logo

orangebd logo
বিদেশে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তোঘলকি নির্দেশ প্রত্যাহার করুন

আমাদের দেশে যেন একটি নিয়ম হয়ে গেছে যে মাথাব্যথা হলে মাথাটি কেটে ফেলতে হবে। পাকিস্তানিদের ফাঁদে পড়ে এদেশের কিছুসংখ্যক সাংবাদিক পাকিস্তানে গিয়েছে, সেখানে মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশবিরোধী ধারণায় তাদের মগজ ধোলাই হয়েছে এবং কেউ কেউ দেশে ফিরে পাকিস্তানের সুরে বাংলাদেশবিরোধী গান গাইতে শুরু করেছে।

উপরে বর্ণিত ঘটনাটি সত্য। পাকিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের কৌশল পাল্টেছে। ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশন নাকি এবার পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ পালন করেছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের পাকিস্তান দর্শনের নাম করে নানা কৌশলে পাকিস্তান নিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক নাকি পাকিস্তানিদের সাংবাদিক ধরবার এজেন্ট হিসেবে কাজও করছে। এটা পোষা হাতি দিয়ে বনের মুক্ত হাতিকে ফাঁদে ফেলার কৌশল অর্থাৎ পাকিস্তানিরা সেখানে পড়তে হবে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এখন সরাসরি বৈরিতা নয় 'মিত্রতার' আড়ালে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রাখার কৌশল নিয়েছে।

বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে আলোচিত হয়েছে। স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরপর মন্ত্রণালয় 'মাথাব্যথার কারণে মাথা কাটার' ফরমান জারি করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের সকল কূটনৈতিক মিশনকে গত বুধবার নির্দেশ দিয়েছে; বিদেশে বাংলাদেশের সকল বাংলাদেশি সাংবাদিকদের তৎপরতা বা কর্মকা- মনিটর করে ঢাকায় (মন্ত্রণালয়) রিপোর্ট পাঠাতে হবে। অর্থাৎ শুধু দেশের অভ্যন্তরে আইসিটি ধারা ৫৭ বা প্রস্তাবিত ডিজিটাইল সিকিউরিটিজ আইনে কুলোচ্ছে না বা কুলোবে না দেশের বাইরেও সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি করতে হবে।

পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে কোন কোন সাংবাদিককে 'রিক্রুট' করে বাংলাদেশবিরোধী ভূমিকা পালনের জন্য মগজ ধোলাই করছে বলে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে সেটা বন্ধ করা বা মোকাবিলা করার পন্থা কি বিদেশে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি করা? মোটেও তা নয়।

যেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকার করতে পারে সেটা হচ্ছে সাংবাদিকদের পাকিস্তান ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অথবা পররাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করে। সেটা না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেটা করল সেটা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিক রিক্রুট করবার পাকিস্তানির (আইএসআই) তৎপরতা অব্যাহত রাখার সুযোগ বহাল রেখে পাকিস্তানে বা অন্য দেশে গেলে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছে। মূল সমস্যাটি পাকিস্তানের অপতৎপরতাকে কেন্দ্র করে। সেটা বন্ধ করার কোন চেষ্টা না করে বা উদ্যোগ না নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমলাতান্ত্রিক কায়দায় সাংবাদিকদের মাথা কাটার নির্দেশ দিয়েছে।

আমরা মনে করি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটির গুরুত্ব এবং স্থায়ী কমিটির উদ্বেগ কোনটাই সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। হলে এমন তোঘলকি নির্দেশ তারা দিত না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিদেশে সাংবাদিকদের ওপর ঢালাও নজরদারির আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে। বাংলাদেশ পাকিস্তানিদের সাংবাদিক বা এজেন্ট রিক্রুটের তৎপরতা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের পাকিস্তানে যাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে যেন সরকারের জানার বাইরে কোন সাংবাদিক পাকিস্তান যেতে না পারে। প্রয়োজনে ফিরে আসার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে রিপোর্ট করার নিয়মও করা যেতে পারে। চূড়ান্ত অবস্থায় প্রয়োজনে পাকিস্তানে সাংবাদিকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধও করা যেতে পারে। এগুলো হচ্ছে সাংবাদিকদের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতা করার পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যথার্থ পদক্ষেপ। এগুলো না নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে নির্দেশ ঢালাও জারি করেছে বিদেশে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি করবার আমরা অবিলম্বে সেই নির্দেশ প্রত্যাহার করবার দাবি জানাচ্ছি।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close