logo

orangebd logo
গণসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রয়োজন

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যাতায়াতের মতো গণসেবা গ্রহণ করতে গিয়ে সমস্যা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা। অর্থায়ন, নীতি বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবে এ গুরুত্বপূর্ণ গণসেবাগুলো জনমুখী হচ্ছে না। বরং ক্ষুণ্ন হচ্ছে মৌলিক অধিকার। 'অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ'-এর গণসেবা নিয়ে এক গবেষণায় এমন চিত্র ফুটে ওঠেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হাসপাতালে গিয়ে ৪২ দশমিক ৫ ভাগ নারী সেবাপ্রদানকারীদের কাছ থেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হন। শতকরা ৫০ ভাগ নারী মনে করেন, বাজারে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ বা এ ধরনের ঘটনার শিকার হন। জরিপকৃত এলাকায় ৩০ ভাগ নারী মনে করেন যে, পুলিশ স্টেশনে তারা টিজিংয়ের শিকার হন এবং শতকরা ৩৫ জন মনে করেন যে, তারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, গণসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণকে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেয়ার কথা ভাবছে না। বিশেষ করে চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়ে গণসেবা নিতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। যারা সেবা দেন তারা আন্তরিক নন। আবার যারা সেবা দেয়ার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে বসে আছেন তাদের জেন্ডার নিয়ে তেমন ধারণাই নেই। তাই নারীরা সমস্যায় পড়েন বেশি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহিংসতার ঘটনা ঘটলে সেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেয়া হয় না। সেবা নিশ্চিত করতে সরকারের অনেক আইন ও নীতি আছে। তবে তার বাস্তবায়ন হয় না বলেই এমন অবস্থা। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে অপ্রতুল বাজেট বরাদ্দ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবও এ অব্যবস্থাপনার অন্যতম কারণ। আমরা জানতে চাই, সরকারি পর্যায়ে যারা গণসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেখভালের দায়িত্বে আছেন এসব অসঙ্গতি তাদের চোখে কেন পড়ছে না? মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে অথচ এসব নিয়ে কারও যেন কোন মাথাব্যথাই নেই। সমস্যার প্রকোপ বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রীয় এ উদাসীনতার অবদানও যথেষ্ট।

আমরা মনে করি, যদি গণসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন বজায় রাখা যেত তবে সমস্যা নিরসনের পথও অতি সহজে আবিষ্কৃত হতো। তবে এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সমস্যা নিরসনে সরকারকেই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সেবা নিশ্চিত করতে প্রচলিত যেসব আইন ও নীতি আছে তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। জেন্ডার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। সেবা দিতে যারা আন্তরিক নন তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হলে সমস্যার প্রকোপ অনেকাংশেই কমে আসবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close