logo

orangebd logo
সরিষাবাড়ীর মৃৎশিল্পীরা মানবেতর জীবনে
নানা সংকটে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেকে
আব্দুল মজিদ, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)

সরিষাবাড়ী উপজেলার ৫নং পিংনা ইউপির কাওয়ামারা গ্রামের মৃৎ শিল্গের চাহিদা দিন দিন কমে আসায় প্রায় একশ কারিগর পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। অভাব অনাটন যেন তাদের নিত্য সঙ্গী। বর্তমানে মৃৎ শিল্পের কদর কমে যাওয়ায় অনেকেই বাপ দাদার পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। দিন দিন এ পেশা ছেড়ে অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা গ্রামে মৃৎ শিল্পের চাহিদা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করছে মৃৎ শিল্পীর কারিগররা। কাওয়ামারা উত্তরপাড়ার বিমল, সুভাস, জয়দেব, জানান মৃৎ শিল্পের কদর কমে যাওয়ায় এ গ্রামের প্রায় একশ পরিবার পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। পূর্ব পাড়ার বিরেন পাল বলেন, মাটির হাঁড়ি পাতিল আগের মতো চাহিদা নেই। এখন অল্প হাড়ি পাতিলের কাজসহ মাটি দিয়ে ছেলে মেয়েদের খেলনার জন্য নানা রকমের হাতি, ঘোড়া, পুতুল, বাঘ, পাখি, হরিণ, ফুল, ফুলের টব ও ফলমূল তৈরী করি। মাটির তৈরি বাসন-কোষণ ও খেলনা পড়াতে হয়। তাছাড়া কাঠ কয়লার দাম বেশি। অত্যন্ত কষ্টে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে জীবিকা অর্জন করতে হচ্ছে। ছেলে মেয়েদের কাপড় চোপড় ও লেখাপড়ার খরচ চালাতে পারিনা। দক্ষিণ পাড়ার সাধন জানান, মাটির কাজে চাহিদা না থাকায় আমি বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে স্বর্ণের পেশায় নিয়োজিত আছি।রাম প্রসাদ পাল, খুশিপাল, চিনি প্রসাদপাল বলেন, মৃৎ শিল্পের জন্য এটেল মাটি প্রয়োজন। এ জন্য তাদের পৌষ-মাঘ মাসে মাটি সংগ্রহ করে রাখতে হয়। মাটি অন্যের জমি থেকে কিনে আনতে হয়। প্রতি হাজার মাটির দাম ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৩শ টাকা। এই মাটি গর্তে ফেলে পানি দিয়ে নরম করে ছেনে কাঠের তৈরি চাকার উপর বসিয়ে একটা বাঁশের লাঠির সাহায্যে ঘুরিয়ে নিপুন হাতে তৈরি করতে হয় হাড়ি, পাতিল ও বিভিন্ন রকমের খেলনা। এগুলো আবার আগুনে পুরতে হয়।মাঝ পাড়ার মালতি পাল বলেন, অন্যের জমি থেকে মাটি এনে কাজ করি তাই তাদের অর্ধেক দিয়ে দিতে হয়। চায়না রানী পাল জানান, আমার লোকসংখ্যা আটজন। এই মাটির কাজ করে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। মনে হয় আর পারব না। বছরের ছয় মাস মাটির বাসন কৌশন তৈরি করে চলি। আমি তৈরি করি আর স্বামী গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করে। শ্যামলী রানী পাল জানান, বয়সের ভারে আগের মত কাজ করতে পারিনা। খুব অভাবে আছি। দিনে একবেলা খাই বাকি দুবেলা অর্ধাহারে কাটাই। কোন কোন দিন উপোস করে থাকতে হয়। পূর্ব পাড়ার নুরুল ইসলাম জানান, পালপাড়ার কারিগরদের পেশা অনেকেই ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। সরকারি সাহায্য ও পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি প্রয়োজন। মুক্তিযোদ্ধা নিতাইচন্দ্র পাল জানান, মাটির কাজ আমি ছেড়ে দিয়েছি। হোমিও চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত আছি। সরকার যদি আমাদের জন্য ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করত, তাহলে অনেক উপকার হতো। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম জানান, বর্ষাকালে মাটি পাওয়া যায় না বৃষ্টির জন্য কাজও করতে পারে না। এই সময়ে তাদের খুব কষ্ট। মৃৎ শিল্পকে বাঁচাতে চাইলে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি মহলের সুদৃষ্টি একান্ত কাম্য।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close