logo

orangebd logo
এবার নমনীয় কৌশল
উ. কোরিয়াকে সংলাপের আহ্বান টিলারসনের
সংবাদ ডেস্ক

উত্তর কোরিয়াকে থামাতে যুদ্ধের বিষয়টি বিবেচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কৌশল হিসেবে দেশটির প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাবও প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন বা দুই কোরিয়ার একত্রীকরণের কোন উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেঙ্ টিলারসন। বিবিসি জানিয়েছে, কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেঙ্ টিলারসন। কদিন আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেখানে যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সেখানে টিলারসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে শত্রুতা নাকচ করে দেশটিকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র সরকার উত্তর কোরিয়ার শত্রু নয় বলে আশ্বস্ত করে গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংকালে টিলারসন এসব মন্তব্য করেন।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তর্জনগর্জন করে চললেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেঙ্ টিলারসন কূটনৈতিক পথেই বিভিন্ন সংকট সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন? উত্তর কোরিয়া নিরস্ত্রীকরণের পথ বেছে নিলে ওয়াশিংটন সরাসরি দেশটির সঙ্গে সংলাপ শুরু করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রতিরোধ করতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র ভা-ারের প্রয়োজন নেই? মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশটি হুমকি হয়ে উঠলে আমেরিকাকে বাধ্য হয়ে তার জবাব দিতে হবে।গতকাল রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচিকে ঘিরে ওই অঞ্চলে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে টিলারসন বলেন, 'আমরা আপনাদের শাসন ব্যবস্থায় কোন পরিবর্তন আনার চিন্তা করছি না। আমরা সরকারের পতনও চাইছি না, কোরীয় উপদ্বীপের পুনঃএকত্রীকরণের বিষয়েও কিছু বলছি না। এমনকি যেকোন অজুহাতে ৩৮ প্যারালালের (দুই কোরিয়ার সীমান্ত) উত্তর দিকে আমাদের সামরিক বাহিনীও পাঠাতে চাইছি না।' এ সময় পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি উদার হয়ে তিনি বিলেন, 'আমরা উত্তর কোরিয়ার শত্রু নই। আমরা আপনাদের জন্য কোন হুমকিও নই, কিন্তু আপনারা আমাদের অনবরত হুমকি দিচ্ছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়।' পিয়ংইয়ং দাবি করেছে, তাদের সর্বশেষ পরীক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলসহ দেশটির আরও ভিতর দিকে আঘাত হানতে সক্ষম। এ পরিস্থিতিতে টিলারসন জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার মনোভাব পরিবর্তনে শান্তিপূর্ণ এ কৌশল বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও কঠোর করা হবে।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার মধ্যে আনার প্রচেষ্টায় উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে দু'দেশের মধ্যে যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে বলেছেন বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান দলীয় জ্যেষ্ঠ সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। এনবিসি টেলিভিশনের এক টকশোতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথোপকথনের কথা জানিয়ে গ্রাহাম বলেছেন, 'তিনি আমাকে একথা বলেছেন। আমি তাকে বিশ্বাস করি।'(উত্তর কোরিয়াকে) থামাতে যুদ্ধ শুরু হলে, তা ওইখানেই হবে। যদি হাজার হাজার মানুষ মরে, তারা সেখানেই মরবে। তারা এখানে মরবে না। তিনি (ট্রাম্প) আমার মুখের সামনে একথা বলেছেন।'পিয়ংইয়ংকে মোকাবিলায় সামরিক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের : উত্তর কোরিয়াকে শান্ত করতে এদিকে 'আমরা আপনাদের শত্রু নই' বলে শান্তির বার্তা পাঠাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যদিকে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে সামরিক প্রস্তুতিও শুরু করেছে তার দেশ? যুক্তরাষ্ট্র ইতোধ্যেই দূর পাল্লার আইসিবিএম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ বিমান ঘাঁটিতে বুধবার (গতকাল) এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। সাধারণত অনেক আগেই এমন পরীক্ষার কথা ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে অতি দ্রুত এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। উত্তর কোরিয়ার সামপ্রতিক দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মূলভূখ-ে আঘাত হানার পিয়ংইয়ংয়ের সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ গভীর হয়ে উঠেছে। এর আগে দেশটির এ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী ভূমি থেকে ভূমিতে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মহড়া চালিয়েছে। এ ধরনের কোন হামলা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাবও দৃঢ় হয়ে উঠছে। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে সিনেটর গ্রাহামের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে পেন্টাগনও সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখছে। তবে তারা জানিয়েছে, এ ধরনের যুদ্ধ সর্বনাশা হয়ে উঠতে পারে। পিয়ংইয়ং সর্বশেষ আন্ত:মহাদেশী ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা সফল হয়েছে দাবি করে বলে যে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরো ভূখ-ই উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র আওতার মধ্যে রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে পেন্টাগন সামরিক সক্ষমতাও বাড়িয়েছে। একইসাথে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে সংঘর্ষ হলে ব্যাপক বিপর্যয় হবে। টিলারসন ওই একই কথার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বলছেন,সরকার পরিবর্তন নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে আলোচনা। রয়টার্স, বিবিসি।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close