logo

orangebd logo
অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিল করুন

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপপ্রয়োগের শিকার হয়েছেন আরও একজন সাংবাদিক। এ ধারার অধীনে করা এক মামলায় গত মঙ্গলবার খুলনায় আবদুল লতিফ মোড়ল নামের এক সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আবদুল লতিফ ফেসবুকে একটি ছাগলের মৃত্যুর খবর শেয়ার করায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের মানহানি হয়েছে।৫৭ ধারা সাংবাদিক নির্যাতনের এক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। চলতি বছর এ ধারায় অন্তত ১৯ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দেশের আর কোন আইনে এত কম সময়ে এত বেশিসংখ্যক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে জানা যায় না। লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, এসব মামলার বেশিরভাগই করেছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী বা সমর্থকরা। শুধু সাংবাদিকরাই ৫৭ ধারার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হননি_ সম্পাদক-প্রকাশও এ ধারার শিকারে পরিণত হয়েছেন। গত মাসে দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক গোলাম মোস্তফাকে ৫৭ ধারার অধীনে করা এক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। তিনি ১৮ দিন জেলও খেটেছেন। 'আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না এমপি আবদুল মজিদ খান' শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশের জন্য তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।সংবাদ প্রকাশ বা ফেসবুকে কোন সংবাদ শেয়ার করার জন্য একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার হতে হবে বা জেল খাটতে হবে সেটা কোন গণতান্ত্রিক দেশের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। একজন মানহানির অভিযোগ আনার সঙ্গে সঙ্গে কোন সাংবাদিককে গ্রেফতার করার অপসুযোগ তৈরি করে দিয়েছে ৫৭ ধারা। ক্ষমতাসীন দলের একশ্রেণীর নেতাকর্মী মহাউৎসাহে এ অপসুযোগ গ্রহণ করছে। আর মামলা হওয়ার পর ততোধিক উৎসাহে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করে জেলে পুরছে পুলিশ। অথচ সরকার বলেছিল ৫৭ ধারা সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করা হবে।পুলিশকে কথিত অপরাধ আমলে নেয়ার ও বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করার বস্নাঙ্ক চেক দেয়া হয় যে আইনে সেই আইন সতর্কভাবে প্রয়োগ করা হবে সেই আশা করা বোকামি। এ আইন করার সময়ই আমরা পুলিশের হাতে এ ধরনের ক্ষমতা দেয়ার বিরোধিতা করেছিলাম। কিন্তু আইন প্রণেতারা সেটা আমলে নেননি। ৫৭ ধারার শিকার শুধু সাংবাদিকরাই হচ্ছেন না, শিক্ষকসহ অন্যান্য পেশাজীবী মানুষও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ ধারার বিরুদ্ধে দেশে জনমত গড়ে উঠলেও এটা বাতিলে সরকার গড়িমসি করে চলেছে। সংসদে তথ্যমন্ত্রী এ ধারার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। আমরা তার সেই অবস্থানে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হয়েছি। যে ধারা সংবিধান বর্ণিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে স্পষ্টতই ক্ষুণ্ন করে সেই ধারার পক্ষে একজন তথ্যমন্ত্রী সাফাই গান কী করে সেটা একটা প্রশ্ন।৫৭ ধারা বাতিলের একটি অনিশ্চিত প্রক্রিয়া চলেছে। পাশাপাশি ডিজিটাল আইনের খসড়ায় এ ধারাকে নতুন আঙ্গিকে আনার প্রক্রিয়াও চলছে। আমরা বলতে চাই, মতপ্রকাশের বা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করে এমন কোন বিধান থাকা উচিত নয়। এ ধরনের বিধান নতুন কোন আইনে যুক্ত করার প্রচেষ্টা চালানোও সঙ্গত নয়। কোন প্রকাশিত সংবাদ যদি কাউকে ক্ষুব্ধ করে থাকে তবে তিনি দেশের প্রচলিত ব্যবস্থাতেই প্রতিকার পেতে পারেন। এজন্য দেশে প্রেস কাউন্সিল রয়েছে। স্বাধীন মতপ্রকাশের পথে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা অপসারণ করা গণতান্ত্রিক সরকারের অবশ্য কর্তব্য।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close