logo

orangebd logo
চীনে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে : লি গুয়াংজুন
অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশ নিযুক্ত চীন দূতাবাসের ইকোনোমিক ও কমার্শিয়াল কাউন্সিল লি গুয়াংজুন বলেছেন, ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে চীন পৃথিবীর বৃহত্তম বাজার। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ই-কমার্সের মাধ্যমে চীনের বাজারে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করতে পারে। তিনি জানান, চীন সরকার এলডিসিভুক্ত দেশগুলো হতে চীনের বাজারে পণ্য রপ্তানির বিষয়টিকে উৎসাহিত করে থাকে এবং এ জন্য চীনে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে। গতকাল ঢাকা চেম্বারে এক কর্মশালা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি) যৌথভাবে 'ই-কমার্সের মাধ্যমে চীনে রপ্তানি বৃদ্ধি' বিষয়ক দুদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে। গতকাল ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান প্রশিক্ষণ কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন। লি গুয়াংজুন প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দুদিন এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

ডিসিসিআই সভাপতি আবুল কাসেম খান প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের এসএমই উদ্যোক্তাদের চীনের বাজারে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাকে আরও বেগবান করার জন্য চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। তিনি জানান, গত ৫ বছরে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় ১০০ শতাংশ। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এ সময়ে ই-কমার্সের মাধ্যমে বিশেষ করে জুয়েলারি, কাঠ ও মাটির তৈরি তৈজসপত্র, চিত্রকর্ম, ফ্যাশন বিষয়ক পণ্যসামগ্রী প্রভৃতি বাজারজাতকরণের সুযোগ রয়েছে এবং বাংলাদেশের উদ্যোমী এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের এ সুযোগ গ্রহণ করে পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তিনি চীনের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহে আরও বেশি হারে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

লি জুয়াংজুন বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং প্রতিবছর চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রধানত টেঙ্টাইল, তৈরি পোশাক, সী-ফুড, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে এবং বাংলাদেশকে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ "এশিয়া-প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আপটা)"-এর আওতায় চীনে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করে থাকে। তবে চীন সরকার এলডিসিভুক্ত দেশগুলোতে হতে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্প্রতি "ডিউটি ফ্রি-ট্যারিফ ফ্রি এগ্রিমেন্ট" নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং এলডিসিভুক্ত ৩৫টি দেশ তাদের পণ্য চীনে রপ্তানির ক্ষেত্রে এ চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে থাকে, যদিও বাংলাদেশ এখনও এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। তিনি বলেন, চীনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে আরও বেশি হারে বিনিয়োগে আগ্রহী।

ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টার (আইটিসি)'র প্রশিক্ষক মোহাম্মদ ইস ফিহ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তিনি বলেন, চীনের বাজারে পণ্য রপ্তানির বিষয়টি খুবই প্রতিযোগিতামূলক এবং এক্ষেত্রে ই-কমার্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ডিসিসিআই'র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম, এফসিএ, সহ-সভাপতি হোসেন এ সিকদার, প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ এবং প্রাক্তন পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ডিসিসিআই'র মহাসচিব এএইচএম রেজাউল কবির সঞ্চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close