logo

orangebd logo
গচিহাটা পল্লী একাডেমি সর. প্রা. বিদ্যালয়
সভাপতির বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন আত্মসাতের অভিযোগ
কটিয়াদী
প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১১৫ নং গচিহাটা পল্লী একাডেমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ চার শিক্ষককে প্রায় দুই মাস ধরে স্কুলে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। চার শিক্ষকের অভিযোগ, স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির নির্দেশে বেতনের টাকা স্কুলের যৌথ হিসাব নম্বরে জমা দিতে হবে। নির্দেশ অমান্য করায় সভাপতি আখতারুজ্জামান রঞ্জন প্রথমে চারজনের মধ্যে তিন শিক্ষককে বিধিবহির্ভূতভাবে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করেন। এরপর থেকে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী) আসনের বিএনপি সমর্থিত সাবেক সাংসদ। সভাপতির রোষানলে পড়া শিক্ষকরা হলেন, প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বেগম, সহকারি শিক্ষক আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান ও সাবিনা আক্তার।

শিক্ষক ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্কুলটির অবস্থান উপজেলার ধুলদিয়া ইউনিয়নের গচিহাটা গ্রামে। প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৮ সালে। মোট শিক্ষার্থী ২৬৭ জন। আখতারুজ্জামান স্কুলটির জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। একই ক্যাম্পাসে আছে গচিহাটা পল্লী একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয়, গচিহাটা কলেজ ও কিন্ডারগার্টেন শাখা। ২০১৩ সালে প্রাথমিক স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয়। তার আগে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হতো। সরকারি বেতন পাবার আগে সর্বশেষ প্রধান শিক্ষককে বেতন দেওয়া হতো চারহাজার সাতশ টাকা। সহকারী শিক্ষকরা পেতেন চার হাজার দুইশত টাকা।

২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাদের সরকারি বেতন নিয়মিত হয়। এর আগে তারা বকেয়া বেতন হিসাবে ৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা প্রাপ্য হন। ওই টাকার কথা জেনে সভাপতি চার শিক্ষককে ডেকে এনে সমুদয় টাকা যৌথ হিসাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি সোনালী ব্যাংক কটিয়াদী শাখা থেকে টাকা তুলে তারা একই দিন ন্যাশানাল ব্যাংক গচিহাটা শাখায় যৌথ হিসাবে জমা দেন। হিসাবটি প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়। টাকা জমা দেওয়ার পর সভাপতির চাপে প্রধান শিক্ষক কয়েকটি চেকে ওই পরিমাণ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে সভাপতিকে দেন। এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে সভাপতি আবার চার শিক্ষককে ডেকে তাদের বেতন যৌথ হিসেবে জমা দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু এবার চার শিক্ষকের কেউ সভাপতির সিদ্ধান্ত মতো টাকা জমা দেননি। রমজান মাসের বন্ধের সরকারি তারিখ ছিল ২৭ মে থেকে ২৯ জুলাই। ওই ঘটনার সূত্র ধরে সভাপতির নির্দেশে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয় ছয়দিন আগে ২২ মে। ১ জুলাই থেকে ফের স্কুল খোলা হয়। বন্ধের দিন জানিয়ে দেয়া হয় চারজনের মধ্যে সাবিনা আক্তার ছাড়া তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর থেকে তারা যেন স্কুলে না আসে সে নির্দেশনাও দিয়ে দেওয়া হয়। কিছুদিন আগে ব্যবস্থাপনা কমিটি দ্বারা তিন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দেয়া হয়। বহিষ্কারের তারিখ উল্লেখ করা হয় ১৬ জুলাই। স্বাক্ষর করেন সভাপতি। বহিষ্কারের বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়। এরমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও স্কুলে না আসা উল্লেখযোগ্য।

শিক্ষকদের বহিষ্কারের পর মাধ্যমিক শাখার প্রধান শিক্ষক জাকিয়া বেগমকে প্রাথমিক শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে রিমা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস, শিখা আক্তার নামে তিনজন খ-কালীন শিক্ষক দিয়ে। মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকদের দিয়েও প্রাথমিকের পাঠদান দেওয়া হচ্ছে। সূত্র জানায়, সভাপতির চাওয়া হলো সরকারি বেতন তারা যৌথ হিসেবে জমা দিবেন। তারা স্কুল থেকে আগে যত টাকা পেতেন, তারচেয়ে কিছু বাড়িয়ে দেয়া হবে।

এদিকে অভিভাবকদের অভিযোগ, চার শিক্ষক স্কুল ছাড়া হবার পর স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক শাখার শিক্ষকরা তাদের অপরিচিত হওয়ায় মানিয়ে নিতে পারছে না। প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বেগম বলেন, সভাপতির নির্দেশ পেয়ে বকেয়া বেতন হিসেবে প্রাপ্য ৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সভাপতির হাতে তুলে দিয়েছি। এখন আমাদের অপরাধ আমরা কেন নিয়মিত বেতনের টাকা যৌথ হিসাব নম্বরে জমা দিতে অস্বীস্কৃতি জানালাম।

তিনি বলেন, আমাকে বহিষ্কারের ১৭টি কারণ উল্লেখ করা হয়। যার একটিও সত্য নয়। পৃথকভাবে একই মন্তব্য করেন সহকারী শিক্ষক আসাদ মিয়া, আতাউর রহমান ও সাবিনা আক্তার। শিক্ষকদের অভিযোগ তারা একাধিকবার স্কুলে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দারোয়ান ও নৈশপ্রহরী দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানিয়ে ২৮ জুন তারা কটিয়াদী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। একই তারিখে পুরো বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়। মাধ্যমিক শাখার প্রধান শিক্ষক হয়ে কেন প্রাথমিক শাখার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে- জানতে চাইলে জাকিয়া বেগম প্রথমে মুখ খুলতে রাজি হননি। পরে জানান, বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সভাপতির নির্দেশে তিনি বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ব্যবস্থাপনা কমিটি স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে পারে কিনা-এমন প্রশ্নে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাইজুদ্দিন আকন্দ বলেন, কোনোভাবেই পারেন না। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পর্যায়ে মাসিক সভায় তোলা করা হয়েছে। আমি নিজে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে অচলাবস্থা দেখে এসেছি। সভাপতির এমন আচরণের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির সমাধানের উপায় খোঁজা হচ্ছে। অভিযোগ বিষয়ে সভাপতি আখতারুজ্জামান বলেন, ৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া বেতন যৌথ হিসাব নম্বরে জমা দেয়ার বিষয়ে আমার কোনো নির্দেশনা ছিল না।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close