়ের কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, দুদকের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গোয়েন্দা ইউনিট গঠন করা হচ্ছে। এই গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যদের হাতে হালকা অস্ত্র এবং নিরাপত্তা বিধি প্রণয়ন করা হবে। দুদকের প্রতিটি সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে আটক আসামিদের রাখার জন্য আটক কেন্দ্র (হাজতখানা) স্থাপন করা হবে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দখল থেকে লুণ্ঠিত সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্যও পৃথক ইউনিট গঠন করা হবে। দুদকে অভিযোগ দায়েরের জন্য ১০৬ নম্বরের একটি হটলাইন চালু করা হবে। আর এই ১০৬ নম্বরে ডায়েল করে যেকোন ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। এ বছর দুদকের গণশুনানি বাড়ানো হয়েছে। প্রতি মাসে তিনটি করে জেলা ও উপজেলায় দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুধু তাই নয়, গণশুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার তিনদিনের মধ্যে ফলোআপ শুনানি করা হবে। যেখানে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা চাই দুর্নীতির সব ঘাট বন্ধ করতে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়ম এবং ঘুষ, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দুদকের ভেতরে স্বচ্চতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে বিভাগীয় মামলা হয়েছে ২১টি, মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৯টি, কঠোর সাজা হয়েছে ৪টি, স্বল্পমাত্রায় সাজা হয়েছে ২টি এবং অন্যভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩টি। ২০১৬ সালে বিভাগীয় মামলা হয়েছে ২৬টি, মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬টি, কঠোর সাজা হয়েছে ২টি, স্বল্পমাত্রায় সাজা হয়েছে ২টি এবং অন্যভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২টি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৮৮ জনকে। তিনি বলেন, আগের থেকে এ বছর দুদকের গণশুনানি বাড়ানো হয়েছে। প্রতি মাসে তিনটি করে জেলা-উপজেলায় দুদকের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বেসিক ব্যাংকের মামলা থেকে জড়িতরা কেউ রেহাই পাবে না। এই ব্যাংকের কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৫৬টি মামলা হয়েছে। সবগুলো মামলাই দুদক তদন্ত করছে। সঠিক তদন্ত করতে সময় লাগছে। তার মানে এই নয় যে মামলা থেকে কেউ রেহাই পাবে। বেসিক ব্যাংকের আত্মসাৎ করা ৩৫৯ কোটি টাকা ফেরত এসেছে। মামলার পর বেসিক ব্যাংকের ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে ৩৪২ কোটি টাকা। এছাড়া বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলা একটি বড় বিষয়। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকের দুই হাজার ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪১ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৫৬টি মামলার চার্জশিট দিতে সময় লাগছে সঠিক তদন্তের জন্য। সঠিক তদন্তে নিরপরাধ কোন ব্যক্তি যেন যুক্ত না হয়, কিংবা কোন অপরাধী যেন পার না পায় সেদিকেও নজর রেখে তদন্ত করতে হচ্ছে কমিশনকে। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির মামলাগুলোর ১৫৬ জন আসামির মধ্যে ব্যাংকটির কর্মকর্তা ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণগ্রহীতা, ৫৪ জন প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে ৪৮টি, ডিএমডি ফজলুস সোবহানকে ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থকে ২৩টি এবং ডিএমডি এ মোনায়েম খানকে ৩৫টি মামলায় আসামি করেছে দুদক।

রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য হচ্ছে বলে দুদকের কাছে অভিযোগ রয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এজন্য সম্প্রতি ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দুদক তলব করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য ও নীতিমালা জানতে চাওয়া হয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তীতে দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। কেননা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি দুর্নীতি হয় তাহলে দুর্নীতি কোনভাবেই রোধ করা যাবে না।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, চিঠিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থী ভর্তির পদ্ধতি ও নীতিমালা, এ বছরের আসন সংখ্যাসহ অন্যান্য তথ্য ১২ জানুয়ারির (আজ) মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। গত ৯ জানুয়ারি ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত এসব চিঠি পাঠানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যেসব প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি পাঠানো হয়েছে সেগুলো হলো- মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অগ্রণী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এছাড়া রয়েছে ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হলিক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মণিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এবং রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.