logo

orangebd logo
নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রসঙ্গে
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে রোডম্যাপ ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, এ রোডম্যাপই সব নয়। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে এতে আরও সংযোজন-বিয়োজন করা যেতে পারে। আইনের মধ্যে থেকে সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা ব্যক্ত করেছেন সিইসি। নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও রাজনৈতিক দলগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ক্ষমতাসীন দলসহ জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে সংসদের বাইরে থাকা প্রধান দল বিএনপি এবং তার মিত্ররা নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, রোড দেখতে পাচ্ছি না, ম্যাপ দিয়ে কী হবে।বর্তমান নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। এ সময়ের মধ্যে দেশে যে কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে তাতে ইসিকে অভিযুক্ত করার মতো কোন উপাদান পাওয়া যায়নি। ইসির ঘোষিত রোডম্যাপকে এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দেয়া যায় না। রোডম্যাপে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রোডম্যাপ প্রশ্নে ইসিকে যথেষ্ট নমনীয় মনে হয়েছে। এতে সংযোজন-বিয়োজনের পথ খোলা আছে বলে জানিয়েছেন সিইসি। কাজেই আলোচনায় বসার আগেই এমন প্রশ্ন তোলা সঙ্গত হবে না যে, ম্যাপ দিয়ে কী হবে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া ইসির বিরুদ্ধে অনাস্থা বা বিদ্বেষ দেখানো হলে সেটাকে জনগণ ভালোভাবে নেবে না। রোড দেখতে না পেলে সেটা দেখতে পাওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে। হাতে একটা ম্যাপ থাকলে রোড খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা সহজ হবেই বলে আমরা মনে করি। ইসির রোডম্যাপ এক্ষেত্রে বিএনপির রোড খোঁজায় সহায়ক হতে পারে। এজন্য দলটিকে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখাতে হবে। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখাতে পারেনি বলে গত নির্বাচনে দলটিকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। আমরা আশা করব, রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনায় বিএনপি অংশ নেবে। সেখানে তারা তাদের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরবে। তাদের চিন্তা-ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসি কী পদক্ষেপ নেয় সেটা দেখে বিএনপি তাদের অবস্থান ঠিক করলে দলের জন্যও ভালো হবে, জনগণের কাছেও গ্রহণযোগ্য হবে।আমরা বিশ্বাস করতে চাই, রোডম্যাপ ঘোষণা বা এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির আলোচনার আয়োজন কোন আইওয়াশ নয়। ইসি যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আন্তরিক সেটা তাকে কাজে প্রমাণ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনার কাজটি ইসিকেই করতে হবে। ইসির পক্ষে সম্ভব এমন সব উদ্যোগ গ্রহণ করে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে এখন থেকেই। আইনি কাঠামোয় থেকে ইসিকে কাজ করতে হয় সেটা ঠিক আছে। তবে বিষয়টা যেন এমন না হয় যে, আইনের ধুয়া তুলে ইসি নিজেই নিজের হাত-পা বেঁধে রাখছে। অতীতে দেখা গেছে, ইসি আইনানুগ ক্ষমতা প্রয়োগ না করে বরং আইনের দোহাই দিয়ে অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে হলে ইসিকে তার সব ক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে। আর সেটা করতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় নিয়ে। আমরা আশা করি, বর্তমান ইসি এ বিষয়ে সচেতন আছে।
খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close