logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯ পৌষ ১৪২৩, ১৩ রবিউস সানি ১৪৩৮, ১২ জানুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ
ইসি গঠনে এখনই আইন করাসহ ৪ দফা প্রস্তাব আ'লীগের
২৩টির সঙ্গে আলোচনা হলো আরও চলবে
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

রাষ্ট্রপতির কাছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে এখনই আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি এবং ই-ভোটিং প্রবর্তনসহ চার দফা প্রস্তাব করেছে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে এমন ১১টি বিষয়ও রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে। গতকাল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব করে দলটি। প্রায় দেড় ঘণ্টার এই আলোচনা শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ও দলটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনের দরবার হলে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচটি ইমাম, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, মোহাম্মদ জমির, সভাপতিম-লীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আইন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল মতিন খসরু, প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এ সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীনসহ সংশ্লিষ্ট সচিবরাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা প্রসঙ্গে জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে নির্বাচন নিয়ে কোন বিতর্ক হোক আওয়ামী লীগ তা চায় না। জনগণ যাকে চাইবে তারা নির্বাচিত হয়ে সরকার পরিচালনা করবে_ সেটাই আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যা উপযুক্ত মনে করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির গৃহীত যে কোনো ন্যায়সঙ্গত উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। আওয়ামী লীগ চার দফা প্রস্তাব করে বলেও জানান জয়নাল আবেদীন। প্রেস সচিব বলেন, আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ। অবাধ নির্বাচনে সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতায় একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন সম্ভব হবে বলেও রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।

আওয়ামী লীগের চার দফা প্রস্তাব হলো ১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮'র বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন। ২) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি যা উপযু্ক্ত বিবেচনা করবেন, সে প্রক্রিয়ায় তিনি নিয়োগ দেবেন। ৩) প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগের লক্ষ্যে সম্ভব হলে এখনই একটি উপযুক্ত আইন প্রণয়ন অথবা অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে ইসি পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তা সম্ভব না হলে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় যেন এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়, সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে এখন থেকেই সেই উদ্যোগ গ্রহণ করা। ৪) অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বিরাজমান সব বিধি-বিধানের সঙ্গে জনগণের ভোটাধিকার অধিকতর সুনিশ্চিত করার স্বার্থে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ই-ভোটিং চালু করা।

সংবাদ সম্মেলন

সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সংবিধান ও বিরাজমান সব আইন-কানুনের ওপর শ্রদ্ধাশীল। রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুগভীর প্রজ্ঞা ও সুবিবেচনার প্রতি আওয়ামী লীগের পরিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের সময় আমরা এই বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। এগুলো হলো ১) একটি স্বাধীন ও কার্যকরী নির্বাচনী প্রশাসন। ২) নির্বাচনকালীন নির্বাহী বিভাগের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/সংস্থার দায়িত্বশীলতা। ৩) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং এর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও নিরপেক্ষ আচরণ। ৪) ছবিযুক্ত একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা এবং ভোটগ্রহণের দিন নির্বাচন কেন্দ্রের সার্বিক নিরাপত্তা। ৫) নির্বাচন পরিচালনায় বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবর্তে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের প্রিজাইডিং অফিসার থেকে পোলিং অফিসার পদে নিয়োগ। ৬) আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদের নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল আচরণ। ৭) দেশি-বিদেশি পর্যটক থেকে শুরু করে মিডিয়া ও সিভিল সোসাইটির সদস্যদের নির্মোহ তৎপরতা। ৮) নির্বাচনে পেশি শক্তি ও অর্থের প্রয়োগ বন্ধ এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘু সমপ্রদায়সহ সকল পর্যায়ের ভোটারের অবাধ ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা। ৯) নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে এবং নির্বাচনের দিন ভোটারসহ সর্বসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ১০) নির্বাচনকালীন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচন পরিচালনার জন্য আবশ্যকীয় সকল সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত করা। ১১) নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি কেবলমাত্র আবশ্যকীয় দৈনন্দিন (রুটিন) কার্যাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চম দফায় সংলাপ

ইসি গঠন নিয়ে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করবেন রাষ্ট্রপতি। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, আগামী সপ্তাহে আরও কয়েকটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। এখন পর্যন্ত (গতকাল) ২৩টি দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন রাষ্ট্রপতি।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর ইসি গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেন রাষ্ট্রপতি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ ২৩টি দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশে মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪০। আগামী মাসে বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close