logo

orangebd logo
পাঁচ বছরে টাকার পাহাড়
তদন্ত নেই, বিচার নেই, শাস্তি নেই

মাত্র পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের (বিএইচ হারুন) পরিবার বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। কীভাবে হয়েছে, তার স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা নেই বিএইচ হারুনের। ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বিএইচ হারুনের বিপুল সম্পদের সামান্য অংশ হচ্ছে রাজধানীর বনানীর বহুল আলোচিত দ্য রেইনট্রি হোটেল। কাগজে-কলমে হোটেলটির মালিকানা বিএইচ হারুনের স্ত্রী, তিন ছেলে ও মেয়ের নামে। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই বাণিজ্যিক হোটেল তৈরি করা হয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন ছাড়া। গত ২৮ মার্চ হোটেলটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন।

২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় বিএইচ হারুন ৩৮ লাখ টাকার অর্থসম্পদ দেখান। স্ত্রী মনিরা হারুনের নামে তখন কিছুই ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে হলফনামায় বিএইচ হারুন দেখান, তার নিজের ও স্ত্রীর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে ১৫ কোটি টাকা। এছাড়া নগদ ২ কোটি ৯০ লাখ, ব্যাংকে ৬৭ লাখ এবং ব্যাংকে স্থায়ী আমানত ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, গাজীপুরে ১৭ কাঠা, মিরপুরে ৫ কাঠা, বনানীতে সাড়ে ৬ কাঠা, বারিধারায় ৬ কাঠার একটি ও সাড়ে ৪ কাঠার আরেকটি প্লট রয়েছে তার। এসবের বাইরেও প্রিমিয়ার ব্যাংকের ২০১৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটটি কোম্পানিতে মালিকানা রয়েছে বিএইচ হারুনের, এর মধ্যে পাঁচটিরই চেয়ারম্যান তিনি। অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিএইচ হারুন গণমাধ্যমকে বলেন, 'সম্পদ তো তেমন বাড়েনি। যেগুলো বলছেন, এগুলো আগে থেকেই ছিল।' এ প্রসঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, অস্বাভাবিক আয় দেখানোটা মুশকিল বলেই আওয়ামী লীগের ২০০৯-১৪ সময়ের পাঁচ বছরে তিনি কোন আয়কর দিতে চাননি। পুরনো অর্থবছরসহ আয়কর আদায়ে তার বিরুদ্ধে এনবিআর সাতটি মামলা দায়ের করেছিল। এনবিআরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছর পর্যন্ত তিনি আয়করের ঝামেলাগুলো মিটিয়েছেন। কিন্তু দুই বছর ধরে আবার আয়কর রিটার্ন দাখিল করছেন না। ২০১৪ সালের জুলাইয়ে অভিযোগপত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিএইচ হারুনের বিরুদ্ধে পরে আর তা দেয়নি দুদক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তেও হারুনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছিল। স্বাক্ষর জালিয়াতি সত্ত্বেও প্রিমিয়ার ব্যাংক কীভাবে তাকে ঋণ দিল, সেই প্রশ্নও তুলেছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পরে আর এগোয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিএইচ হারুন একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে মাত্র পাঁচ বছরে, সম্পূর্ণ অনৈতিক পন্থায় অবৈধ টাকার পাহাড় বানাবেন, জনসমক্ষে ব্যাংকের টাকা লুট করবেন আর সে ব্যাপারে কেউ কোন সাড়া-শব্দ করবে না কিংবা এ নিয়ে কোনরকম তদন্তই হবে না, এর চেয়ে হতাশার আর কি হতে পারে! এই হারুন সাহেব শুধু যে অবৈধ অর্থের পাহাড় বানিয়েছেন তাই নয়, তিনি নিয়মিত আয়করও দিচ্ছেন না। আমরা জানতে চাই, কোন শক্তি বলে তিনি জবাবদিহির বাইরে অবস্থান করেন? কেন তার বিষয়ে দুদক কোন ফাইল খোলে না, বাংলাদেশ ব্যাংক কোন তদন্ত করে না? সামপ্রতিক সময়ে এ রকম বহু হারুন সাহেবের খবর গণমাধমে প্রকাশিত হচ্ছে যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করছেন, বিদেশে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছেন। এদের বিরুদ্ধে কোন রকম ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

হারুনের ঋণ জালিয়াতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা গত বুধবার গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি পুরো বিষয়টি জানেন না, জানতে চান না এবং জানাতেও চান না। জানাতে না চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা বলেন, 'জনসমক্ষে বলার মতো ঘটনা এটা না।' এক্ষেত্রে আমরা জানতে চাই, জনগণের অর্থে যার বেতনভাতা নির্ধারিত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেই মুখপাত্র কি করে বলেন যে তিনি কোন অনিয়মের তথ্য জনগণকে দেবেন না বা দিতে চান না। আমরা মনে করি, এটা তার ধৃষ্টতা। তিনি কখনই এ কথা বলতে পারেন না। জনগণ অবশ্যই জানার অধিকার রাখে যে তার সম্পদ কোথায় কি করে ব্যয় হচ্ছে। রাষ্ট্রের সম্পত্তি যে বা যারা অদৃশ্য ক্ষমতাবলে জবরদখলের চেষ্টায় লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সেই সঙ্গে হারুন সাহেবদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ম আরও ডালপালা ছড়াবে এবং আর্থিক খাত বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close