logo

ঢাকা, শুক্রবার ৫ ফাল্গুন, ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

orangebd logo
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ব্রিটেন সফর
ট্রাম্পকে ঠেকাতে লাখো ব্রিটিশের পিটিশনে প্রধানমন্ত্রীর 'না'
সংবাদ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফর ঠেকাতে কয়েক লাখ মানুষের সই করা পিটিশন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রিটিশ সরকার এটি 'সমর্থন করে না' বলে জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের শরণার্থী পুনর্বাসন ও মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ব্রিটিশ নাগরিকদের একটি অংশ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে। রাষ্ট্রীয় সফরে তার যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ ঠেকানোর জন্য এক পিটিশনে ১৮ লাখেরও বেশি মানুষ সই করেন। এতে করে বিষয়টি নিয়ে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিতর্ক অনুষ্ঠানের পট প্রস্তুত হয়। যুক্তরাজ্যে কোনো পিটিশনে ১০ লাখের বেশি মানুষ সই করলে হাউজ অব কমন্সে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠানের কথা বিবেচনা করা হয়। তবে ওই বিতর্কে যাওয়ার পথে বিষয়টি নিয়ে কোনও একটি অবস্থান নেয়ার অধিকার ব্রিটিশ সরকারের রয়েছে। এদিকে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানায়, প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে'র কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে 'পূর্ণ সৌজন্য দেখানোতেই' বিশ্বাস করে যুক্তরাজ্য সরকার। 'দিনক্ষণ ঠিক করা এবং আয়োজন চূড়ান্ত হয়ে গেলে আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায়ই থাকব। তবে (মহামান্য রানির) সরকার এ পিটিশনে স্বাক্ষরকারীদের দৃঢ় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে এ পিটিশন ব্রিটিশ সরকার সমর্থন করে না।' '২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় যুক্তরাজ্যের মহামান্য রানি এলিজাবেথের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এ বছরের শেষদিকে লন্ডনে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে এ আমন্ত্রণ গ্রহণ করা হয়েছে। এ আমন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের গুরুত্বকে প্রতিফলিত করছে। যদিও এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সফরের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।' চলতি বছরের অগাস্ট-সেপ্টেম্বর নাগাদ রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে যেতে পারেন ট্রাম্প। তবে তার সফরকে ঘিরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও বিতর্ক হতে পারে বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যমে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের বিরোধিতা করে মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছেন হাউজ অব কমন্সের স্পিকার জন বেরকাউ।

 

নতুন সিকিউরিটি সেন্টারের উদ্বোধন রানি এলিজ্যাবেথের

ক্রমবর্ধমান সাইবার হামলা প্রতিরোধে নতুন একটি সিকিউরিটি সেন্টার চালু করেছে যুক্তরাজ্য। গত মঙ্গলবার ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি) নামের এ সাইবার হামলা প্রতিরোধ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। সাইবার হামলা থেকে যুক্তরাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে এনসিএসসি গড়ে তুলতে ব্যয় করা হয়েছে ১৯০ কোটি পাউন্ড।

এনসিএসসিকে সাইবার হামলা রোধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এনসিএসসি'র উদ্বোধনের সময় ব্রিটিশ চ্যান্সেলর ফিলিপ হ্যামন্ড বলেন, 'আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সাইবার হামলার পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এছাড়াও এসব হামলার তীব্রতা ও সূক্ষ্নতাও বাড়ছে।' এসব সাইবার হামলা ঠেকানোর জন্য ৯০ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেরই কোনও ধরনের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নেই বলেও এ সময় সতর্ক করে দেন তিনি। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা গভর্নমেন্ট কমিউনিকেশন হেডকোয়ার্টার্সের (জিসিএইচকিউ) অংশ হিসেবে চালু হওয়া এ কেন্দ্রটি বলছে, প্রতিমাসে গড়ে ৬০টি মারাত্মক সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে যুক্তরাজ্য। এদিকে এনসিএসসির প্রধান নির্বাহী সিয়ারান মার্টিন বলেন, 'আমাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য খোয়া গেছে, শত্রুপক্ষের মারাত্মক অনুপ্রবেশের শিকার হয়েছি আমরা, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোতে নজরদারিও হয়েছে। আমাদের কাজ হলো এসব সাইবার হামলাকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা।'

ব্রিটিশ সরকারি সংস্থা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে পরিচালনা করা উচ্চ পর্যায়ের সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষিত থাকা ও এগুলোর জবাব দেয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি ও বৃহত্তর সামাজিক অবস্থানকে সুরক্ষা দেয়ার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করবে এনসিএসসি। কেন্দ্রটির কারিগরি পরিচালক ইয়ান লেভি বলছেন, 'জাতীয় পর্যায়ে শিল্প খাতগুলো যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আমরা দেখতে চাই, এর সবগুলোর জন্যই সরকার গিনিপিগ হিসেবে' কাজ করবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাইবার হামলার মাধ্যমে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে। তাই সাইবার হামলা প্রসঙ্গে রাশিয়া রয়েছে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে। সিয়ারান মার্টিন বলেন, 'সাইবার হামলা ও এসব হামলা অব্যাহত রাখা প্রসঙ্গে রাশিয়ার মনোভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে বলে আমি মনে করি। আর স্পষ্টতই এটা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।'

সাইবার হামলা প্রতিরোধে নতুন এ কেন্দ্রটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে স্বেচ্ছায় কাজ করবে এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যসহ উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার বিষয়েও পরামর্শ দেবে।

বিভিন্ন দেশের যেসব কম্পিউটার সাইবার হামলার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই সেসব কম্পিউটারকে চিহ্নিত করতে শুরু করেছে যুক্তরাজ্য। বিশেষ করে এসব কম্পিউটারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সহায়তা বা তাদের আইনের আওতায় আনার সম্ভাবনা না থাকলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দেশটি।

যুক্তরাজ্যের সাইবার সুরক্ষা এতদিন চেলটেনহ্যামে অবস্থিত জিসিএইচকিউ থেকেই তদারকি করা হতো। তবে এ প্রচেষ্টায় অতিরিক্ত গোপনীয়তার সঙ্গে চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যদের। নতুন প্রতিষ্ঠিত এনসিএসসি'র লক্ষ্য হবে সাইবার হামলা রোধের বিষয়টিতে প্রকাশ্যে কাজ করা এবং এ সেবা সবার গ্রহণের জন্য যতটা সম্ভব উন্মুক্ত রাখা। এছাড়াও, কেন্দ্রটি সরকার ও প্রতিরক্ষার মতো জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত খাত ছাড়াও আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে।

তবে এনসিএসসির মূল প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে জিসিএইচকিউ। এর অর্থ হলো, সংস্থাটির দক্ষতা ও সক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থাটি।

খবরটি পঠিত হয়েছে ১০১ বার
font
font
সর্বাধিক পঠিত
আজকের ভিউ
পুরোন সংখ্যা
Click Here
সম্পাদক - আলতামাশ কবির । ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - খন্দকার মুনীরুজ্জামান । ব্যবস্থাপনা সম্পাদক - কাশেম হুমায়ুন ।
সম্পাদক কর্তৃক দি সংবাদ লিমিটেড -এর পক্ষে ৮৭, বিজয়নগর, ঢাকা থেকে মুদ্রিত এবং প্রকাশিত।
কার্যালয় : ৩৬, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ৯৫৬৭৫৫৭, ৯৫৫৭৩৯১। কমার্শিয়াল ম্যানেজার : ৭১৭০৭৩৮
ফ্যাক্স : ৯৫৫৮৯০০ । ই-মেইল : sangbaddesk@gmail.com
Copyright thedailysangbad © 2017 Developed By : orangebd.com.
close