logo

orangebd logo
নওয়াজ শরিফের বিদায়
কোন দিকে মোড় নেবে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক
সংবাদদ ডেস্ক

পানামা পেপার্স কেলেঙ্কারি মামলায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে 'অযোগ্য' ঘোষণা করেছে দেশটির শীর্ষ আদালত। এতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এলেও, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে কোন হেরফের হবে না বলে মনে করছে দিলি্লর কূটনৈতিক মহল।

গত শুক্রবার আর্থিক কেলেঙ্কারি মামলায় পাকিস্তানের শীর্ষ আদালতের রায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদ খুইয়েছেন নওয়াজ শরিফ। এ নিয়ে তিন-তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েও মেয়াদ ফুরাবার আগেই তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হলো। বর্তমান রায়ে শাস্তি ঘোষিত হয়নি। এমনকি শাস্তি কী হবে-তা নিয়েও যথেষ্ট অস্পষ্টতা রয়েছে। এ পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটলে বোঝা যাবে নওয়াজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে। তবে পোড় খাওয়া রাজনীতিক নওয়াজ অতীতে তিনবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। আবারও বসেছেন প্রধানমন্ত্রীপদে। তাই এবার তিনি কী করেন, সেটাই এখন দেখার। তবে পাকিস্তানের এ রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেনি মোদি সরকার। জানায়নি কোন সরকারি প্রতিক্রিয়া। শুধুমাত্র পাকিস্তানের পরিস্থিতির দিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে চলছে নয়াদিলি্ল। তবে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আপাতত দিলি্ল-ইসলামাবাদ সম্পর্কে কোন পরিবর্তন হবে না বলে প্রত্যাশা করছে দিলি্লর কূটনৈতিক মহল।

এ প্রসঙ্গে পাকিস্তান-বিশেষজ্ঞ ভারতীয় সাংবাদিক ইন্দ্রানী বাগচি জানান, পাকিস্তানে যে সংকট চলছে, তাতে দু'দেশের সম্পর্কে খুব যে বেশি প্রভাব পড়বে তা মনে করি না। প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের ভারত-নীতি নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক নেতৃত্ব সেখানে গৌণ। তাই এর পরোক্ষ প্রভাব দেখব দুটি জায়গায়। আগামী নির্বাচন, অর্থাৎ আগামী বছরের মাঝামাঝি পাকিস্তানে যে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। সেটা যদি পিছিয়ে যায়। তাহলে সেনাশক্তি বেড়ে যাবে। সেটা এক রকমের নেতিবাচক প্রভাব। অতীত ইতিহাস বলছে, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ বেড়ে গেলে সন্ত্রাসী তৎপরতাও বেড়ে যায়। সেনাবাহিনী তখন বোঝাতে চেষ্টা করে, দ্যাখো, ভারত কীভাবে পাকিস্তানের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। একটা মেকি জাতীয়তাবাদ জাগাবার চেষ্টা করতে পারে তারা। এছাড়া তেমন কোন প্রভাব পড়বে না বলে আমার মনে হয় বলে জানালেন ইন্দ্রানী বাগচি।

তবে দেশটির গণতন্ত্র আন্দোলনকারীদের মতে, নওয়াজের বিরুদ্ধে সবর্োচ্চ আদালতের এ রায় রাজনৈতিক অভিসন্ধি প্রসূত ও পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ধারার পক্ষে হানিকর? কিন্তু তিনি যেহেতু সংসদ সদস্য নন, তাই ভোটে জিতে প্রধানমন্ত্রী পদে না আসা পর্যন্ত কিছু দিনের জন্য অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নওয়াজের অতি কাছের মানুষ ও দেশটির সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী শাহিদ আব্বাসি। তবে নওয়াজ পাঞ্জাবের ক্ষমতা ছাড়লে তার জায়গায় কে আসবেন, তাই নিয়ে রয়েছে বিস্তর হিসেব-নিকেশ। সেখানেও এমন একজনকে বসাতে হবে যিনি নওয়াজের পরিবারতন্ত্রকে নিরাপদ রাখতে পারবেন। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রার্থী শাহবাজ শরিফের ছেলে হামজা শাহবাজ।

প্রকৃত অর্থে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী যিনিই হন না কেন, শেষপর্যন্ত সেনা এবং আইএসআইয়ের হাত ধরেই তাকে চলতে হয়। নওয়াজ শরিফ যখন প্রধানমন্ত্রী হন, ভারতের সঙ্গে একটা ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। দুই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত রসায়নে দিলি্লর মনে কিছুটা আশা জেগেছিল। নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিলি্ল যান তিনি। এদিকে নওয়াজের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে অনির্ধারিত সফরে মোদি ছুটে গিয়েছিলেন লাহোরে। কিন্তু সেইসব শুভেচ্ছার বাস্তব প্রতিফলন হয়নি? উল্টো পাঠানকোট ও উরিতে হয়েছিল জঙ্গি হামলা। মোট কথা, এখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক তলানিতে? পারস্পরিক যোগাযোগ নেই বললেই চলে। এটাই আপাতত চলবে, এমনটাই মনে করছে দিলি্লর কেন্দ্রীয় সরকার।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close