logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়নের পথে বাধা দূর করুন

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এখনও বিঘি্নত হচ্ছে। মূলত ভূমি প্রশাসনের একশ্রেণীর কর্মকর্তার কারণে অর্পিত সম্পত্তি যথাযথভাবে প্রত্যর্পণ করা যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট আইনের একটি অনুশাসনের বলে ভূমি প্রশাসন অর্পিত-সম্পত্তি প্রত্যর্পণে বাদ সাধছে। বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষে রিট করা যেতে পারে। এ কারণে দেখা যাচ্ছে, ট্রাইব্যুনালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের পক্ষে রায় দেয়া হলেও ভূমি প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের সম্পত্তি বুঝিয়ে দিচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, ভূমি প্রশাসনের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে সম্পত্তি প্রত্যর্পণে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। গত বুধবার এ নিয়ে রাজধানীতে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণের বিষয়টির সুরাহা করা যাচ্ছে না। অনেক জল ঘোলা করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন করা হলেও অবস্থার উত্তরণ ঘটেনি। প্রত্যর্পণ মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার হার নগণ্য। যে কয়েকটি মামলা ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়েছে তার বেশিরভাগই আইনি প্যাঁচে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। আইনি প্যাঁচ কষছে মূলত স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণে ট্রাইব্যুনালে রায় পেয়েও সম্পত্তি বুঝে পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি দেখার কেউ আছে বলে মনে হয় না। জেলায় জেলায় মনিটরিং সেল থাকলে আইন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতো না বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একমত পোষণ করছি।

আমরা চাই, সরকার দ্রুততার সঙ্গে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে জেলায় জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করুক। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ভুক্তভোগীরা যেন দ্রুত সম্পত্তি ফিরে পায় সেটা দেখভাল করবে এই সেল। স্থানীয় প্রশাসন যেন সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় কোন দুর্নীতি বা অসহযোগিতা না করে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ভূমি প্রশাসন বা জেলা প্রশাসনের যেসব কর্মকর্তা এ নিয়ে দুর্নীতি করছেন বা অসহযোগিতা করছেন চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে তাদের অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার চাইলে আপিল করতে পারে বলে যে অনুশাসন রাখা হয়েছে তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ধরনের অনুশাসন রাখার আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা সেটা সরকারকে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। আমরা মনে করি, যেহেতু এই অনুশাসনের অপব্যবহার হচ্ছে সেহেতু এটাকে উঠিয়ে দেয়াই শ্রেয়। তারপরও যদি এ ধরনের অনুশাসন রাখতেই হয় তাহলে এটা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে যে, স্থানীয় প্রশাসন এই অনুশাসনের অপব্যবহার করবে না। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ নিয়ে অনেক কালক্ষেপণ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা যথেষ্ট ভোগান্তি সয়েছেন। তাদের ভোগান্তি নিরসনে যা যা করণীয় তা করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি সুস্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশনা দিলে অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close