logo

orangebd logo
উলিপুরে এলজিএসপি প্রকল্পের নামে সীমাহীন হরিলুট
প্রতিনিধি, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)

উলিপুর উপজেলায় দুটি ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ প্রকল্প এলজিএসপি'র ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বরাদ্দকৃত টাকার বেশির ভাগই আত্মসাৎ করেছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা। দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া এক চেয়ারম্যান সদস্যদের অন্ধকারে রেখে ১০ মাস আগে উত্তোলিত অর্থের বিপরীতে কিছু কিছু প্রকল্প শুধু কাগজ কলমে দেখিয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগ পকেটস্থ করেন। যে সব প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান রয়েছে সে সব প্রকল্পে বরাদ্দের মাত্র ২০ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এ অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি নিরীক্ষনে এসে চার্টার্ড ফার্মের একটি দল দুর্নীতির ভাগ নিয়ে সমস্ত ভাউচার হালাল করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসে দাখিলকৃত প্রকল্পের সূত্র ধরে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়।

উপজেলার বজরা ইউনিয়নে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খামার বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনসেড চাল নির্মাণ ও জানালা সংস্কার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল হক জানান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সংস্কারের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়েই তিনি এ কাজ সম্পন্ন করেছেন। একই বিদ্যালয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের মধ্যে ২ হাজার ইট দিয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করা হয়েছে স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান। ১ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে পশ্চিম বজরা দাখিল মাদ্রাসা গৃহের টিনসেড বেড়া, মেঝে পাকাকরন ও বারান্দা নির্মানের কথা, সেখানে তা না করে প্রতিষ্ঠান প্রধান রেফাকাত হোসেনের হাতে ২ বান্ডিল ঢেউটিন তিনি। সংবাদিকদের লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা ডিগ্রি কলেজ, বজরা এলকে আমিন উচ্চ বিদ্যালয় ও বজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৈদ্যুাতিক ফ্যান ও বাতি সরবরাহ করন দেখানো হলেও সেখানে কোন মালামাল সরবরাহ করা হয়নি। এছাড়া এলজিএসপির বিগত অর্থ বছরে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৮১ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা এলকে আমিন ডিগ্রি কলেজের গৃহ নির্মাণ করার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মচারী ও স্থানীয় মানুষজনের মাঝে গুঞ্জন রয়েছে, কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ডোনেশনের টাকায় পুরাতন টিনসেড ঘরের টিন দিয়ে আধাপাকা ভবন নির্মাণ করে এলজিএসপির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। একই মাঠে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ৩টির পরিচালনা কমিটির সভাপতি চেয়ারম্যান নিজেই হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলার সাহস পাচ্ছে না। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বজরা হাটের ড্রেন নির্মাণে নতুন ২ হাজার ইট কিনে পুরাতন ড্রেনের ইট ব্যবহার করে ড্রেন নির্মান করা হয়েছে। ১ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে বিরহিম চরে ৫শ ইট দিয়ে ইউড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। শুধু ১৫-১৬ অর্থবছরেই নয় বিগত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দে খামার বজরা মৌজায় মোকছেদের বাড়ির সামনে ও ঝাকুয়াপাড়া আলতাবের বাড়ির সামনে যাত্রী ছাউনি, ৩২ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দে পুরাতন বজরা বাজারে যাত্রী ছাউনি এবং ৪২ হাজার টাকা বরাদ্দে বিরহিম নয়ারহাটে যাত্রী ছাউনি দেখানো হলেও বাস্তবে এ সব প্রকল্পের অস্তিত্ব নাই।

অন্যদিকে হাতিয়া ইউনিয়নে ৪ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে অনন্তপুর বাজারে আরসিসি রাস্তা বর্ধিতকরণের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ৯৬ হাজার ৫৫৪ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে হাতিয়া বালিকা বিদ্যালয়ে শ্রেণীকক্ষ সংস্কার কাজের নামে সমুদয় টাকা পকেটস্থ করেন ইউপির চেয়ারম্যান আবুল হোসেন নিজেই। এছাড়াও এলজিএসপি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ঐ বিদ্যালয়ে আসবাবপত্র সরবরাহের নামে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখিয়ে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে গুঞ্জন রয়েছে। ২ লাখ টাকা বরাদ্দে অনন্তপুর বাঁধের রাস্তা হতে নদীরপাড়গামী রাস্তায় বাহের আলীর বাড়ির নিকট ইউড্রেন নির্মাণ করন দেখানো হলেও সেখানে কোন ইউড্রেন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া পিবিজি প্রকল্পের ৫ লাখ টাকা দিয়ে বাগুয়া অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়, বাগুয়া অনন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নীলকণ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিয়াজী পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেঞ্চ সরবরাহ দেখানো হলেও সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৫জোড়া করে ও অনন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ জোড়া বেঞ্চ সরকবরাহ করা হয়েছে বলে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগন জানান। হাতিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কত জোড়া বেঞ্চ সরবরাহ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন শিক্ষক বলতে রাজি হননি। ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দে হাতিয়া ভবেশ বাজারে হাটসেড নির্মাণ দেখানো হলেও এখানে কোন হাটসেড নির্মাণ করা হয়নি। এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পগুলোর একই চিত্র। নিবিড়ভাবে সরেজমিন তদন্ত করলে লাগামহীন দুর্র্নীতির স্বরুপ উদঘাটিত হবে বলে স্থানীয়রা মানুষের দাবি।

অভিযোগের ব্যাপারে বজরা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, বেসরকারি অডিট টিম তার কাজে সন্তোষ্ট। হাতিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন বলেন তার কাজ দুর্নীতি দমন কমিশনের লোক ৪ বার তদন্ত করেও কোন দুর্নীতি পায়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান এ সব দুর্নীতির ব্যাপারে তার জানা নেই, কোন ফাইন্ডিংস থাকলে তাকে জানালে তিনি ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান। এলজিএসপি প্রকল্প মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকা জেলা ফ্যাসিলেটর ফারুক আহমেদ এর সাথে কথা হলে তিনি জানান অডিট টিম কি কি আপত্তি দেন সেটি জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শুধু ঐ ২ ইউনিয়নেই নয়, দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আরও বেশ কটি ইউনিয়নে কাজ বাস্তবায়ন না হওয়ার তথ্য আছে বলে তিনি জানান।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close