logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করুন

গত সোমবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তৃতীয় বার্ষিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে খ্যাতিমান মানব উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সাকিকো পুকুদাপার বলেছেন, ওষুধ উদ্ভাবন ও ওষুধের সহজলভ্যতা একুশ শতকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক বাণিজ্য চুক্তি থাকার পরও বিশ্বব্যাপী ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। ওষুধ সহজলভ্য না হলে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জিত হবে না।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্যের অগ্রাধিকার বিবেচনা করে ওষুধ উদ্ভাবনেও বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত। জনঅগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় ওষুধের সহজলভ্যতা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ওষুধ উদ্ভাবনে যে হারে বিনিয়োগ করা উচিত সে হারে বিনিয়োগ করা হয় না। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগ অপর্যাপ্ত। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে সরকারের বরাদ্দই কম। ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রিতে ওষুধ কোম্পানি থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত মনোপলি বিজনেস এবং সিন্ডিকেট দুটোই করে। এর মাধ্যমে অন্যায় মুনাফা করে। ওষুধ কোম্পানিগুলো যুক্তি দেয় যে, গবেষণা ও পণ্য উন্নয়নের জন্য প্রচুর খরচ হয়। সেই খরচ পুষিয়ে নেয় ওষুধের দাম থেকে। ওষুধের দাম প্রাথমিক অবস্থায় বেশি থাকতেই পারে। সেটা কোনো সমস্যা নয়। সমস্যাটা হলো ওষুধ উৎপাদন বেড়ে যাওয়ার পরও যখন ওষুধের দাম কমানো হয় না। দেখা যায় যে, ওষুধের দাম উৎপাদনের পর যেটা ধরা হয়, সেটাই বলবৎ থাকে। ৬ মাস বা এক বছর পর দাম আর কমানো হয় না। বরং দাম আরও বাড়ে।

দেখা যায়, অন্যান্য পণ্যের দাম কমানো হলেও ওষুধের দাম কমানো হয় না। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই দরিদ্র। এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে সমস্যায় পড়ে ওষুধ কিনতে গিয়ে। কোনো রোগে আক্রান্ত হলে ওষুধ কিনতে তাদের আয়ের একটি বড় অংশই চলে যায়। এতে তারা হিমশিম খায়। আয়ের বড় অংশ যদি ওষুধ কিনতে চলে যায় তা হলে তাদের বাকি চাহিদাগুলো মেটাবে কী করে। খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্রসহ অন্যান্য চাহিদা মেটাবে কী করে সেটাই প্রশ্ন। দেখা যাচ্ছে যে, স্বাস্থ্য খাতেই একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে মানুষের আয়ের।

ওষুধ উদ্ভাবনে যে হারে বিনিয়োগ করা প্রয়োজন, সে হারেই বিনিয়োগ করতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিনিয়োগের অপর্যাপ্ততা দূর করতে হবে। ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রিতে ওষুধ উৎপাদনকারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী পর্যন্ত যে মনোপলি বিজনেস এবং সিন্ডিকেট হয় এটি বন্ধ করতে হবে। এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই ওষুধের সহজলভ্যতা ও প্রকৃত মূল্য নিশ্চিত করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.