logo

orangebd logo
পাহাড় ধসের মূল কারণগুলো উদ্ঘাটন করুন

পাহাড় ধসের ঘটনায় গত রোববার শিশুসহ আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে পাহাড় ধসের এ বিপর্যয়ে পাঁচ জেলায় মারা গেছেন ১৬৪ জন। রাঙ্গামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চল এখনও বিপর্যস্ত। সেখানে চলছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। পাহাড় ধসের ঘটনায় রাঙ্গামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বসবাসের প্রয়োজনে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং বৃক্ষনিধনের কারণে ঘটছে একের পর এক পাহাড় ধসের ঘটনা। এক্ষেত্রে পাহাড়ি আদিবাসীদের চেয়ে নতুন বসতি স্থাপন করা বাঙালি অধিবাসীদের দায়টাই অপেক্ষাকৃত বেশি। পাহাড়িরা যুগ যুগ ধরে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পাহাড়ি এলাকায় বাস করে আসছেন। তারা ঠেকে পড়ে শিখেছেন, দাদার মুখ থেকে শুনেছেন কিভাবে ঘরবাড়ি বানাতে হবে_ কোন ধরনের ঘর, কোথায় বানালে তাদের জন্য নিরাপদ হবে_ তা ওরা জানেন জন্ম থেকেই। অন্যদিকে পাহাড়ে নতুন বসতি করা বাঙালিরা পাহাড়ে ঘরবাড়ি বানানোর চলনসই কৌশল জানেন না। সমতলের মানুষ যেভাবে, যে ধরনের বাড়িঘরে বসবাসে অভ্যস্ত ওখানেও তারা সেভাবেই একের পর এক ঘর বানিয়ে যাচ্ছেন। একদম খাড়া পাহাড়ের নিচে বাড়ি বানানো, অবলীলায় গাছ, পাহাড় কেটে ফেলে বাড়ির উঠান বানানো ইত্যাদি কারণে তারা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। অবাধে গাছ ও পাহাড় কাটার ফলে পাহাড়ের মাটি শুকনো ও ঝরঝরে হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অতি বৃষ্টির চাপ। এতে পাহাড়ের উপরের অংশের শক্ত মাটির স্তর বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে।

এবার পাহাড় ধসের যে বিপর্যয় ঘটল, তা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীরা প্রায় সবাই নিম্নবিত্ত ও শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ এবং যারা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন তাদের মধ্যে হতদরিদ্র পরিবারের সংখ্যাই বেশি। জীবিকার তাগিদে পাহাড়ের ঢালুতে পাহাড় কেটে তৈরি করা আবাসস্থলগুলোতে কম ভাড়ায় বসবাস করা যায়। বৃষ্টি শুরু হলেই মাইকিং করে লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া এবং কাগজে-কলমে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু বাস্তবে স্থায়ী ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ কখনোই নেয়া হয়নি। এসব কারণে প্রতি বছর প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কয়েক যুগ ধরে নানামুখী 'অত্যাচারের' ফলে ওই তিন পার্বত্য জেলার পাহাড়ের সামগ্রিক ভারসাম্য অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে। যেভাবে উন্নয়নের নামে সড়ক নির্মাণ, বসতি স্থাপন, বন ধ্বংস ও ঝরনা শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তারই পুঞ্জীভূত বহিঃপ্রকাশ আমরা এবারের ধসের মাধ্যমে দেখলাম। আমরা মনে করি, এ নিয়ে রাষ্ট্রকে অবশ্যই নতুন করে ভাবতে হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন আর না ঘটে, তিন পার্বত্য জেলা কঙ্বাজার ও চট্টগ্রামের ভৌগোলিক গঠনের কোনো পরিবর্তন হয়ে গেল কিনা, সামনে আরও কোনো বড় বিপর্যয় ঘটার শঙ্কা আছে কিনা, তা দ্রুত সমীক্ষা চালিয়ে বের করতে হবে। পাহাড় ধসে যাদের ক্ষতি হলো তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় যেন কোন অনিয়ম ও বৈষম্য না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত অধিবাসীদের পাহাড়ে বসবাসের কৌশল রপ্ত করতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটা, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা, সঠিক পদ্ধতি ব্যবহার না করে পাহাড় কেটে চাষাবাদ করা যাবে না।

মনে রাখা প্রয়োজন, সাম্প্রতিক এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে যদি আমরা শিক্ষা না নেই, পাহাড়ে আমাদের উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি যদি না বদলাই, তাহলে আগামীতে হয়তো আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close