logo

orangebd logo
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন
সংবাদ ডেস্ক

ইরানের ১২তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ৬৩ হাজার ৫০০ ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, বিকাল ৬টা পর্যন্ত চলে। তবে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ করা না গেলে প্রয়োজনে সময় বাড়ানো হবে। দেশটির অষ্টমতম প্রেসিডেন্টকে নির্বাচন করতে একদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তার ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সৈয়দ ইব্রাহিম রাইসি।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তিনি এ নির্বাচনকে 'গুরুত্বপূর্ণ' আখ্যায়িত করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ ইরানি নাগরিকদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্বের ১০২টি দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ইরানি নাগরিকরাও তাদের প্রেসিডেন্টকে বেছে নেয়ার জন্য ভোট দিচ্ছেন। ওইসব দেশে ভোটগ্রহণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ৩১০টি কেন্দ্র। এদিকে গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি দেশটির পঞ্চম সিটি কাউন্সিল ও স্থানীয় পরিষদ নির্বাচনেরও ভোটগ্রহণ চলে। সকাল ৮টা থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের বিপুল উপস্থিত দেখা যায়। তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টোধিকার প্রয়োগ করেন।

এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট টোর সংখ্যা ৫ কোটি ৬৪ লাখ ১০ হাজার ২৩৪ জন। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন ১৩ লাখ ৫০ হাজার ২৯৪ জন। দেশটির নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোন প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট নেয়া হবে। ইরানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার অংশ নেবেন বলে একটি জনমত জরিপের ফলাফলে জানা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সমপ্রচার মাধ্যম আইআরআইবির রিসার্চ সেন্টার ওই জনমত জরিপ চালিয়েছে।

রাজনৈতিক কাঠামো : ইরানের জটিল রাজনৈতিক কাঠামোয় একাধিক ক্ষমতাকেন্দ্র রয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হাতেই ক্ষমতার মূল রাশ রয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী রেভুলশনারি গার্ড বাহিনীসহ একাধিক ক্ষমতা তারই হাতে। অন্যদিকে মজলিস দেশটির সংসদের রয়েছে সীমিত ক্ষমতা। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য সীমিত ক্ষমতা অবশিষ্ট থাকে। তা সত্ত্বেও এ পদেরও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এবারের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশাল সংখ্যায় ভোট দেবার আহ্বান জানিয়েছেন খামেনি।

নির্বাচনে প্রার্থীরা : এবারের নির্বাচনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও ইরানের বিচার বিভাগের সাবেক উপ-প্রধান সৈয়দ ইব্রাহিম রাইসি, ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য মোস্তফা আগা মিরসালিম এবং সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মোস্তফা হাশেমি তাবা। এ নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থী অংশ নিলেও তেহরানের মেয়র বাকের কলিবফ রক্ষণশীল প্রার্থী ইব্রাহিম রাইসিকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন বর্তমান সরকারের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি। এ দুজন প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সংস্কারপন্থি প্রার্থী হাসান রুহানি এবং ইমাম রেজা (আ) এর মাজারের তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম রাইসির মধ্যে।

দুই মূল প্রতিদ্বন্দ্বি : ৬৮ বছর বয়সী বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যিনি প্রগতিশীল চিন্তা ও অপেক্ষাকৃত উদারপন্থি হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রায় একঘরে হয়ে থাকা দেশটিকে কিছুটা মেলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি সই করায় ইরানের ওপর অনেক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও তিনি বেশ সক্রিয় রয়েছেন।

অন্যদিকে ৫৬ বছর বয়সী ইব্রাহিম রাইসি। যিনি দেশে কট্টরপন্থি ও রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত। রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী তাকেই সমর্থন করে। রুহানির আমলে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা অনেকটা খর্ব করা হয়েছে। হারানো ক্ষমতা ফিরে পেতে রাইসিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে চাইছে তারা। পরোক্ষ স্বয়ং খামেনিই রাইসিকেই সমর্থন করেন বলে সর্বজনবিদিত। এমনকি নিজের উত্তরসূরি হিসেবেও রাইসিকেই তার পছন্দ।

প্রার্থীদের জন্য এবারের চ্যালেঞ্জ : এবারের নির্বাচনে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রুহানি ও রাইসি পরস্পরের বিরুদ্ধে এ বিষয়টিকেই মূল হাতিয়ার করার চেষ্টা করছেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া সত্ত্বেও ইরানের অর্থনীতি এখনও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না বলে রুহানিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন রাইসি। অন্যকে রুহানি ভোটারদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাইসি ক্ষমতায় এলে দেশ আবার কয়েক বছর পিছিয়ে যাবে এবং অর্থনীতির আরও ক্ষতি হবে। ১৯৮১ সাল থেকে ইরানে সব প্রেসিডেন্টই দ্বিতীয়বার পুননির্বাচিত হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রেভ্যুলুশনারি গার্ড বাহিনী ও তাদের আজ্ঞাবহ বাসিজ মিলিশিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত বিতর্কিত। ২০০৯ সালে তারা ভোট গণনার ক্ষেত্রে কারচুপি করে মাহমুদ আহমেদিনিজাদকে জিতিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এর ফলে ইরানজুড়ে প্রায় ৯ মাস ধরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ চলে। তবে পর্যবেক্ষরা এবার সেরকম অরাজকতার আশঙ্কা কম বলেই মনে করছেন। পার্স টুডে, বিবিসি, আল-জাজিরা, রয়টার্স।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close