logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮, ১২ জানুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
বাংলাদেশ
জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ
বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদন
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাহিদায় মন্থরগতির মধ্যেও চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। একই সঙ্গে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে গতকাল আন্তর্জাতিক ঋণদাতা এ সংস্থার অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদন 'গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস'- এ তুলে ধরা হয়েছে এই পূর্বাভাস।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক ৬ শতাংশের বৃত্তে 'আটকে' থাকার পর গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের 'ঘর' অতিক্রম করে। চূড়ান্ত হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। সরকার এবারের বাজেটে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ?্য ঠিক করেছে। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বিশ্বাস, আগামী দিনগুলোতে প্রবৃদ্ধি আর ৭ শতাংশের নিচে নামবে না।

বিশ্বব?্যাংক সরকারের প্রত?্যাশার সঙ্গে পুরোপুরি একমত হতে না পারলেও আগের প্রক্ষেপণ থেকে সরে এসেছে। 'গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস' এর জুন সংখ?্যায় বিশ্বব?্যাংক বলেছিল, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাবে না। আর ছয় মাস পর জানুয়ারির প্রতিবেদনে যে প্রক্ষেপণ তারা দিয়েছে, তা আগের হিসাব থেকে ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও বাহ্যিক চাহিদায় মন্থরগতির কারণে এবছর প্রবৃদ্ধি কমে যাবে। বাংলাদেশের মুদ্রার প্রবাহে শ্লথগতির কারণে ব্যক্তিখাতে ভোগ ব্যয় ও বিনিয়োগ উভয় খাতেই মন্দা যাচ্ছে। ফলে চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হবে। এছাড়া রেমিটেন্স প্রবাহ কমতে থাকায় এবং রপ্তানি খাতের দুর্বলতায় ২০১৭-১৮ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের মতে, রাজস্ব খাতে ভারসাম্যহীনতা এবং আর্থিক ও করপোরেট ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা কমে যাওয়া দেশের অর্থনীতির জন্য ঝুঁকির কারণ। সরকারি খাতে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করার কারণেও ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যু ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি রয়েই যাচ্ছে। ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণও ঝুঁকি বাড়াবে। আগামীতে বাংলাদেশের রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় কমবে। অন্যদিকে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমার কারণে আয়-ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ায় ব্যক্তি পর্যায়ে ভোগ কমবে। একই সঙ্গে কমবে বিনিয়োগ। রাজস্ব খাতে ভারসাম্য আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া না হলে এবং আর্থিক ও করপোরেট খাতে স্থিতিশীলতার অবনমন ঘটলে আরও শ্লথ হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি। ফলে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে। তবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে, প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপর ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়ে সাত শতাংশ হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশের অবস্থান হবে তৃতীয়। প্রথম অবস্থানে থাকবে ভুটান। দেশটির প্রবৃদ্ধি হবে ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকবে ভারত, তাদের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। চলতি অর্থবছর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ হবে। আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে ভারত। এছাড়া বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০১৭ সালে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিদায়ী বছরের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০১৬ সালে বিশ্বে ২ দশমিক ৩ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে ভূমিকা রাখবে উন্নয়নশীল অর্থনীতির উদীয়মান বাজার। তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও ব্রেঙ্টি।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close