logo

orangebd logo
হার্টে রিং পরাতেও ধর্মঘটের বাধা

হৃদরোগীদের হার্টের রিং নিয়ে নৈরাজ্য কমাতে সরকার মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারই প্রতিবাদে রিং ব্যবসায়ীরা ধর্মঘট শুরু করেছে। কেবল ঢাকায়ই নয়, ধর্মঘটের কারণে গতকাল সারাদেশে চার শতাধিক রোগী জিম্মি হয়ে পড়ে রিং বিক্রেতাদের কাছে। রিং না পরানোর কারণে এসব রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। তাদের মধ্যে অনেককে এখন আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে নতুন করে শিডিউল পেতে। ফলে বাড়বে খরচ, সঙ্গে ভোগান্তি।

দেশে বছরে প্রায় ১৮ হাজার হার্টের রিং পরানো হয় হৃদরোগে আক্রান্ত মানুষের হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে। আর এই রিং নিয়ে নৈরাজ্যে মেতে উঠেছে ব্যবসায়ী চক্র ও কিছু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল। রোগীদের কাছ থেকে একই রিংয়ের দাম একেক জায়গায় একেক হারে আদায় করা হচ্ছে। ভারতে যে রিংয়ের দাম সাত হাজার ২৬০ রুপি, তা বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করলে হয় আট হাজার ৯২৯ টাকা। কিন্তু বাংলাদেশে ওই রিংয়ের দাম দীর্ঘদিন ধরেই আদায় করা হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি। যে যার মতো ইচ্ছানুসারে রিংয়ের দাম রাখছে। ফলে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হয়রানির শিকারও হচ্ছে। চিকিৎসা করাতে গিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন। রোগীদের এমন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন পরে হলেও উদ্যোগ নিয়েছিল ঔষধ প্রশাসন অধিদফতর। আমদানিকারকদের সার্বিক লভ্যাংশ নিশ্চিত করেই সরকার নির্ধারিত দাম রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নিয়ম নীতির কোনরকম তোয়াক্কা না করে, মুমূর্ষু রোগীদের জিম্মি করেই হাসপাতালগুলোতে রিং সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে আমদানিকারকরা।

আমরা মনে করি, রিং ব্যবসায়ীদের অবৈধ ধর্মঘট মেনে নেয়ার কোন যুক্তিই গ্রহণযোগ্য নয়। মুনাফাখোর কুচক্রী মহল যত শক্তিশালীই হোক না কেন জনস্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে রাষ্ট্রকে। জনগণকে যারা বিপদে ফেলছে তাদের উচিত সাজা দিতে হবে। যে অদৃশ্য শক্তির কারণে অন্যায়কারীরা মানুষকে জিম্মি করে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, সেই শক্তির মূলোৎপাটন অত্যন্ত জরুরি। আর এ কাজটি করতে হবে সরকারকেই। এর জন্য যতটুকু কঠোর হওয়া দরকার ততটুকু হতেই হবে। কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না।

হার্টের রিং একটি জীবন রক্ষাকারী অনুষঙ্গ। এই অতি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ নিয়ে যারা অতি মুনাফার সুযোগ খোঁজে তাদের অবশ্যই শনাক্ত করা দরকার। সরকারি নিয়ম না মেনে, রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে কেন ধর্মঘট করা হলো তার কারণও খুঁজে বের করা দরকার। আমরা আশা করব, সরকার তার জনবান্ধব নীতিতে আবশ্যিকভাবেই অটল থাকবে। জনস্বার্থের পরিপন্থী কাজকে কোন যুক্তিতেই অনুমোদন বা বৈধতা দেয়া হবে না। সেই সঙ্গে প্রত্যাশা থাকবে, সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন ধরনের সমঝোতার প্রশ্ন বিবেচিত হবে না। বরং জনস্বার্থে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে তা বাস্তবায়ন করতে হবে, রিং ব্যবসায়ীদের মুনাফাকারী চক্র ভাঙতে হবে। হৃদরোগাক্রান্ত মানুষকে রক্ষা করতে হবে।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close